ads

বৃহস্পতিবার , ৮ মে ২০১৪ | ১৭ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের নিবন্ধনপ্রাপ্ত অনলাইন নিউজ পোর্টাল
  1. ENGLISH
  2. অনিয়ম-দুর্নীতি
  3. আইন-আদালত
  4. আন্তর্জাতিক
  5. আমাদের ব্লগ
  6. ইতিহাস ও ঐতিহ্য
  7. ইসলাম
  8. উন্নয়ন-অগ্রগতি
  9. এক্সক্লুসিভ
  10. কৃষি ও কৃষক
  11. ক্রাইম
  12. খেলাধুলা
  13. খেলার খবর
  14. চাকরির খবর
  15. জাতীয় সংবাদ

রাজনীতিক-সংগঠক মাজহারুল হক হেলালের মৃত্যু : দায়বদ্ধতার দায় ঘোচানোর কথোকতা

রফিকুল ইসলাম আধার , সম্পাদক
মে ৮, ২০১৪ ৩:২৯ অপরাহ্ণ

01 AdharMazharul Hoque Helal

রফিকুল ইসলাম আধার

Shamol Bangla Ads

আমার জীবনে দেখা চৌকস, চটপটে ও উচ্ছল জীবনের অধিকারী পুরুষদের অন্যতম একজন ছিলেন মাজহারুল হক হেলাল। বিশালদেহী দরাজ গলার ওই মানুষটি মাত্র ক’দিন আগে (২৯ এপ্রিল মঙ্গলবার) না ফেরার দেশে পাড়ি জমিয়েছেন। তার বিয়োগাত্মক ব্যথা পরিবারের স্বজনদের মত আমি এখনও অনুভব করছি। সেইসাথে তার মৃত্যুকেন্দ্রীক দায়বদ্ধতার দায় ঘোচাতে না পারার যন্ত্রণা আমাকে মর্মে মর্মে ক্ষত-বিক্ষত করে।

