ads

সোমবার , ২৬ অক্টোবর ২০১৫ | ৩রা জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের নিবন্ধনপ্রাপ্ত অনলাইন নিউজ পোর্টাল
  1. ENGLISH
  2. অনিয়ম-দুর্নীতি
  3. আইন-আদালত
  4. আন্তর্জাতিক
  5. আমাদের ব্লগ
  6. ইতিহাস ও ঐতিহ্য
  7. ইসলাম
  8. উন্নয়ন-অগ্রগতি
  9. এক্সক্লুসিভ
  10. কৃষি ও কৃষক
  11. ক্রাইম
  12. খেলাধুলা
  13. খেলার খবর
  14. চাকরির খবর
  15. জাতীয় সংবাদ

দলীয় প্রতীকে স্থানীয় সরকার নির্বাচন ॥ প্রাসঙ্গিক ভাবনা

শ্যামলবাংলা ডেস্ক
অক্টোবর ২৬, ২০১৫ ৪:৪০ অপরাহ্ণ

রফিকুল ইসলাম আধার

Adv. Adharগুঞ্জনের ডালপালা বিস্তার লাভ করার পূর্বেই জাতীয় সংসদের আদলে স্থানীয় সরকার নির্বাচনও দলীয় প্রতীকে অনুষ্ঠানের নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। ১২ অক্টোবর মন্ত্রীসভার বৈঠকে স্থানীয় সরকার নির্বাচন দলীয়ভাবে করার বিধান করে স্থানীয় সরকার আইন (সংশোধন ২০১৫) অনুমোদিত হয়েছে। ফলে পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নির্বাচন কমিশনও (ইসি) সংশ্লিষ্ট আইনটি সংশোধন করছে। সেইসাথে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ, বিএনপিসহ নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলগুলো গঠনতন্ত্রে সংশোধনী আনছে। অর্থাৎ দলীয় প্রতীকেই সামনের স্থানীয় নির্বাচন অনুষ্ঠানে তৎপরতা চলছে বেশ জোরেশোরেই। সংশোধিত আইনে আরও একটি বিষয় স্পষ্ট করা হয়েছে সরকারের তরফ থেকে, তা হচ্ছে নির্বাচন যথাসময়েই হবে এবং দৈবক্রমে তা সম্ভব না হলে সংশ্লিষ্ট জনপ্রতিনিধিদের বহাল না রেখে প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হবে। এক্ষেত্রে যথাসময়ে বলতে ডিসেম্বর মাসেই দেশের অল্প কিছু পৌরসভা ছাড়া সবগুলোতেই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে- এমনটাই মনে হচ্ছে।
যে কোন নির্বাচনই যথাসময়ে সম্পন্ন করা মানে গণতান্ত্রিক রীতি-নীতি চর্চার অন্যতম প্রধান লক্ষণ। এ ক্ষেত্রে সরকারের সাম্প্রতিক চিন্তা অবশ্যই প্রশংসার দাবিদার। যদিও স্থানীয় সরকার নির্বাচনের আওতায় সিটি কর্পোরেশন, পৌরসভা, উপজেলা পরিষদ ও ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনও দলীয়ভাবে তথা দলীয় প্রতীকে অনুষ্ঠানের সিদ্ধান্তে মিশ্র প্রতিক্রিয়া রয়েছে- তথাপি সিটি মেয়র, পৌর মেয়র, উপজেলা চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যান পর্যন্ত তা সীমাবদ্ধ রাখার পক্ষে যৌক্তিকতাই বেশি লক্ষ্যণীয়। কিন্তু তৃণমূলের কাউন্সিলর ও ইউপি সদস্যদের বেলায় দলীয় প্রার্থী ও দলীয় প্রতীক বরাদ্দে তৃণমূলে বিশেষ করে গোষ্ঠী-পরিবারে আদর্শিক দ্বন্দ্ব-সংঘাত, হানাহানি বেড়ে যেতে পারে-এমন আশংকাই আপাতত করা হচ্ছে। সুতরাং জনপ্রতিনিধিত্বমূলক স্বায়ত্বশাসিত প্রতিষ্ঠানগুলোর মূল পদে নির্বাচন দলীয় প্রতীকে হলেও অন্ততঃ সিটি/পৌর কাউন্সিলর ও ইউপি সদস্যদের নির্বাচন দলীয় পর্যায়ের বাইরে রাখাই সমীচিন বলে মনে করা হচ্ছে।
