শ্যামলবাংলা ডেস্ক : আগামী ৭ থেকে ১০ দিনের মধ্যে অকটেন, কেরোসিন, পেট্রোল ও ডিজেল দাম কমিয়ে পরিপত্র জারি করা হবে বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপু। ৬ এপ্রিল সোমবার সচিবালয়ে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, তেলের দাম ধীরে ধীরে আমরা সাশ্রয়ীভাবে দেখতে যাচ্ছি। তেলের মূল্যটাকে আমরা একটা যৌক্তিক রেটে নিয়ে যেতে চাচ্ছি। প্রথমে ‘৭ দিনের মধ্যে’ পরিপত্র দেওয়ার চেষ্টা করবেন বলে উল্লেখ করলেও পরে ‘সাত থেকে দশ দিনের মধ্যে’ তেলের দাম কমানোর ঘোষণা দেন তিনি। প্রতিমন্ত্রী বলেন, সেখানে (পরিপত্রে) অকটেন, কেরোসিন, পেট্রোল ও ডিজেল থাকবে। আমরা ইতোমধ্যে ফার্নেস অয়েলের দাম কমিয়েছি। এতে বেশ কিছু জায়গায় সাশ্রয় হচ্ছে। সে বিষয়গুলো সরাসরি আমাদের জনগণের পর্যায়ে পৌঁছছে। নসরুল হামিদ পেট্রোল ও অকটেন দেশে উৎপাদনের পাশাপাশি দাম বাড়িয়ে গ্যাস ও বিদ্যুতের মূল্য সমন্বয়ের কথা বলেন এবং ভেজাল পেট্রোল বিক্রি বন্ধে পাম্পে পাম্পে অভিযান চালানোর ঘোষণা দেন।
সর্বশেষ ২০১৩ সালে আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে মূল্য সমন্বয়ের সময় বাংলাদেশে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানো হয়েছিল। সেই হারে বর্তমানে প্রতি লিটার অকটেন ৯৯ টাকা, পেট্রোল ৯৬ টাকা, কেরোসিন ও ডিজেল ৬৮ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তখন প্রতি লিটার ফার্নেস অয়েলের দাম ৬০ টাকা স্থির হয়েছিল, যা গত ৩১ মার্চ কমিয়ে ৪২ টাকা করা হয়েছে।
বাংলাদেশে তেলভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র ও যানবাহন বৃদ্ধির কারণে গত কয়েক বছর ধরে ৫০ লাখ মেট্রিক টনের বেশি জ্বালানি তেলের চাহিদা তৈরি হয়েছে; যার মধ্যে প্রায় সবই আমদানি করতে হয়। বিশ্ব বাজারে গত দেড় বছর ধরে তেলের দরপতন চলার কারণে দেশের বাজারে সব ধরনের জ্বালানির দাম কমানোর দাবি ওঠে।
সাম্প্রতিক সময়ে ব্যবসায়ী শিল্পপতিদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআই, বিজিএমইএসহ বিভিন্ন ব্যবসায়ী সংগঠনের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত জ্বালানি তেলের দাম কমানোর পক্ষে মত দেন। তবে ভর্তুকির লোকসান থেকে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনকে তুলতে দাম অপরিবর্তিত রাখে সরকার। সরকার সে অবস্থান থেকে সরে এসে ফার্নেস অয়েলের দাম কমানোর পর গত ৪ এপ্রিল জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী ডিজেল-পেট্রোলের দামও কমানোর ইংগিত দেন।