কলেজজীবন ও ছাত্র রাজনীতির সময়কাল থেকেই তাকে চেনা হলেও আমাকে তার একান্ত সান্নিধ্যে-সাহচর্যে যাওয়ার সুযোগ হয় ১৯৯৪ সালের দিকে। অর্থ্যাৎ ছাত্র রাজনীতি চুকিয়ে আওয়ামী লীগের অন্যতম প্রধান সহযোগি সংগঠন কৃষক লীগে প্রবেশের সুবাদে। তখন জেলা কৃষক লীগের সভাপতি ও কেন্দ্রীয় কৃষক লীগের নির্বাহী সদস্যসহ মাজহারুল হক হেলাল ছিলেন জেলা আওয়ামী লীগেরও সহ-সভাপতি। আর ওই সময়কালে আমি ছিলাম সদর উপজেলা কৃষক লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক (পরবর্তীতে কাউন্সিল অধিবেশনে গোপন ব্যালটের ভোটে নির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক)। ৯৬ এ শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন প্রথম সরকারের যাত্রার পূর্ববর্তী ওই সময়কালটাতে বিএনপিবিরোধী আন্দোলন যখন তুঙ্গে, তখন মাজহারুল হক হেলাল ছিলেন আন্দোলনকারী আওয়ামী লীগ নেতৃত্বের অগ্রভাগে। যে কারণে ওই সময়কালে সরকারবিরোধী আন্দোলনে স্থানীয়ভাবে কৃষক লীগের অংশগ্রহণ ও উপস্থিতি ছিল যেমনই আশাব্যঞ্জক, ঠিক তেমনই জেলা কৃষক লীগের সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট মিহির কুমার সাহাসহ আমাদের ৮/১০ জনের সাহসী ও সক্রিয় অংশগ্রহণ ছিল মাজহারুল হক হেলালের নেতৃত্বেই। তদুপরি শেরপুর-৩ (শ্রীবরদী-ঝিনাইগাতী) আসনের সংসদ সদস্য প্রকৌশলী একেএম ফজলুল হক চাঁন এবং একই আসনের প্রয়াত সংসদ সদস্য এম এ বারী ছিলেন তার নেতৃত্বাধীন জেলা কমিটির সহ-সভাপতি। মূলতঃ তার নেতৃত্বেই তত্কালে শেরপুরে কৃষক লীগ তৃণমূল পর্যায়ে সু-সংগঠিত একটি সংগঠনে প্রতিষ্ঠা লাভ করে। সংগত কারণে তার সাহচর্যে থেকে জেলা সদর থেকে শুরু করে উপজেলা উপজেলায় রাজনীতির চাষাবাদ করার সুযোগ হয়েছে অনেকটা সময়ই। এরপরও তার সাথে আমার সম্পর্কের একটি বিশেষ দিক ছিল, তিনি আমার বাবা বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ মোহাম্মদ আলী মাষ্টার (মধু স্যার) এর স্কুল ও কলেজজীবনের সহপাঠী-বন্ধু হওয়ায় আমাকে পুত্রবৎ স্নেহেই তুমি বলেই কাছে টানতেন।
কেবল কৃষক লীগের রাজনীতিতেই নয়, একাধারে তিনি সংগঠক, চৌকস শিকারী ও সংস্কৃতিমনা ছিলেন। যে কারণে তিনি জেলা রাইফেল্স ক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক থেকে শুরু করে আমৃত্যু ওই পদেই বহাল ছিলেন। তিনি একাধিকবার শিল্পকলা একাডেমির সাধারণ সম্পাদকসহ বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনের সাথে জড়িত ছিলেন। এছাড়া তিনি একসময়ে শেরপুর ক্রিকেট ক্লাবের সভাপতি এবং মাতৃসদন ও হযরত শাহ কামাল (র.) এর মাজার পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বে ছিলেন। ১৯৪৫ সালে জেলা শহরের কসবা কাঠগড় এলাকায় এক সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্ম নেওয়া মাজহারুল হক হেলাল ১৯৫৮ সালে আইয়ুববিরোধী আন্দোলনে নবম শ্রেণীর শিক্ষার্থী থাকাবস্থায় শেরপুরে আইয়ুব শাহীর ছবি ভাংচুর করায় তার বিরুদ্ধে পুলিশের হুলিয়া জারি ছিল। এরপর এসএসসি পাসের পর তিনি চট্টগ্রাম সিটি কলেজ থেকে øাতক শেষ করে কিছু সময় একটি বেসরকারী সংস্থায় চাকুরী নেন। এরপর ১৯৭৮ সালে তিনি চাকুরী নিয়ে জার্মান চলে যান এবং ১৯৮০ সালে দেশে ফিরে পুনরায় রাজনীতি ও সমাজসেবায় জড়িয়ে পড়েন। ১৯৮১ সালে তিনি শেরপুর শহর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। ওই কমিটির মেয়াদ শেষে তিনি জেলা আওয়ামী লীগ ও কৃষক লীগের রাজনীতিতে প্রবেশ করেন। তাছাড়া দেশে ফেরার পর থেকেই তিনি বাটা সু’র ব্যবসা শুরু করেন। ফাঁক-ফোঁকরহীন বাটা সু’র ব্যবসাতেও তার ছিল সুখ্যাতি। মূলতঃ তার রাজনৈতিক, সামাজিক ও ব্যবসায়িক জীবনালেখ্য পর্যালোচনায় দেখা যায়- পরিচ্ছন্নতা, রুচিসম্মততা ও স্পষ্টতা ছিল তার জীবনের প্রধান বৈশিষ্ট্য। রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনে দীর্ঘ সময় জড়িত থাকলেও তার ব্যক্তিজীবনে পরিচ্ছন্নতার কোন ঘাটতি দেখা যায়নি। বরং আদর্শিক ইস্যুতে বলয়ের অবস্থানে তিনি যেমন ছিলেন অনড়, স্পষ্টবাদী ও সাহসী, ঠিক তেমনি তিনি আমৃত্যু ছিলেন আপোসহীন।
