রাজশাহী প্রতিনিধি: রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) গত ৩২ বছরে ৩১টি খুনের ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে গত ১০ বছরে শিক্ষক খুন হয়েছেন তিনজন। সর্বশেষ গত শনিবার হত্যাকান্ডের শিকার হলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক প্রফেসর ড. এ কে এম শফিউল ইসলাম। এছাড়াও ১৯৮২ সাল থেকে গতকাল পর্যন্ত ক্যাম্পাসে ২৮ শিক্ষার্থী হত্যাকান্ডের শিকার হয়েছেন। এদের মধ্যে ১৬ জন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবির নেতাকর্মী, আটজন ছাত্রলীগের ও তিনজন ছাত্রদল এবং অন্যরা বামপন্থী ছাত্র সংগঠনের নেতাকর্মী। অভিযোগ রয়েছে, শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ গত ৩২ বছরে ৩১টি খুনের ঘটনা ঘটলেও এর সুষ্ঠু তদন্ত, বিচার এবং রায় ঘোষণা ও তা কার্যকর হয়নি। বরং আইনের ফাঁক ফোকর দিয়ে বেরিয়ে গেছে সন্ত্রাসীরা। আর এ জন্যই মতিহারের সবুজ চত্তরে রক্তের হোলিখেলা থামছে না।
রাবির একাধিক শিক্ষক জানিয়েছেন, নানা অজুহাতে তদন্ত কর্মকর্তারা হত্যা মামলার দুর্বল তদন্ত করে নানা অসঙ্গতিপূর্ণ চার্জশিট দিয়ে তাদের দায়িত্ব শেষ করেন। তাই বিশ্ববিদ্যালয় পরিণত হয়েছে খুনের নিরাপদ স্থানে।
পুলিশ ও রাবি প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক প্রফেসর ড. এ কে এম শফিউল ইসলাম বিভাগের একটি বৈঠক শেষে গতকাল শনিবার বিকাল ৩টায় বাসায় ফেরার পথে একদল দুর্বৃত্ত এলোপাতাড়ি কুপিয়ে ফেলে রেখে যায়। গুরুতর আহতাবস্থায় হাসপাতালে নেয়ার পরপরই তার মৃত্যু হয়।
এরইমধ্যে এই হত্যাকা-ের দায় স্বীকার করেছে আনসার আল ইসলাম বাংলাদেশ-২ নামে একটি সংগঠন।শনিবার রাতে ফেসবুকে একটি পোস্টেতারা উল্লেখ করেছেড. শফিউল নামে মুরতাদকে আমরাই হত্যা করেছি।এদিকে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের পার্শ্ববর্তী মতিহার থানা পুলিশ।
এর আগে ২০০৪ সালের ২৪ ডিসেম্বর ফজরের নামাজ শেষে প্রাতঃভ্রমণে বেরিয়ে বিনোদপুরে নিজের বাসার কাছে সন্ত্রাসীদের ধারালো অস্ত্রের আঘাতে খুন হন সাবেক রেজিস্ট্রার ও আওয়ামী লীগপন্থি অর্থনীতির অধ্যাপক ইউনূস। ওই ঘটনায় প্রথমে জামায়াত-শিবিরকে দায়ি করলেও পরে সিরিজ বোমা হামলায় গ্রেফতার হওয়া জেএমবি জঙ্গিরা আদালতে অধ্যাপক ইউনূসকে হত্যার দায় স্বীকার করে।
তারও আগে ২০০৬ সালের ২ ফেব্রুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূতত্ত্ব ও খনিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ড. এস তাহের আহমেদকে হত্যা করে সন্ত্রাসীরা। সে ঘটনায় অভিযুক্ত চারজনকে ফাঁসির আদেশ দিয়েছিলেন আদালত।
জানা গেছে, বিশ্ববিদ্যালয়ে দুটি পুলিশ ফাঁড়িতে অন্তত ২০ জন করে পুলিশ সদস্যসহ ১৬টি হলে সব মিলিয়ে ৫০০ পুলিশ সদস্য রয়েছেন। আবার বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন বিনোদপুর এলাকায় রাজশাহী র্যা ব-৫ সদর দপ্তর রয়েছে। সেই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মাত্র কয়েকশ গজ দূরেই রয়েছে মতিহার থানা।
নগর পুলিশের উপকমিশনার (সদর) তানভির হায়দার চৌধুরী বলেছেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় ও পার্শ্ববর্তী এলাকার নিরাপত্তার জন্য পুলিশ সব সময় সচেষ্ট রয়েছে। কিন্তু এরই মধ্যে দু-একটি ঘটনা ঘটে চলেছে। এসব ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের গ্রেপ্তারেও পুলিশ চেষ্টা চালাচ্ছে’।
শনিবারের হত্যাকান্ডের পর রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য ড. চৌধুরী সারওয়ার জাহান বলেছেন, শিক্ষকদের ওপর এমন হামলা কাম্য নয়। এর আগে দুই শিক্ষক হত্যাকান্ডের শিকার হয়েছেন। আদালতের কয়েকজনের দন্ড হলেও মূল পরিকল্পনাকারীদের পুলিশ বের করতে পারেনি। ফলে এমন হামলা চলছেই।




