খোরশেদ আলম, ঝিনাইগাতী (শেরপুর) : পানি বিক্রি করে সংসার চলে শেরপুরের সীমান্তবর্তী ঝিনাইগাতী উপজেলার শতাধিক নারী শ্রমিকের। উপজেলার গান্ধিগাও, ডেফলাই, ভালুকা, বাকাকুড়া, ধানশাইল, পানবর, ফুলহারী, রাংটিয়া, কালিনগরসহ বিভিন্ন গ্রামের ওইসব নারী শ্রমিকেরা স্থানীয় গজনী অবকাশ পিকনিক স্পটে আগত ভ্রমণ বিলাসীদের খাবার ও রান্নার কাজে ব্যবহারের জন্য পানি সরবরাহ করে থাকে। এতে সারাদিন তাদের ১শ’ থেকে দেড়শ’ টাকা আয় হয়। এ দিয়ে কোনোরকমে তাদের সংসার চলে। ওইসব নারী শ্রমিকের মধ্যে সিংহভাগই স্বামী পরিত্যক্তা। আবার কারো স্বামী থাকলেও তাদের খোঁজ-খবর নেয় না। আবার এদের মধ্যে অনেকের স্বামীই অচল। সিংহভাগ নারী শ্রমিকের নেই ঘরবাড়ী। তারা অন্যের বাড়ীতে মাথা গোজার ঠাই করে নিয়েছে। ওইসব নারী শ্রমিকদের দুঃখ-কষ্ট ও দুর্দশার যেন শেষ নেই। শীত মৌসুমের প্রায় বেশিরভাগ সময়টাই তারা গজনী অবকাশ কেন্দ্রে পানি বিক্রি করলেও বছরের অন্যান্য সময় তাদের থাকতে হয় বেকার। পানি বিক্রি করে যা পায় তা দিয়ে একবেলা খাবার জুটলে দু‘বেলা থাকতে হয় অনাহারে। প্রতিদিন ভ্রমণবিলাসীদের বাসের অপেক্ষায় নারী শ্রমিকরা রাস্তার দু’পাশে অপেক্ষা করে থাকে। বাস আসলে কাজ পায়। না এলে কাজ পায় না, সেদিন থাকতে হয় পরিবারের সদস্যদের নিয়ে অনাহারে। এদের ভাগ্যে জোটেনা ভিজিডি কার্ড, বয়স্কভাতা ও বিধবাভাতা। সরেজমিনে উপজেলা পরিষদের সামনে পিকনিক বাসের অপেক্ষায় থাকা নারী শ্রমিকদের সাথে কথা বলে জানা গেছে ওইসব তথ্য।

গান্ধিগাও গ্রামের স্বামী পরিত্যক্তা আনোয়ারা বেগম জানান, দুইটি শিশু সন্তানকে রেখে স্বামী রমজান আলী দেশান্তরী হয়েছেন। অন্যের বাড়ীতে থেকে পানি বিক্রি করে যা আয় হয়, তা দিয়ে কোনোরকমে তার সংসার চলে। একই গ্রামের ৪ সন্তানের জননী সুজেদা বেগম (৩২), আমিনা খাতুন (৩৫), জহুরা (৩২), হুরাইয়া (৩০), সাথীয়া (৪০), জবেদা (৩০), সখিনা (২৮) ও হেলেনার (৩২) সাথে কথা বলে তাদের অবর্ণনীয় দুঃখ-দুর্দশার কথা জানা যায়। ওইসব নারী শ্রমিকদের ভাগ্যে জুটেনি সরকারী কোন সাহায্য-সহযোগিতা। কর্মসংস্থানের অভাবে মানবেতর জীবন-যাপন করছে ওইসব নারীরা।




