মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান, বেতাগী (বরগুনা) : বরগুনা-বেতাগী-নিয়ামতি-বাকেরগঞ্জ মহাসড়কের রাস্তার বর্ধিতকরন ও পুনর্নিমান কাজ ধীর গতিতে চলায় হাজার হাজার মানুষের ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে। বেতাগী অংশের কাজ অনেকটা আগালেও নিয়ামতি-বাকেরগঞ্জের অংশ থেমে রয়েছে পুরোটাই।

বরগুনা থেকে বেতাগী বরিশাল হাজার হাজার মানুষের এ যাতায়াত পথে কাজ অসম্পন্ন থাকায় যানবাহনে মৃত্যুর ঝুকি নিয়ে যাতায়াত করতে হচ্ছে। দ্রæত কাজ বাস্তবায়নের জন্য স্থানীয় সাংসদের নির্দেশনার পরেও অবস্থা যেই সেই স্থানীয়রদের এমনই অভিযোগ।
বিভিন্ন সময় রাস্তা পরিদর্শন কালে জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের কর্তা ব্যক্তিরা কাজের গতি দেখে অসন্তোষ প্রকাশ করে সংশ্লিষ্টদের দ্রæত কাজটি বাস্তবায়নের নিদের্শনা দিয়েছিলেন। কিন্ত কাজ শুরুর ২বছর পেরিয়ে গেলেও কাজের আশানুরুপ অগ্রগতি নেই।
বরগুনা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগ(এলজিইডি) কার্যালয় সূত্রে জানাগেছে, প্রধানমন্ত্রীর অগ্রাধিকার প্রকল্পের আওতায় ২০১২ সালের র্ফেরæয়ারি মাসে সড়কটির চান্দখালী বাইপাস থেকে নিয়ামতি বাজার পর্যন্ত ৫টি গ্রæপে প্রায় ২৮ কিলোমিটার রাস্তার দুপাশ বর্ধিতকরন ও পুনর্নিমান কাজ শুরু হয় । এর পুর্বে ২৯ জানুয়ারি প্রায় ৩২ কোটি টাকা ব্যয়ে ৫টি গুচ্ছে দরপত্র আহবানের প্রেক্ষিতে কাজ পান মেসার্স তানিয়া এন্টার প্রাইজ এন্ড বাবুল শেখ (জেভি), খান এন্টার প্রাইজ ,মেসার্স পায়েল এন্ড পিসি (জেভি) ও মের্সাস এম এ অ্যান্ড এমএইচই কনস্ট্রাকশন ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান। প্রধানমন্ত্রীর অগ্রাধিকার প্রকল্পের এ কাজটি এখনও সম্পন্ন না হওয়ায় কাজিরাবাদ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব মোশারেফ হোসেন চরম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘আমাদের যাতায়াতে চরম অসুবিধায় পরতে হচ্ছে।’
এ ব্যাপারে উপজেলা চেয়ারম্যান শাহজাহান কবির বলেন, ‘অচিরেই সড়কের কাজটি সম্পন্ন করনের জন্য সংশ্লিষ্টদের নিকট দাবি জানাচ্ছি। এছাড়াও নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক স্থানীয় মানুষের কাজের মান নিয়েও রয়েছে নানা অভিযোগ।
বরিশালের মোঃ কবির হোসেনের কবির এন্টারপ্রাইজ ও মেসার্স তানিয়া এন্টার প্রাইজ এন্ড বাবুল শেখ (জেভি)’র বাকেরগঞ্জ-নিয়ামতির পুরো অংশ, মেসার্স হুমায়ুন এন্টারপ্রাইজের বাংলা লিংক টাওয়ার থেকে ঝোপখালী ১ কিলোমিটার এবং ঝোপখালী ব্রীজের দুইপাশের ঢাল, খান এন্টারপ্রাইজের বটতলা বাজার থেকে কাজিরহাট পর্যন্ত ১কিলোমিটার এবং মেসার্স তানিয়া এন্টার প্রাইজ এন্ড বাবুল শেখ (জেভি)’র চান্দখালী বাইপাস থেকে কাজিরহাট বাজারের দক্ষিন পাশ পর্যন্ত রাস্তার প্রায় ৪ কিলোমিটার অংশের কাজ এখনও বাকি রয়েছে। ৩ এপ্রিল প্রকল্প পরিচালক প্রকৌশলী রেজাউর রহমান ও বরগুনার নির্বাহী প্রকৌশলী আনোয়ারুল ইসলাম মহসড়কের কাজের অগ্রগতি পরিদর্শনকালে তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে।
এব্যাপারে ঠিকাদার হুমায়ুন মল্লিক জানান, প্রকল্পে অর্থ বরাদ্ধের অভাবে এবং চলতি বিল না পাওয়ায় কাজ বাস্তবায়নে বিলম্ব হচ্ছে। তবে বিল না পেলেও দ্রæত কাজ সম্পন্ন করব।
এলজিইডি বরগুনার নির্বাহী প্রকৌশলী আনোয়ারুল ইসলাম জানান, কাজের মান ঠিক রেখে দ্রæত কাজ শেষ করার জন্য আমরা ঠিকাদারদের নির্দেশ দিয়েছি।




