আমতলী (বরগুনা) প্রতিনিধি : পূর্ব-মধ্য বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থানরত নি¤œচাপটি সামান্য উত্তর দিকে সরে গিয়ে একই এলাকায় অবস্থান করছে। শুক্রবার সকাল ৬টায় চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর থেকে ৫৬৫ কিলোমিটার দক্ষিণে, কক্সবাজার সমুদ্রবন্দর থেকে ৪৭০ কিলোমিটার দক্ষিণে, মংলা সমুদ্রবন্দর থেকে ৬১০ কিলোমিটার দক্ষিণ-দক্ষিণপূর্বে এবং পায়রা সমুদ্রবন্দর থেকে ৫৫০ কিলোমিটার দক্ষিণ-দক্ষিণপূর্বে অবস্থান করছিল (১৭.২০ উত্তর অক্ষাংশ এবং ৯১.৫০ পূর্ব দ্রাঘিমাংশ)। এটি আরও ঘণীভূত হয়ে উত্তর-উত্তরপশ্চিম দিকে অগ্রসর হতে পারে।নিম্নচাপ কেন্দ্রের ৪৪ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘন্টায় ৪০ কিলোমিটার, যা দমকা অথবা ঝড়োহাওয়ার আকারে ৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। নিম্নচাপ কেন্দ্রের নিকটে সাগর মাঝারি ধরনের উত্তাল রয়েছে।নিম্নচাপের প্রভাবে উত্তর বঙ্গোপসাগরে গভীর সঞ্চালনশীল মেঘমালা সৃষ্টি হচ্ছে। উত্তর বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকা এবং সমুদ্র বন্দরসমূহের উপর দিয়ে ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে।চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মংলা এবং পায়রা সমুদ্র বন্দরসমূহকে এক নম্বর দূরবতী সতর্কতা সংকেত নামিয়ে তিন নম্বর স্থানীয় সর্তকতা সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলার সমূহকে পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত উপকূলের কাছাকাছি এসে সাবধানে চলাচল করতে এবং গভীর সাগরে বিচরণ না করার জন্য বলা হচ্ছে।আবহাওয়া অধিদফতরের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আজ একথা বলা হয়।
আবহাওয়ার সতর্কীকরণে শুরু হলো পায়রা বন্দর নামটি

দক্ষিনাঞ্চলের আবহাওয়ার সতর্কীকরণ বিজ্ঞপ্তিতে সংযুক্ত হলো পায়রা সমুদ্র বন্দরের নামটি। বুধবার থেকে এ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। বরিশাল, ভোলা, বরগুনা, পটুয়াখালী জেলার গোটা উপকূলীয় এলাকার মানুষ এখন থেকে পায়রা সমুদ্রবন্দর থেকে সতর্কীকরণ সংকেতের সহজ হিসাব কষতে পারবে। সাগরে সৃষ্ট নিম্নচাপটি কতদুরে অবস্থান করছে তা জানতে আবহাওয়ার বুলেটিনে এ অঞ্চলের জনগণ এখন আরও সহজভাবে জানতে পারবে। দক্ষিণের বরিশাল উপকূলের মানুষের কাছে সঙ্কেত বোঝার জন্য আরও সহজ হয়ে গেল। তারা খুব সহজেই বুঝতে পারবে লঘুচাপ, নিম্নচাপ কিংবা ঘুর্ণিঝড়ের অবস্থান। খেপুপাড়া ঘুর্ণিঝড় সতর্কীকরণ কেন্দ্র (রাডার স্টেশন) ও পাইলট বেলুন অবজার্ভেটরী (পিবিও) এর ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ইলেকট্রনিক প্রকৌশলী প্রদীপ কুমার চক্রবর্তী জানান, এখন থেকে আবহাওয়ার সতর্কীকরণে খুলনা, মংলা, কক্সবাজার ও চট্টগ্রামের পাশাপাশি আরেকটি নাম সংযোজিত হলো পায়রা সমুদ্র বন্দর।ফলে এ এলাকার সাধারণ মানুষ দুর্যোগকালীন সতর্কীকরণের সঙ্কেত আরও সহজভাবে বোঝার সুযোগ পেল। আর দুর্যোগ প্রবণ অঞ্চলের মানুষের কাছে এ দাবিটি ছিল বহুল কাঙ্খিত। রেডক্রিসেন্ট সোসাইটির টিয়াখালী ইউনিয়ন টিম লিডার মেজবাহউদ্দিন বাবুল জানালেন, আগে মংলা থেকে দুরে অবস্থান করা লঘুচাপ, নিম্নচাপ কিংবা ঘুর্ণিঝড়ের অবস্থান বোঝানোর জন্য সতর্ক সঙ্কেত দেয়া হতো। কিন্তু কলাপাড়াসহ উপকূলীয় এ অঞ্চলের মানুষ সঠিক দুরত্ব বুঝতে পারত না- যা এখন অতি সহজ হয়ে গেল। বিশেষ করে বুধবারে সাগরে সৃষ্ট লঘুচাপের অবস্থান জানাতে অন্যান্য সমুদ্রবন্দরের পাশাপাশি পায়রা সমুদ্রবন্দর উল্লেখ করায় এ অঞ্চলের মানুষ স্বস্তি ফিরে পেয়েছে। উল্লেখ্য ২০১৩ সালের ১৯ নবেম্বর কলাপাড়ার রামনাবাদ চ্যানেলের প্রবেশদ্বার টিয়াখালীতে পায়রা সমুদ্র বন্দর প্রকল্পের নির্মাণ কাজ আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এখন চলছে পায়রা সমুদ্র বন্দরের অবকাঠামোগত উন্নয়ন। পায়রা সমুদ্র বন্দরের নামটি সতর্কীকরণ প্রচারে আসায় সবচেয়ে বেশি খুশি হয়েছেন এখানকার হাজার হাজার জেলেসহ ট্রলার মালিকরা।




