এস এম জামাল. কুষ্টিয়া : মাত্র ৮ কাঠা জমিতে টমোটোর ফলন হয়েছে ১২০ মন। শুনে চোখতো চড়কগাছ। যিনি শুনছেন তিনিই অবাক হচ্ছেন। যেখানে বিঘা প্রতি সর্বচ্চ ফলন হয় ১৫০ মন। সেখানে ৮ কাঠা জমিতে ফলন হয়েছে ১২০ মন। এমন ফলন কেউ দেখেননি কখনও। কুষ্টিয়া জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ লুৎফর রহমান বলেন কৃষক এবং কৃষিবিদদের মধ্যে সমন্বয় হয়েছে। কৃষক স্থানীয় উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তার পরামর্শে চাষাবাদ করলে নিশ্চিত ভাল ফলন পাবে। কুষ্টিয়া সদর উপজেলার বিত্তিপাড়া ব্লকের সফল কৃষক গজনবীপুরের নিয়েত আলীর ছেলে ঠান্টু মিয়া বলেন, তিনি এই প্রথম টমোটো চাষ করেছেন। এর আগে কখনও তিনি টমেটো চাষ করেননি। টমেটো চাষে তার কোন অভিজ্ঞতাও ছিল না। উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা আসারুল হক’র সার্বিক পরামর্শ এবং তদারকির কারণে তিনি ভাল ফলন পেয়েছেন। এ জন্য তিনি প্রথম বছরেই সফল হয়েছেন। ৮ কাঠা জমি থেকে ইতিমধ্যে ১০০ মন টমেটো উত্তোলন করেছেন। বিক্রি করেছেন ৬০ হাজার টাকা। এখনও জমিতে যে পরিমান টমেটো রয়েছে তা থেকে ২০ মনের উপরে ফলন পাওয়া যাবে। ঠান্টু মিয়া আশা করছেন তিনি সর্বমোট ৭৫ হাজার টাকার টমেটো বিক্রি করতে পারবেন। ঠান্টু মিয়া বলেন, বিষমুক্ত টমেটো উৎপাদন করতে পারায় বাজারে তার টমেটোর প্রচুর চাহিদা ছিল। তিনি প্রতি কেজি টমেটোর সর্বনিম্ন বাজার মূল্য পেয়েছেন ১৫ টাকা এবং সর্বচ্চ ৩০ টাকা দরে প্রতি কেজি টমেটো বিক্রি করেছেন।

বিত্তিপাড়া ব্লকের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা আসারুল হক বলেন, এসসিডিপি প্রকল্পের আওতায় তার ব্লকের ২ জন কৃষককে বারি হাইব্রিড টমেটো-৫ জাত চাষের উপর এক দিনের প্রশিক্ষন দেয়া হয়। প্রশিক্ষন শেষে দু’জন কৃষককেই ৮ কাঠা করে প্রদর্শনী প্লট দেয়া হয়। কিন্তু একজন কৃষক তার চারা রক্ষা করতে পারেননি। তবে ঠান্টু মিয়া ভাল পরিচর্যা করেছেন এবং সবসময় পরামর্শ নিয়ে কাজ করেছেন। যার জন্য তিনি এ ফলন পেয়েছেন।
৮ কাঠা জমিতে টমেটো চাষের ব্যায় হিসেব করতে যেয়ে উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা আসারুল হক এবং কৃষক ঠান্টু মিয়া বলেন, ৮ কাঠা জমির জন্য তিনি ১ হাজার চারা এবং প্রয়োজনীয় সার প্রকল্প থেকে বিনামূল্যে পেয়েছেন। তবে চারা এবং সারের মূল্য হিসেব করলে ব্যায় হয়েছে ২০০০ টাকা। বিনামূল্যে সেচের পানি পাওয়া গেছে জিকে প্রকল্প থেকে। তবে সেচ ব্যায় হিসেব করলে ১০০০ টাকার পানি ব্যবহার হয়েছে। টমেটো ক্ষেতে কোন কীটনাশক প্রয়োগ করেননি ঠান্টু মিয়া। ব্যবহার করেছেন আইপিএম প্রযুক্তি। তবে ছত্রাকনাশক লেগেছে ১ হাজার টাকা। রোপন থেকে ফসল উত্তোলন পর্যন্ত লেবার বাবদ ব্যয় হয়েছে প্রায় ৪ হাজার টাকা। তবে টমেটো ক্ষেতে নিজ হাতেই কাজ করেছেন বলে জানান তিনি।

উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা আসারুল হক বলেন একজন কৃষক এক বিঘা জমিতে বারি হাইব্রিড-৫ জাতের টমেটো চাষ করলে তার সর্বসাকুল্যে ব্যয় হবে ২০-২৫ হাজার টাকা। তবে ভাল ফলন হলে একজন কৃষক এক বিঘা জমি থেকে কমপক্ষে দেড় লাখ টাকার টমেটো পাবে। ঠান্টু মিয়ার টমেটো আগ্রহ সৃষ্টি করেছে ওই এলাকার কৃষকদের। একই এলাকার কৃষক বাদশা মিয়া, জালাল উদ্দিন, উজ্জল এবং কিতাব আলী বলেন, টমেটো চাষ এত লাভ জনক তা তাদের জানা ছিল না। আগামী বছরে তারা এ জাতের টমেটো চাষ করবেন বলে জানান।




