ঝিনাইদহ প্রতিনিধি : ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার ঈশ্বরবা এলাকায় বাস-ট্রাকের মধ্যে মুখোমুখি সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। ২৭ অক্টোবর সোমবার দুপুরে ওই দুর্ঘটনা ঘটে। এসময় এক কলেজছাত্রীসহ দুই নারী নিহত হয়েছে এছাড়াও নারী ও শিশুসহ কমপক্ষে ৩০ জন আহত হয়েছে। আহতদেরকে কালীগঞ্জ, কোটচাঁদপুর, ঝিনাইদহ ও যশোর মেডিকেলে কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। নিহতের মধ্যে মহেশপুর উপজেলার জাগুসা গ্রামের আমিরুল ইসলামের স্ত্রী কলেজছাত্রী শিরিনা খাতুনের (২০) পরিচয় পাওয়া গেছে।

কালীগঞ্জ থানার ওসি আনোয়ার হোসেন জানান, দুপুর ১২টার দিকে কালীগঞ্জ উপজেলা শহর থেকে একটি বাস যাত্রী নিয়ে মহেশপুরের দিকে যাচ্ছিল। পথিমধ্যে কালীগঞ্জ-জীবননগর সড়কের ঈশ্বরবা ইটভাটা এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা ট্রাকের সঙ্গে বাসটির মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলেই এক নারী নিহত ও ৩০ যাত্রী আহত হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুপুর ১টার দিকে কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে শিরিনা বেগম নামের এক নারী মারা যায়। তবে অপরজনের নাম পরিচয় পাওয়া যায়নি। আহতদের মধ্যে আশীষ কুমার, বৈশাখী খাতুন, আফরোজা, শহিদুল ইসলাম, আমির আলী, আবদুল হামিদ, রেশমা খাতুন, আল্লাদী খাতুন, তন্নি খাতুন ও লালবানুর পরিচয় পাওয়া গেছে। আহতদের মধ্যে আরও ৫ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে তিনি জানান।
ঝিনাইদহে যুবদলের ৩৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত

ঝিনাইদহে জাতীয়তাবাদী যুবদলের ৩৬তম প্রতিষ্ঠা বর্ষিকী পালিত হয়েছে। এ উপলক্ষ্যে আজ দুপুরে শহরের পুরাতন ডিসি কোর্ট চত্বর থেকে একটি বর্ণাঢ্য র্যালি বের করে জেলা যুবদলের নেতাকর্মীরা। র্যালিটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে জেলা বিএনপির কার্যালয়ের সামনে গিয়ে শেষ হয়। পরে সেখানে সমাবেশ করে যুবদলের নেতাকর্মীরা। জেলা যুবদলের যুগ্ম আহবায়ক আহসান হাবিব রনকের সভাপতিত্বে সমাবেশে বক্তব্য রাখেন বিএনপি নেতা আবদুল মালেক, জাহিদুজ্জামান মনা, আক্তারুজ্জামান, মুন্সী কামাল আজাদ পান্নু, আবদুল মজিদ, আশরাফুল ইসলাম পিন্টু, যুবদল নেতা মিজানুর রহমান সুজন, মীর ফজলে এলাহী শিমুল ও মনোয়ার হোসেন রতন। সমাবেশে নেতৃবৃন্দ অবৈধ সংসদ ভেঙ্গে দিয়ে সংলাপের মাধ্যমে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের দাবি জানান। এছাড়া যুবদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল সহ আটক ৬৩ নেতাকমীর নিঃশর্ত মুক্তির দাবি জানান।
হরিণাকুন্ডুতে বিএনপি নেতা আবুল হোসেন হত্যা মামলার আসামীরা প্রকাশ্যে
এক বছরেও চার্জশীট দেয়নি পুলিশ
ঝিনাইদহের হরিণাকুন্ডু উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও দৌলতপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আবুল হোসেন হত্যা মামলার আসামীরা প্রকাশ্যে ঘুরছে। হত্যাকান্ডর এক বছর পেরিয়ে গেলেও আজও মামলার চার্জশীট দেয়নি পুলিশ। নিহতের পরিবারের অভিযোগ, পুলিশ হত্যা মামলার আসামীদের গ্রেফতার না করে উল্টো তাদের সাথে নিয়ে ঘুরছে। আর মামলা তুলে নিতে আসামীরা প্রকাশ্যে বাদী ও তার পরিবারকে হুমকি ধামকি দিচ্ছে।