বলা বাহুল্য, তার একমাত্র পুত্র সাবেক ছাত্রনেতা, সাংবাদিক ও শিক্ষানবীশ আইনজীবী রেদওয়ানুল হক আবীর আদর্শিক ও পৈত্রিক সম্পর্কের সুবাদে আমারই জুনিয়র। কাজেই স্বীয় জুনিয়রের পিতা আর আমার রাজনৈতিক সিনিয়রের নামাজে জানাজায় অংশগ্রহণ করাটা অপরিহার্য হলেও বিলম্বে উপস্থিতির কারণে দায়িত্বশীল সংগঠনের নেতা হয়েও মৃত্যুর পরদিন সকাল ১১টায় পৌর ঈদগাহ মাঠে অনুষ্ঠিত নামাজে জানাজায় মাজহারুল হক হেলাল সম্পর্কে দু’কথা বলতে না পারার ব্যথাটা আমাকে এখনও তাড়িয়ে বেড়ায় এজন্য যে, জানাজায় পিতা হারানো একমাত্র পুত্র আবীরের কান্নায় দায়িত্বশীলদের দায়বদ্ধতা স্মরণ করিয়ে দেওয়ার বিশাল সুযোগটি হারিয়েছি আমি। কারণ, ২০০৪ সালে জেলা আইনজীবী সমিতির কার্যকরী পরিষদের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সমর্থিত সম্মিলিত আইনজীবী সমন্বয় পরিষদের প্যানেলে মনোনয়নপত্র দাখিলের এক ঘন্টা পূর্বেও যখন অডিটর পদে বিএনপির হেভিওয়েট প্রার্থীর বিপরীতে কোন প্রার্থী পাওয়া যাচ্ছিল না, ঠিক তখন আমাকে শাসিয়ে-কাঁদিয়ে ওই পদে প্রার্থী হতে যেমন বাধ্য করেছিলেন জেলা আওয়ামী লীগের নবনির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট চন্দন কুমার পাল, ঠিক তার অব্যবহিত পরই জেলা আওয়ামী লীগে স্থান করে দিতে নবনির্বাচিত সভাপতি আতিউর রহমান আতিক ও সাধারণ সম্পাদক চন্দন কুমার পালের হাতে তুলে দিয়ে দায়িত্বশীল নেতৃত্বের দায়িত্ব পালন করেছিলেন সাবেক গভর্নর আলহাজ্ব এডভোকেট মোঃ আনিসুর রহমান ও এডভোকেট নারায়ণ চন্দ্র হোড়সহ কয়েকজন। এক্ষেত্রে দায়িত্বশীলদের দায়িত্বশীল ভুমিকায় সফলতা পেয়েছিলাম যেমন আমি, ঠিক তেমনি ২০১২ সালে জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালনকালীন সময়ে জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি ও জেলা বিএনপির সভাপতি আলহাজ্ব এডভোকেট একেএম ছাইফুল ইসলাম কালামের মৃত্যুতে তার প্রতি শেষ শ্রদ্ধা নিবেদনকল্পে বার অঙ্গণে আয়োজিত শোক সমাবেশে বর্ক্তৃতার মধ্য দিয়ে তারই একমাত্র পুত্র প্রভাষক মামুনুর রশিদ পলাশকে জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক এমপি মাহমুদুল হক রুবেলসহ উপস্থিত বিএনপি নেতৃবৃন্দের হাতে তুলে দিতে কার্পণ্য ছিল না আমার। যার ফলোদয় বিলম্বে হলেও হয়েছে। সেই পলাশ এখন জেলা বিএনপির কনিষ্ঠতম যুগ্ম-আহবায়ক। সুতরাং এমনই অবস্থায় মাজহারুল হক হেলালের নামাজে জানাজায় উপস্থিত জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি, জাতীয় সংসদের হুইপ আতিউর রহমান আতিক ও সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট চন্দন কুমার পাল পিপি ও পৌর মেয়র হুমায়ুন কবীর রুমানসহ দলীয় নেতৃত্বের হাতে পিতার তারুণ্যদীপ্ত চৌকসতার আলোয় আলোকিত চটপটে যুবক বর্তমানে অনেকটা ‘অবহেলায় বাইরে থাকা’ সাবেক সাহসী ছাত্রনেতা আবীরকে তুলে দেয়ার বিশাল সুযোগটি হারিয়েছি আমি ; যে কারণে দায়বদ্ধতার সমীকরণে অনিবার্যভাবেই তাকে টেনে আনা।
আমরা জানি, একজন পরিচ্ছন্ন ও নিরহংকার রাজনীতিক ও সংগঠক মাজহারুল হক হেলালকে হারিয়ে স্ব-স্ব অঙ্গণে যে শূন্যতা সৃষ্টি হয়েছে, তার পূরণ হবার নয়। এরপরও তার অনুকরণীয় ও অনুসরণীয় বৈশিষ্ট্যগুলো স্মরণে রেখে তার একমাত্র পুত্র আবীরকে এগিয়ে নিতে দায়িত্বশীল আওয়ামী লীগ নেতৃত্ব দায়বদ্ধতার দায় ঘোচাতে হাত বাড়াবেন, তাকে স্থান করে নিতে সুযোগ দেবেন সুযোগ্য ও বরণীয় পিতার শূন্যতা পূরণে- পিতৃপ্রতীম রাজনীতিক-সজ্জন মাজহারুল হক হেলালের মৃত্যুতে আজকে এই প্রত্যাশা।

Shamol Bangla Ads

লেখক : সাংবাদিক, আইনজীবী ও রাজনীতিক, শেরপুর। ই-মেইল : press.adhar@gmail.com

Need Ads

সর্বশেষ - ব্রেকিং নিউজ

Shamol Bangla Ads
error: কপি হবে না!