শ্যামলবাংলা ডেস্ক : প্রথম ওয়ানডে ম্যাচে টাইগারদের ছুড়ে দেওয়া ২৭৪ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে ১২৮ রানেই গুটিয়ে গেল সফরকারী জিম্বাবুয়ের ইনিংস। এতে তিন ম্যাচ ওয়ানডে সিরিজের প্রথম ম্যাচে ১৪৫ রানে বিশাল জয় তুলে নিয়ে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল টাইগাররা। ৭ নভেম্বর শনিবার মিরপুর শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টস হেরে ব্যাট করতে নেমে ৯ উইকেটে ২৭৩ রান সংগ্রহ করে বাংলাদেশ। জবাবে ৩৬ ওভার ১ বলে ১২৮ রানে অলআউট হয়ে যায় জিম্বাবুয়ে।
সফরকারীদের বিপক্ষে একাই ৫ উইকেট তুলে নেন সাকিব আল হাসান। ওয়ানডে ক্যারিয়ারে এই প্রথমবারের মতো পাঁচ উইকেট পেয়েছেন বিশ্বের অন্যতম সেরা অলরাউন্ডার সাকিব।
এ ম্যাচে দুর্দান্ত বোলিং করেছে বাংলাদেশের সব বোলারই। অধিনায়ক মাশরাফি মাত্র ১৩ রানে নিয়েছেন ২ উইকেট। একটি করে উইকেট পেয়েছেন আল-আমিন ও নাসির হোসেন।
একই মাঠে সিরিজের দ্বিতীয় ওয়ানডে আগামী সোমবার। সিরিজের শেষ ও তৃতীয় ওয়ানডেতে হবে একই মাঠে আগামী বুধবার।
ফিল্ডিংয়ের সময় উইকেটরক্ষক ও উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান রিচমন্ড মুতুমবামি চোট পাওয়ায় চামু চিবাবার সঙ্গে ইনিংস উদ্বোধন করেন টেল এন্ডার ব্যাটসম্যান লুক জংয়ে। জয়ের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে সতর্ক সূচনা করেন এই দুই ব্যাটসম্যান। ৯ ওভারে তারা দলীয় সংগ্রহে ৪০ রান যোগ করেন। ইনিংসের দশম ওভারের প্রথম বলেই জিম্বাবুয়ের উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান চামু চিবাবাকে সাজঘরে ফিরিয়ে প্রথম আঘাত হানেন সাকিব আল হাসান। লিটন দাসের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরার আগে চিবাবা করেন ৯ রান।
এরপর ইনিংসের ত্রয়োদশ ওভারে বোলিংয়ে এসে আবারও আঘাত হানেন সাকিব। এবার তার শিকার ক্রেইগ আরভিন। ওই ওভারের প্রথম বলে নাসির হোসেনের হাতে ক্যাচ দিয়ে সাজঘরে ফেরার আগে আরভিন করেন ২ রান। ইনিংসের পঞ্চদশ ওভারে বোলিংয়ে এসে নিজের প্রথম উইকেট শিকার করেন পেসার আল-আমিন হোসেন। উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান লুক জংয়েকে উইকেটে পেছনে মুশফিকুর রহিমের ক্যাচ বানিয়ে সাজঘরে ফেরত পাঠান তিনি। জংয়ে করেন ৩৯ রান। এরপর ১৮তম ওভারে বোলিংয়ে এসে জিম্বাবুয়ের ইনিংসে আবারও আঘাত হানে সাকিব। এবার তার শিকার শ্যেন উইলিয়ামস। সরাসরি বোল্ড হয়ে সাজঘরে ফেরার আগে তিনি করেন ৮ রান। জিম্বাবুয়েকে ১৪৫ রানে হারাল টাইগাররা
ইনিংসের ২৬তম ওভারে বল করতে এসে নিজের প্রথম উইকেট শিকার করেন বাংলাদেশ অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজা। সিকান্দার রাজাকে উইকেটের পেছনে মুশফিকুর রহিমের ক্যাচ বানিয়ে সাজঘরে ফেরত পাঠান তিনি। রাজা করেন ৩ রান। রাজা ওয়ানডেতে দেশের হয়ে মাশরাফির দুইশতম শিকার।
২৮তম ওভারে বল করতে এসে আবারও আঘাত হানেন মাশরাফি। এবার তার শিকার ম্যালকম ওয়ালার। নাসির হোসেনের হাতে ক্যাচ দিয়ে সাজঘরে ফেরার আগে তিনি করেন ১ রান।
ইনিংসের ৩৪তম ও নিজের নবম ওভারে আবার আঘাত হানেন সাকিব। গ্রায়েম ক্রেমারকে এলবিডব্লিউর ফাঁদে ফেলেন তিনি। শেষ ওভারে এসে টিনাশে পানিয়াঙ্গারাকে বোল্ড করে এই প্রথম ওয়ানডেতে পাঁচ উইকেট পান সাকিব। পরের ওভারে চিগুম্বুরাকে এলবিডব্লিউর ফাঁদে ফেলেন নাসির। চিগুম্বুরা ফেরেন ৪১ রানে। উইকেটরক্ষক মুতুমবামি চোটের জন্য ব্যাটিংয়ে নামেননি।