নিহতের পরিবারিক সূত্রে জানা যায়, গত বছরের ২৮ অক্টোবর হরতালের দিন বিএনপি নেতা আবুল হোসেন সকালে দলীয় কার্যক্রম শেষে দৌলতপুর ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে যান। সেখান থেকে দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে মোটরসাইকেলযোগে মহারাজপুর গ্রামের বাড়ির দিকে ফিরছিলেন। পথিমধ্যে দখলপুর বাজারে ব্রীজের নিকট পৌঁছালে ওৎ পেতে থাকা সন্ত্রাসীরা তাকে লক্ষ্য করে দুইটি বোমা ছুড়ে মারে। বোমার ¯িপ্রন্টারে বিএনপি নেতা আবুল হোসেন মোটরসাইকেল থেকে পড়ে যান। এরপর সন্ত্রাসীরা তাকে কুপিয়ে হত্যা নিশ্চিত করে পালিয়ে যায়। আওয়ামী লীগ নেতা মশিউর রহমান জোয়ার্দ্দার, আজগর মাষ্টার ও বুড়ো মেম্বরের নেতৃত্বে ২৫/৩০ জন সন্ত্রাসী এ হামলা চালায় বলে নিহতের পরিবারের অভিযোগ।
এ ঘটনায় নিহতের ছেলে সাইদুর রহমান বাদী হয়ে ২৪ জনের নাম উল্লেখ করে হরিণাকু-ু থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। এই মামলায় হরিণাকু-ুর পার দখলপুর গ্রামের মান্নান চৌধুরীর দুই ছেলে বাপ্পি চৌধুরী ও বিপুল চৌধুরী এবং একই গ্রামের মোমিন মন্ডলের ছেলে আক্তারুলকে গ্রেফতার করে র্যাব। কবির নামে এক আসামীকে জনতা ধরে পুলিশে দিয়েছে। বাকী আসামীরা আবুল হত্যার পরের দিন থেকেই পুলিশের নাকের ডগায় ঘুরে বেড়াচ্ছে। এদিকে নিহতের পরিবারের অভিযোগ, হরিণাকু-ু থানা পুলিশ চাঞ্চল্যকর এই হত্যা মামলা নিয়ে প্রথম থেকেই ছলচাতুরির আশ্রয় নিয়েছে। গ্রেফতার হওয়া দুই আসামীর রিমা- শুনানীর আবেদন করা হয়। কিন্তু রিমা- শুনানী শেষ না হতেই আসামীরা রহস্যজনক ভাবে জামিনে বের হয়ে গেছে। আদালতে হয়তো তথ্য গোপন করে তারা জামিন হয়েছে। মঙ্গলবার তাদের জামিন বাতিলের জন্য আবেদন করা হবে।
নিহতের ছেলে সাইদুর রহমান অভিযোগ করেন, পুলিশের সঙ্গে আসামীরা এক মঞ্চে সভা সমাবেশ এমনকি আড্ডা দিচ্ছে। পুলিশ এই মামলার একজন আসামীকেও গ্রেফতার করতে পারেনি এক বছর পেরিয়ে গেলেও আজও পুলিশ হত্যাকারীদের বিরুদ্ধে আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেয়া হয়নি। চার্জশীট থেকে আসামীদের নাম বাদ দেওয়ার জন্য মোটা অঙ্কের অর্থ লেনদেন করা হচ্ছে বলে তারা শুনেছেন। মামলায় ২৪ জন আসামী করা হলেও পুলিশ ১২/১৩ জনের নামে চার্জসীট দেওয়ার পাঁয়তারা করছে। এটা দুঃখজনক।
হরিণাকু-ু উপজেলা চেয়ামরম্যান ও উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এ্যাড. এমএ মজিদ জানান, হরতালের দিন প্রকাশ্যে আওয়ামী লীগের সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা পরিকল্পিতভাবে বোমা মেরে ও কুপিয়ে বিএনপি নেতা আবুল হোসেনকে হত্যা করেছে। আসামীদের সঙ্গে সখ্যাতা গড়ে তুলে তড়িঘড়ি করে মামলার চার্জশীট দেবার ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে। তিনি প্রকৃত হত্যাকারীদের সনাক্ত করে তাদের বিরুদ্ধে আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল ও গ্রেফতারের দাবি জানান।
হরিণাকু-ু থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এরশাদুল বারী চৌধুরী জানান, মামলাটির তদন্ত চলছে। এপর্যন্ত এই মামলায় ৫ জন গ্রেফতার হয়েছে। বাকীদেরও গ্রেফতার করতে পুলিশী অভিযান চলছে। তবে পুলিশের সাথে আসামীদের সখ্যতার অভিযোগ অস্বীকার করেন তিনি।
এদিকে বিএনপি নেতা আবুল হোসেনের প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী পালনে কর্মসূচি হাতে নিয়েছে হরিণাকু-ু উপজেলা ও পৌর বিএনপি। কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে, সকাল ৭টায় উপজেলা বিএনপি কার্যালয়ে জাতীয়, দলীয় ও কালোপতাকা উত্তোলন, কালোব্যাজ ধারণ, সকাল ১০টায় মরহুমের নিজ গ্রাম মহারাজপুরে কবর জিয়ারত, শোক র্যালি, সকাল ১১টায় আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল এবং দুপুরে কাঙ্গালী ভোজ। এসব কর্মসূচিতে বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও ঝিনাইদহ জেলা বিএনপির সভাপতি মোঃ মসিউর রহমান প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।




