শ্যামলবাংলা ডেস্ক : একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন কাদের (সাকা) চৌধুরী ও জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদের আপিলের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ করেছে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। বুধবার সাকা চৌধুরীর ২১৭ পৃষ্ঠার ও মুজাহিদের ১৯১ পৃষ্ঠার পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ করা হয়। এর আগে রায়ে স্বাক্ষর করেন প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার (এসকে) সিনহাসহ আপিল মামলার রায় প্রদানকারী চার বিচারপতি। অন্য বিচারপতিরা হলেন- বিচারপতি নাজমুন আরা সুলতানা, বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন এবং বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী।
পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশের মধ্য দিয়ে তাদের দণ্ড কার্যকরের প্রক্রিয়া শুরুর পথ তৈরি হলো। তবে ১৫ দিনের মধ্যে তারা রায় পুনর্বিবেচনার জন্য আবেদন (রিভিউ) করতে পারবেন। রায় প্রকাশের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল সৈয়দ আমিনুল ইসলাম। তিনি জানান, সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে রায়ের বিস্তারিত কপি প্রকাশ করা হবে।
গত ১৬ জুন আলী আহসান মুহাম্মদ মুজাহিদের মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখে রায় ঘোষণা করা হয়। এরপর ২৯ জুন ট্রাইব্যুনালের দেয়া ফাঁসির আদেশের বিরুদ্ধে বিএনপি নেতা সাকা চৌধুরীর আপিল বাতিল করে ফাঁসির রায় বহাল রাখেন আদালত।
চূড়ান্ত রায় প্রকাশের পর পরই বুধবার বিকেলে সাকা চৌধুরী ও মুজাহিদের প্রধান আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেন জানান, পূর্ণাঙ্গ রায়ের সত্যায়িত অনুলিপি পাওয়ার পর তারা রিভিউ করবেন। রিভিউ করার পর সর্বোচ্চ আদালতে শুনানি হবে। রিভিউ আবেদন নিষ্পত্তির পর সর্বোচ্চ দণ্ড বহাল থাকলে রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণভিক্ষা চাইতে পারবেন আসামিরা। প্রাণভিক্ষা না চাইলে সুবিধা মতো সময়ে দণ্ড কার্যকর করবে রাষ্ট্র।
এর আগে জামায়াত নেতা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী, মোহাম্মদ কামারুজ্জামান ও আবদুল কাদের মোল্লার আপিলের রায় ঘোষণা করেন আদালত। তাদের মধ্যে কাদের মোল্লা ও কামারুজ্জামানের ফাঁসি কার্যকর হয়েছে। আর আজীবন কারাদণ্ডাদেশ ভোগ করছেন সাঈদী। মুজাহিদের মৃত্যুদণ্ড বহালের পূর্ণাঙ্গ রায় এখন প্রকাশের অপেক্ষায় রয়েছে।
ট্রাইব্যুনালের রায়ে ৯০ বছরের কারাদণ্ডপ্রাপ্ত জামায়াতের সাবেক আমির গোলাম আযম ও আমৃত্যু কারাদণ্ডপ্রাপ্ত বিএনপির সাবেক নেতা সাবেক মন্ত্রী আবদুল আলীম মৃত্যুবরণ করায় তাদের আপিল আবেদনের ওপর শুনানি হয়নি।




