শাহ্ আলম শাহী,দিনাজপুর : বৃষ্টি ও ভারত থেকে উজানে নেমে আসা পানিতে জলাবদ্ধতা লেগেই থাকছে দিনাজপুরের হিলি স্থলবন্দরে। এ জলাবদ্ধতার কারেণে প্রায় ডুবে থাকছে,বাড়ি-ঘর রাস্তা-ঘাট,স্কুল-কলেজ ও ব্যবাসা প্রতিষ্ঠানসহ সব কিছু। এতে ব্যাহত হচ্ছে বন্দরের আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম। চরম দূর্ভোগে পড়েছে এলাকার মানুষজন। ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকায় সৃষ্টি হচ্ছে এ জলাবদ্ধতার এমন অভিযোগ এলাকাবাসীর। অন্যদিকে পৌর কর্তৃপক্ষ বলছে, শত প্রচেষ্ঠা থাকা সত্বেও তারা জলাবদ্ধাতা নিস্কাশনে ব্যবস্থা করতে পারছেন না। এ জন্য প্রয়োজন অনেক অর্থের। ইতো মধ্যে এ অর্থ সংগ্রহে তারা সরকারের কাছে প্রস্তাব পাঠিয়েছেন।

হিলি স্থলবন্দরের ব্যস্ততম রাস্তা গুলোর চিত্র দেখলে মনে হয় না যে এটি দিনাজপুরের হিলি স্থলবন্দর। পরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকায় বৃষ্টি ও ভারত থেকে উজানে নেমে আসা পানিতে প্রায় ডুবে থাকছে হিলি স্থলবন্দর। বাড়ি-ঘর রাস্তা-ঘাট,স্কুল-কলেজ ও ব্যবাসা প্রতিষ্ঠানসহ সব কিছুতে জমছে পানি।
বন্যার কারণে বন্দরের প্রায় শতাধিক ব্যক্তিগত গোডাউন, স্থানীয় স্কুল-কলেজসহ বেশ কিছু বাড়িঘর পানিতে ভাসছে। শিক্ষার্থীদের শিক্ষা নেয়া এখন বন্ধ রয়েছে।বন্দরের চেকপোষ্ট রোড, বাংলাহিলি বাজার, হাসপাতাল, বাস টারমিনালসহ বন্দরের ব্যস্ততম সড়কগুলো প্রায় থাকছে পানির নিচে। এ কারণে হিলি স্থলবন্দর দিয়ে আমদানি-রপ্তানি চলছে ঝুকির মধ্যে। পরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকায় জলবদ্ধতা প্রকট আকার ধারন করছে স্থলবন্দরটিতে। এমন অভিযোগ এলাকাবাসীর।
তবে হাকিমপুর পৌর সভার মেয়র শাখাওয়াত হোসেন শিল্পী জানিয়েছেন, হিলি স্থলবন্দরের জলবদ্ধতা নিরসনে ৩৩ শত মিটার ড্রেনেজ নির্মানে প্রায় ২৫ কোটি টাকার প্রয়াজন রয়েছে। ইতোমধ্যে সরকারের দৃষ্টি আকর্ষনও করা হয়েছে। এ সংক্রান্ত পত্র দেয়া হয়েছে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে। তাছাড়া বন্দরে আমদানী-রপ্তানির অসংখ্য পরিবহন পৌর সভার জায়গার উপর দিয়ে চলাচল করলেও আমারা পাচ্ছিনা ভূমি কর। এই ভুমিকর আদায় শুরু হলে পৌরসভার অনেক আয় বাড়বে। তাতে ড্রেনেজ ব্যবস্থাসহ বিভিন্ন উন্নয়ন সম্ভব হবে পৌর সভার।
এ ব্যাপারে স্থানীয় সংসদ সদস্য শিবলী সাদিক জানিয়েছেন, আমরা এ বিষয়ে অচিরেই ব্যবস্থা নিবো। যাতে জনগণের দূর্ভোগ লাঘব হয়। জলাবদ্ধতা দূর হয়। মানুষ শান্তিতে চলা ফেরা করতে পারবে। এ জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বর্তমান সরকার বদ্ধ পরিকর।
রাস্তা-ঘাট পানিতে প্রায় ডুবে থাকায় ভারত থেকে পন্য আমদানীতে বিঘœ সৃষ্টি হচ্ছে। পন্যবাহী ট্রাক ঝুকির মধ্যে চলাচল করছে যে কোন সময় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। এ কারনে আমদানী রফতানীও কমেছে।
দেশের অন্যতম এ স্থলবন্দরটি জলাবদ্ধা ও বন্যার হাত থেকে রক্ষায় সরকার অচিরেরই ব্যবস্থা নিবেন,এমটাই প্রত্যাশা করছেন এলাকাবাসী।




