এম লুত্ফর রহমান, নরসিংদী : বিলাতি বেগুন খ্যাত টমেটোকে গ্রাম বাংলায় বলা হয় ‘চুক্কা বাগুন’। যুগযুগ ধরে বাংঙ্গালীর ঘরে ঘরে সমাদৃত হয়ে আসছে এই চুক্কা বাগুন। বাংঙ্গালী নারীরা গুড়া মাছ দিয়ে এই চুক্কা বাগুনের খাটাই রান্না করে খেতে খুবই ভালবাসে। তরতাজা মাছ আর এই চুক্কা বাগুনের টক তরকারীর নাম শুনলে প্রতিটি বাংঙ্গালীর জিবেই পানি আসে। কিন্তু সা¤প্রতিককালে ইচঁড়ে পাঁকা হাইব্রিড টমেটোর চাপে চুক্কা বাগুন নামের এই গাছপাকা দেশীয় টমেটো এখন বিলুপ্ত প্রায় হয়ে যাচ্ছে। শীত মওসুমের শুরু থেকে শেষ অবধি ক্ষতিকর কার্বাইড দিয়ে পাকানো ইচঁড়ে পাঁকা হাইব্রিড টমেটোতে বাজার সয়লাব হয়ে যাচ্ছে। আকষর্ণীয় রং আর পানসে স্বাদের এই ইচঁড়ে পাঁকা হাইব্রিড টমেটো খেয়েই বাঙ্গালী এখন রসনা তৃপ্ত করছে। কিন্তু গ্রামে-গঞ্জের মানুষ এখনো বিলাতি বাগুন নামের এই দেশীয় চুক্কা বাগুনের স্বাদ এখনো ভুলে যায়নি। চাষীরা বাড়ীর আঙ্গীনায় এখনো দেশীয় বিলাতি বেগুনের চাষাবাদ করে। তবে এই টমেটো বাজারে আসে শীতের একেবারেই শেষ দিকে। অর্থাৎ চৈত্র মাসে। থাকে মার্চ এপ্রিল পর্যন্ত। যারা চিনে তারাই কিনে নেয় স্বাদে গন্ধে অপূর্ব এই দেশীয় টমেটো। দেখতে ছোট আকৃতির হলেও এর স্বাদ হাইব্রিড টমেটোর চেয়ে অনেক বেশী। যারা সাধারনত টক খেতে পছন্দ করে তারাই এই দেশীয় টমেটো কিনে নিয়ে যায়। এবছরও চৈত্রমাসের মধ্যবর্তী সময় থেকে বাজারে আমদানী হয়েছে দেশীয় এসব টমেটো। তবে আমদানী খুবই কম। খেতের গাছে গাছে টমেটো পাক ধরার পর দ্রæত পচে যায় বলে চাষীরা বাজারে নিয়ে এসব টমেটো বিক্রি করে ফেলে। চাষীরা জানিয়েছে ইচঁড়ে পাঁকা টমেটো দীর্ঘ দিন রাখা যায়। এসব টমেটোতে ক্ষতিকর কার্বাইড দেয়া হয় বলে সহজে পঁচে না। লাল টকটকে চেহারার এসব হাইব্রিড টমেটো শুকিয়ে আস্তে আস্তে চুপসে যায়। কিন্তু পচে না। পক্ষান্তরে দেশীয় টমেটো গাছপাকা টমেটো খুবই দ্রæত পঁচে যায় বলে এগুলো সংরক্ষণ করা সম্ভব হয় না। এসব টমেটো ব্্যাপকভাবে বাজারে আমদানী হয় এবং অতি অল্প সময়ে তা শেস হয়ে যায়। সচেতন ক্রেতা সাধারণ জানিয়েছে অত্যধিক ভিটামিন সি সমৃদ্ধ এসব দেশীয় টমেটো উচ্চ ফলনশীল জাতে উন্নীত করতে না পারলে বাঙ্গালীর ইতিহাস থেকে এ টমেটো একদিন চীরতরে হারিয়ে যাবে।