অন্যদিকে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে পদ্ধতিগত আমূল পরিবর্তনে সরকার যে বাহবা পাচ্ছে, তার চেয়েও বেশি কেবল বাহবাই নয়- নজিরবিহীন দৃষ্টান্ত স্থাপিত হতো, যদি ওই নির্বাচনে প্রার্থীদের শিক্ষাগত যোগ্যতার বিষয়টি নিশ্চিত করার পদক্ষেপ নেওয়া হতো। বিশেষ করে সিটি/পৌর মেয়র ও উপজেলা চেয়ারম্যানদের ক্ষেত্রে শিক্ষাগত যোগ্যতা ন্যূনতম স্নাতক, উপজেলা ভাইস চেয়ারমান, ইউপি চেয়ারম্যান ও সিটি/পৌর কাউন্সিলর, সংরক্ষিত (মহিলা) কাউন্সিলরদের ক্ষেত্রে ন্যূনতম এইচএসসি এবং ইউপি সদস্যদের ক্ষেত্রে ন্যূনতম এসএসসি পাস থাকার বিধান করা হলে তা ইতিবাচক, ব্যতিক্রমী ও সময়োচিত পদক্ষেপ বলেই বিবেচিত হতো।
যে ক্ষেত্রে তৃতীয় দফায় নির্বাচিত বঙ্গবন্ধু তনয়া দেশরতœ শেখ হাসিনার সরকার শিক্ষা, কৃষি, খাদ্য, স্বাস্থ্য, বিদ্যুৎ-জ্বালানী, তথ্য-প্রযুক্তি ও পরিবেশের উন্নয়নে যুগান্তকারী সফলতা অর্জন করায় আর্ন্তজাতিক অঙ্গণে তা প্রশংসিত হচ্ছেÑ বাংলাদেশ এখন নিম্ন মধ্যম আয়ের দেশ থেকে উচ্চবিত্ত স্বচ্ছল ঐশ্বর্যের দিকে ধাবিত হচ্ছে, সে ক্ষেত্রে জনপ্রতিনিধিত্বমূলক প্রতিষ্ঠানে শিক্ষিত ব্যক্তিদের অংশিদারিত্ব নিশ্চিত করে শিক্ষিত ও দক্ষ জনপ্রতিনিধিদের নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে সমগ্র বাংলাদেশেই একটি আমূল পরিবর্তন আনা সম্ভব। কিন্তু শিক্ষিত ও দক্ষ জাতি গঠনে বদ্ধপরিকর সরকার স্থানীয় সরকার নির্বাচন ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তনের পদক্ষেপ নিলেও সেই পদক্ষেপে প্রার্থীদের শিক্ষাগত যোগ্যতা নিশ্চিত না করায় বিশাল ব্যত্যয় ঘটেছে বলেই সচেতন মহল মনে করছেন। আর এ ক্ষেত্রে যে বিষয়টি সর্বাগ্রে উঠে আসছে তা হচ্ছে, আধুনিক জ্ঞান-বিজ্ঞানের যুগ আর স্বাধীনতার ৪৪ বছর পরও যখন বাংলাদেশের মূল আইন প্রণেতা হিসেবে যারা স্বীকৃত সেই মহান জাতীয় সংসদের সদস্যদের নির্বাচনের ক্ষেত্রে শিক্ষাগত যোগ্যতার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়নি এবং কেবল ন্যূনতম স্নাতক নয়, ননমেট্রিক হয়েও ব্যবসায়ী নেতা বনে যাওয়া অনেকের সুযোগ অবারিত থাকার কারণেই হয়তোবা সরকার স্থানীয় সরকার নির্বাচনে জনপ্রতিনিধিদের শিক্ষাগত যোগ্যতার বিষয়টি নিশ্চিত না করে তা জেনেশুনেই পাশ কাটিয়ে যাচ্ছে। যে কারণে বিষয়টি সঙ্গত কারণেই উঠে আসছে এবং সে ক্ষেত্রে এটাই সরকারের মূল দুর্বলতা বলে আলোচিত হচ্ছে।
কিন্তু কেবল স্থানীয় সরকারের নির্বাচনেই নয়, জাতীয় নির্বাচন থেকে শুরু করে স্থানীয় সরকার নির্বাচন পর্যন্ত সকল প্রার্থীদের শিক্ষাগত যোগ্যতা নিশ্চিত করতে বড় বাধাই বা কোথায়? মূল আইন প্রণেতাদের যোগ্যতা সর্বোচ্চ ডিগ্রীধারী না হোক, অন্ততঃ স্নাতক হলে আওয়ামী লীগ ও বিএনপিসহ প্রধান প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোতে সেই শিক্ষিত প্রার্থীর কি খুবই সংকট দেখা দেবে ? নিশ্চয়ই না। আমাদের চলমান গণতান্ত্রিক সরকার শত বাঁধা, ষড়যন্ত্র আর ঘাত-প্রতিঘাত পেরিয়েও যখন বাংলাদেশকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে সামনের দিকেÑ অভিষ্ঠ লক্ষ্যে, ঠিক তখন কঠিন হলেও সেই বাঁধা পেরিয়ে জাতীয় থেকে স্থানীয় পর্যায়ের সকল নির্বাচনে প্রার্থীদের শিক্ষাগত যোগ্যতার বিষয়টি নিশ্চিত করে বাংলাদেশকে বিশ্বের দরবারে আরও এক ‘রোল মডেল’ হিসেবে তুলে ধরবেনÑএমনটাই প্রত্যাশা ওয়াকিবহাল মহলের।
লেখক : সাংবাদিক, আইনজীবী ও রাজনীতিক, শেরপুর। ই-মেইল: press.adhar@gmail.com

Need Ads