চকরিয়া (কক্সবাজার) প্রতিনিধি : কৃষি কর্মকর্তাকে পুলিশ দিয়ে নাজেহাল ও গ্রেফতারের হুমকি দেয়ায় চকরিয়া উপজেলা সহকারি (ভূমি) মো: মাইনুউদ্দিনের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে কৃষি কর্মকর্তা ও সহকারি কৃষি অফিসাররা। গতকাল ২৭অক্টোবর উপজেলা পরিষদ চত্বরে কৃষি বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা চকরিয়া উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) কে ২৪ঘন্টার মধ্যে প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন। পরে বিক্ষুদ্ধ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা সাংসদ হাজী মো.ইলিয়াছের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী বরাবরে স্বারকলিপি দিয়েছেন।

সমাবেশে বক্তারা বলেন, গত ২৩ অক্টোবর সন্ধ্যা সাতটার দিকে ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনাকালে উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা আহসানুল হাবিব আল আজাদ জনিকে ঠুনকো অভিযোগে পুলিশ দিয়ে নাজেহাল ও গ্রেফতারের হুমকি দিয়েছেন ভ্রাম্যমান আদালতের ম্যাজিষ্ট্রেট ও সহকারি কমিশনার (ভুমি) মো.মাঈন উদ্দিন। ওই কৃষি কর্মকর্তা একজন বিসিএস ক্যাডার হওয়ার পরও সহকারি কমিশনার (ভূমি) ক্ষমতার অব্যবহার করেছেন। পড়ালেখা ও চাকুরি সমমান হলেও নির্বাহী ক্ষমতা বলে ওই কৃষি কর্মকর্তাকে নাজেহাল করেছেন। এ ঘটনার জন্য সহকারি কমিশনারকে ভুল স্বীকার করতে হবে। তা না হলে ২৪ ঘন্টার মধ্যে তাকে চকরিয়া উপজেলা থেকে প্রত্যাহার এবং জনপ্রশাসন মন্ত্রানালয়ে ওএসডি করতে হবে। কৃষি বিভাগের সকল ধরণের ভেজাল বিরোধী অভিযান পরিচালনার জন্য বিসিএস (কৃষি) ক্যাডাদের হাতে ম্যাজিষ্ট্রেসি ক্ষমতা দেয়ারও দাবি জানান।
মানববন্ধনে উপস্থিত উপজেলার উত্তর লক্ষ্যারচর ইউনিয়নের ব্যবসায়ী নূরুল আবছার জানান, সহকারি কমিশনার (ভূমি) মোবাইল কোর্ট পরিচালনার সময় তাকে ৫লাখ ২হাজার ৫শত টাকার অর্থদন্ড করেছে। অথচ তাকে রসিদ দেয়া হয়েছে মাত্র ২লাখ টাকার। বাকী টাকার রসিদের জন্য তিনি প্রতিদিন তার অফিসে ধর্ণা দেয়ার পরও তাকে দেয়া হয়নি। এভাবে আরও অনেক ভূক্তভোগী চকরিয়ার সহকারী কমিশনার (ভূমি) র বিরুদ্ধে তাদের নানা অভিযোগ তুলে ধরেছেন।
কক্সবাজার জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো.নুরুল আবছার বলেন, মানুষের মাঝে ভুলভ্রান্তি থাকতে পারে। কিন্তু সেটি আলোচনার মাধ্যমে শেষ করা যায়। সেখানে বিবিএস ক্যাডারের এক কর্মকর্তা ম্যাজিষ্ট্রেসি ক্ষমতা দেখিয়ে অপর বিসিএস ক্যাডারের কর্মকর্তাকে অপদস্ত করবে সেটি কোন মতেই মেনে নেওয়া যায়না। তিনি বলেন, বিষয়টি কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে প্রশাসনের উচ্চ মহলকে অবহিত করা হয়েছে।
অভিযোগ অস্বীকার করে সহকারি কমিশনার (ভুমি) মো.মাঈন উদ্দিন সাংবাদিকদের বলেন, গত ২৩ অক্টোবর কৃষি কর্মকর্তার অনুরোধে শহরের একটি কীটনাশক দোকানে অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানকালে বিপুল ভেজাল কীটনাশক উদ্ধার হচ্ছে দেখে ওইসময় তাদের (কৃষি বিভাগের) সকল কর্মকর্তা ব্যক্তিগত কাজ দেখিয়ে চলে যাচ্ছে। তিনি বলেন, ওইসময় কৃষি কর্মকর্তা আহসানুল হাবিব আল আজাদ জনিকে উপস্থিত থাকতে বললে উল্টো তিনি বিষোদাগার করেন। পরে পুলিশ পাঠিয়ে তাকে ডেকে আনা হয়। লাঞ্চিত বা নাজেহাল করার ঘটনাটি অসত্য।
