মো. মোশারফ হোসেন, নকলা ॥ শখের বশে খরগোশ পালন করে নকলা উপজেলার ভূরদী গ্রামের মনির, ডাকাতিয়া কান্দার মোশারফ, ইশিবপুরের আদেল ও হুমায়ুন কবির বর্ষা এবং কাশিগঞ্জের সুরুজ আলী মত অনেকেই আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছেন। খরচের তুলনায় ৮ দিক দিয়ে গড়ে লাভ হয় প্রায় ৭ গুণ। বাড়িতে খরগোশ পালন করে এখন তারা শুধু সফলই হননি, খরগোশ বিক্রির টাকায় নিজেরা স্বাবলম্বী হওয়ার পাশাপাশি অন্যদেরকেও পথ দেখাচ্ছেন। ফলে দিন দিন গৃহ পালিত এপ্রাণি পালনের আগ্রহ বেড়েছে। স্থানীয়রা জানান, খরগোশের মাংস সু-স্বাদু, পুষ্টিগুণে ভরা , আলাদা আবাসস্থল নির্মাণ করতে হয় না, পালনে শ্রম কম দিতে হয়, সবকিছুই খায় তাই আলাদা ভাবে খাবার কিনতে হয় না, রোগব্যাধী সাধারণত কম হওয়ায় ঔষধ বাবদ ব্যয় নেই, আমিষের ঘাটিত পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে এবং বাজারে যথেষ্ঠ চাহিদা থাকায় বেশ আয় হয়।
মনিরের তথ্যমতে, একজোড়া খরগোশ এক সঙ্গে ৪/৫টি করে বছরে ৪ বার বাচ্চা দেয়। একজোড়া বাচ্চার দাম ৪০০/৫০০ টাকা। ফলে ১০ জোড়া খরগোশ হতে বছরে আয় হয় ৩২ হাজার থেকে ৫০ হাজার টাকা। আর প্রাপ্ত বয়স্ক একজোড়া খরগোশের দাম পরে ৬০০ থেকে ১০০০ টাকা। সুরুজ আলী বলেন, সৌদি থেকে এসে ২০১৩ সালে শখের বসে নিজ বাসভবনে একজোড়া খরগোশ পালনের যাত্রা করেন। ইসলামী শরিয়ামতে খরগোশের মাংস খাওয়া যায় বলে তিনি নিয়মিত খেয়ে আসছেন। খুব মজাদার হওয়ায় তিনি বানিজ্যিক ভাবে পালন করতে শুরু করেন। সরজমিনে দেখা যায় তিনি প্রতিটি খাচায় একজোড়া করে খরগোশ রেখেছেন। বাচ্চা দিলে সেগুলো স্থানীয় বাজার সহ পাইকারদের কাছে বিক্রি করেন। তার দেখা দেখি উপজেলায় বিভিন্ন এলাকার সৌখিনরা চাষ শুরু করেছেন। উপজেলা প্রাণি সম্পদ সার্জন ডা. আব্দুর রহিম মিয়া জানান, খরগোশের রোগবালাই কম হয়। আর ঘাস ও গাছের পাতা বেশি খায় বলে খরচ অনেক কম হয়। পক্ষান্তরে লাভ হয় বেশি। এই বিষয়ে প্রাণি সম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. শহিদুল আলম বলেন-যে কেউ চাইলে অল্প পুঁজিতে খরগোশের খামার গড়ে তোলতে পারেন। এ জন্য প্রয়োজনীয় সব ধরনের পরামর্শ সেবা আমরা দিয়ে থাকি।