এর আগে দুপুরে মিরপুরে শুরু হওয়া এই ম্যাচে টস জিতে বাংলাদেশকে ব্যাট করতে পাঠান জিম্বাবুয়ের অধিনায়ক এল্টন চিগুম্বুরা। চোটের জন্য সৌম্য সরকারের অনুপস্থিতিতে তামিম ইকবালের সঙ্গে ইনিংস উদ্বোধন করেন লিটন। ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারে জংয়ের বলে ড্রাইভ করতে গিয়ে পয়েন্টে ক্রেমারের ক্যাচে পরিণত হন তিনি। এরপর টপ অর্ডারের আরেক ব্যাটসম্যান মাহমুদউল্লাহও ভালো করতে পারেননি। পানিয়াঙ্গারার বলে বোল্ড ফিরে যান তিনি।
তামিম ইকবালকে সঙ্গে ইনিংসের নবম ওভারে যোগ দেন মুশফিক। তাদের ৭০ রানের জুটিতে ২৪তম ওভারে শত রান সংগ্রহ করে বাংলাদেশ। এরপর সাজঘরে ফেরেন তামিম। রাজার বলে এগিয়ে এসে লং অন দিয়ে সীমানা ছাড়া করতে গিয়ে জংয়ের হাতে ক্যাচ দেন এই বাঁহাতি ব্যাটসম্যান। ৬৮ বলে খেলা তামিমের ৪০ রানের ইনিংসটি গড়া ৩টি চার ও দুটি ছক্কায়। শুরু থেকেই আত্মবিশ্বাসী ছিলেন সাকিব। কিন্তু বেশিক্ষণ ব্যাট করতে পারেননি বিশ্বের অন্যতম সেরা এই অলরাউন্ডারও। রাজার বলে চার হাঁকিয়ে পরের বলেই স্টাম্পড হন তিনি।
২৮তম ওভারে ১২৩ রানে চার উইকেট হারানো বাংলাদেশ তাকিয়ে ছিল টেস্ট অধিনায়ক মুশফিকের দিকে। তরুণ সাব্বিরকে নিয়ে দলকে লড়াই করার মতো সংগ্রহ এনে দেন তিনি। ৪৬তম ওভারে নিজের রান তিন অঙ্কে নিয়ে যান মুশফিক। ওয়ানডেতে এটি মুশফিকের চতুর্থ আর জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে দ্বিতীয় শতক।
চলতি বছর এ নিয়ে দ্বিতীয়বার শতকের দেখা পেলেন মুশফিক। গত এপ্রিলে পাকিস্তানের বিপক্ষে ১০৬ রানের দুর্দান্ত এক ইনিংস খেলেছিলেন এই উইকেটরক্ষক-ব্যাটসম্যান। সাব্বিরের রান আউট হন ৫৭ রানে। তার ৫৮ বলের ইনিংসটি সাজানো ৪টি চার ও দুটি ছক্কায়। এরপর মুজারাবানির বলে সীমানা ছাড়া করতে গিয়ে চিবাবার হাতে ধরা পড়েন নাসির। তার বিদায়ের পর মাঠে আসেন অধিনায়ক মাশরাফি। মাশরাফি ও আরাফাত দলের সংগ্রহ ২৭৩ রানে নিয়ে যান। শেষ ওভারে ফিরে যাওয়ার আগে ৮ বলে ১৪ রান করেন অধিনায়ক। শেষ বলে রান আউট হওয়া আরাফাত করেন ১৫ রান। এতে নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৯ উইকেট হারিয়ে ২৭৩ রানের সংগ্রহ দাঁড় করায় টাইগাররা। ফলে জয়ের জন্য জিম্বাবুয়ের লক্ষ্য দাঁড়ায় ২৭৪ রান।
বাংলাদেশের পক্ষে সর্বোচ্চ ১০৭ রান করেন উইকেটরক্ষক-ব্যাটসম্যান মুশফিকুর রহিম। এছাড়া সাব্বির রহমান ৫৭ ও তামিম ইকবাল ৪০ রান করেন।
জিম্বাবুয়ের পক্ষে তাউরাই মুজারাবানি ও সিকান্দার রাজা দুটি করে এবং টিনাশে পানিয়াঙ্গারা ও লুক জংয়ে একটি করে উইকেট নেন।

সংক্ষিপ্ত স্কোর:
বাংলাদেশ: ৫০ ওভারে ২৭৩/৯ (তামিম ৪০, লিটন ০, মাহমুদউল্লাহ ৯, মুশফিক ১০৭, সাকিব ১৬, সাব্বির ৫৭, নাসির ০, মাশরাফি ১৪, আরাফাত ১৫, আল আমিন ০*; পানিয়াঙ্গারা ১০-০-৩৮-১, জংয়ে ৮-১-৪৫-১, মুজারাবানি ১০-০-৬৪-২, ক্রেমার ১০-০-৪৫-০, উইলিয়ামস ৫-০-৩২-০, রাজা ৭-০-৪৭-২)

জিম্বাবুয়ে: ৩৬.১ ওভারে ১২৮ (চিবাবা ৯, জংয়ে ৩৯, আরভিন ২, উইলিয়ামস ৮, চিগুম্বুরা ৪১, রাজা ৩, ওয়ালার ১, ক্রেমার ১৫, পানিয়াঙ্গারা ৫, মুজরাবানি ০*, মুতুমবামি অনু; মুস্তাফিজ ৬-০-২৭-০, আরাফাত ৭-২-১৯-০, সাকিব ১০-০-৪৭-৫, আল আমিন ৫-০-১৫-১, মাশরাফি ৬-০-১৩-২, নাসির ২.১-০-৬-১)
ফল: বাংলাদেশ ১৪৫ রানে জয়ী।
ম্যাচ সেরা: মুশফিকুর রহিম।




