স্টাফ রিপোর্টার : তদন্তে ত্রুটির কারণে শেরপুরে চাঞ্চল্যকর শিশু রাহাত হত্যা মামলায় সম্পূরক চার্জশিট (অভিযোগপত্র) দাখিলের নির্দেশ দিয়েছে ট্রাইব্যুনাল। ১৩ জানুয়ারি বুধবার দুপুরে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মোঃ সায়েদুর রহমান খান ওই আদেশ দেন। অন্যদিকে একইদিন মামলায় চার্জশিটভূক্ত ৪ আসামীসহ হাজতী ৫ জনের জামিনের আবেদন নাকচ করা হয়েছে। মামলার পরবর্তী শুনানী ধার্য করা হয়েছে ২১ জানুয়ারি।
২ আগস্ট দুপুরে শেরপুর শহরের বিপ্লব-লোপা মেমোরিয়াল গার্লস স্কুলের প্রথম শ্রেণির ছাত্র আরাফাত ইসলাম রাহাতকে (৮) তার আপন খালু আব্দুল লতিফসহ কয়েকজন দুর্বৃত্ত অপহরণ করে মুক্তিপণ দাবি করে। অপহরণের ৬ দিন পর ৮ আগস্ট দুপুরে নালিতাবাড়ীর মধুটিলা ইকোপার্ক সংলগ্ন পাহাড় থেকে অপহৃত শিশু রাহাতের কঙ্কাল উদ্ধার করে পুলিশ। ওই ঘটনায় নিহত রাহাতের খালু লতিফসহ অপর তিন আসামী রবিন মিয়া, আসলাম বাবু ও ইমরান আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়। ডিএনএ টেস্টের রিপোর্ট প্রাপ্তির পর হাজতী আসামী জায়েদা ওরফে আবেদা বেগমকে (আসামী আসলাম বাবুর মা) অব্যাহতির আবেদন জানিয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৭/৮/৩০ ধারা এবং তৎসহ দঃবিঃ ৩০২/২০১/৩৪ ধারায় ২৯ নবেম্বর লতিফসহ ৪ জনের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দাখিল করে পুলিশ। পরবর্তীতে নিম্ন আদালত ১৩ ডিসেম্বর মামলাটি বিচারের জন্য ট্রাইব্যুনালে পাঠায়। বুধবার ওই মামলায় চার্জশিট গ্রহণের বিষয়সহ হাজতী ৫ জন আসামীর জামিনের বিষয়ে শুনানীকালে আদালতে প্রতিভাত হয় যে, দাখিলকৃত চার্জশিটে সংবাদদাতা বাদী ও সাক্ষীদের কোন বয়স উল্লেখ নেই। বিষয়টি তদন্ত কার্যে ত্রুটি হিসেবে বিবেচিত হওয়ায় দ্রুত সম্পূরক চার্জশিট দাখিলের জন্য শেরপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার প্রতি নির্দেশ দেওয়া হয়।
বিষয়টি নিশ্চিত করে ট্রাইব্যুনালের পিপি এডভোকেট গোলাম কিবরিয়া বুলু বলেন, শিশু আইনে কেবল আসামী নয়, সাক্ষীদের বয়সের বিষয়টিও বিবেচিত হয়। আলোচিত মামলায় ডিজিষ্ট রাহাত ব্যতীত কোন সাক্ষীই শিশু বা নাবালক নয়। তারপরও তদন্তে ওই বিষয়টি উল্লেখ না থাকায় আদালত তদন্ত কর্তৃপক্ষকে যথাযথ আদেশই দিয়েছেন।
এ ব্যাপারে শেরপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাজহারুল করিম বলেন, শিশু রাহাত হত্যা মামলায় ট্রাইব্যুনালের আদেশের বিষয়টি শুনেছি। আদেশের কপি পেলে অবশ্যই দ্রুত ব্যবস্থা নেব।