চকরিয়ায় নতুন ইউএনও’র যোগদান

চকরিয়ায় নতুন ইউএনও হিসেবে যোগদান করেছেন মোহাম্মদ শাহেদুল আলম। রোববার দুপুরে তিনি কক্সবাজার জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে যোগদানের পর একইদিন বিকেলে চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণ করেছেন। উপজেলার ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারি কমিশনার ভূমি মো.মাঈন উদ্দিন নতুন ইউএনওকে দায়িত্বভার হস্তানান্তর করেছেন। নবাগত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ শাহেদুল আলম চাঁদপুর জেলার ফরিদগঞ্জ উপজেলা থেকে বদলী হয়ে চকরিয়ায় আসেন। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলার গহিরা ইউনিয়নে। তিনি বিসিএস ২৫তম ক্যাডারের কর্মকর্তা ও ২০০৬ সালের ২১ আগষ্ট সরকারি চাকুরীতে যোগদান করেন। গত ১৬ সেপ্টেম্বর চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো.মোয়াজ্জম হোসাইনকে চট্টগ্রামের হাটহাজারী উপজেলায় বদলী করা হলে ভারপ্রাপ্ত ইউএনও হিসেবে এতদিন দায়িত্ব পালন করেন সহকারি কমিশনার ভুমি মো.মাঈন উদ্দিন।
চকরিয়া আবাসিক প্রকৌশলী’র বিরুদ্ধে লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ
চকরিয়া বিদ্যুত বিভাগের আবাসিক প্রকৌশলী’র বিরুদ্ধে টমটম গাড়ির গ্যারেজের বিদ্যুত সংযোগ বিছিন্ন করার নামে গ্রাহকের কাছ মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ওই গ্রাহক থেকে এক লাখ টাকা আদায় করা হলেও তবে ৩০হাজার টাকা নেওয়ার কথা স্বীকার করেন আবাসিক প্রকৌশলী।
জানা যায়, গত ২১অক্টোবর চকরিয়া শহীদ আবদুল হামিদ পৌর বাসটার্মিনাল এলাকায় আলী নামে একব্যক্তি চকরিয়া বিদ্যুৎ বিভাগ থেকে অনুমতি নিয়ে একটি টমটম গাড়ির গ্যারেজ চালিয়ে আসছিলো। ওই গ্রাহক গ্যারেজে অবৈধভাবে সংযোগ দিয়ে টমটম গাড়িতে চার্জ দিচ্ছেন এমন অভিযোগ পাওয়ার পর চকরিয়া আবাসিক প্রকৌশলী জসিম উদ্দিন খানের নেতৃত্বে বিদ্যুত কর্মীরা ওই গ্যারেজে অভিযান চালায়। ওইসময় বিদ্যুত কর্মীরা গ্যারেজে প্রায় ৩৫টি টমটম গাড়ির চার্জে ব্যবহৃত মালামাল জব্দ করে। পরে আবাসিক প্রকৌশলী ওই গ্যারেজের মালিক আলীর কাছ থেকে জরিমানার কথা বলে এক লাখ টাকা আদায় করে। তবে আবাসিক প্রকৌশলী ৩০হাজার টাকা জরিমানা আদায়ের কথা স্বীকার করলেও বাকী ৭০হাজার টাকার ব্যাপারে কোন সঠিক উত্তর দিতে পারেনি। গত ২৬ অক্টোর ভাঙ্গারমুখ এলাকায় মীর কাসেমের মালিকাধীন আরও একটি গ্যারেজে অভিযান চালিয়ে ৩০হাজার জরিমানা আদায় করেছে। এভাবে একের পর এক জরিমানার টাকা আদায় করলেও সরকারি লেজার বহিতে উঠানো হচ্ছে কিনা এইনিয়ে আবাসিক প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে স্বচ্ছতার প্রশ্ন উঠেছে। জরিমানার টাকা রসিদ বহিতে উল্লেখ করে ওই গ্রাহক সংশ্লিষ্ট ব্যাংকে টাকা জমা দেবেন। কিন্তু আবাসিক প্রকৌশলী এসবের কিছুই মানছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এব্যাপারে চকরিয়া বিদ্যুত বিভাগের আবাসিক প্রকৌশলী জসিম উদ্দিন খান বলেন, পৌরএলাকায় টমটম গ্যারেজ গুলোতে অবৈধভাবে বিদ্যুত সংযোগ দিয়েছে তাদের বিরুদ্ধে অভিযান চালানো হচ্ছে। গ্যারেজ মালিকদের জরিমানাও করা হচ্ছে। তবে এক লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার ব্যাপারে তিনি অস্বীকার করেন।




