ইমরান হোসাইন : জনগণের অতন্দ্র প্রহরী হুকুম তামিলদার সমাজের এক শ্রেণীর পেশাজীবি মানুষ যার নাম গ্রাম পুলিশ বা চৌকিদার। রাত জেগে ইউনিয়নের পাড়ায় পাড়ায় সাধ্যমতো জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সদা প্রস্তুত এরা। বর্তমান যুগে সময়ের পরিবর্তনে সবকিছুর পরিবর্তন হলেও শুধু পরিবর্তন হয়নি অবহেলিত গ্রাম পুলিশের। স্বাধীনতার ৪২ বছর পরেও পায়নি তারা অর্থনৈতিক মুক্তি। ফলে মানবেতর জীবন-যাপন করেন গ্রামপুলিশেরা। তাদের দায়িত্ব, কর্তব্য ও পরিশ্রম বেশি হলেও পারিশ্রমিক জুরুরি নিতান্তই কম। দ্রব্যমূল্য উর্ধ্বগতির এদেশে গ্রাম পুলিশের জীবনচিত্র বড়ই করুণ। তারা পারে না অন্য কোথাও শ্রম দিতে, পারে না এই পেশায় নিযুক্ত থেকে অর্থনৈতিক ভাবে স্বালম্বী হতে। ফলে অভাব আর দারিদ্রতা ধরে আছে এসব গ্রামপুলিশদের।
সকাল থেকে সারাদিন এমনকি অনেক রাত পর্যন্ত চলে তাদের হুকুম পালনের পালা। মেম্বার, চেয়ারম্যান এমনকি উপজেলা নির্বাহী অফিসারের আদেশ পালন করতে হয় গ্রামপুলিশদের। তাছাড়া পুলিশের পাশাপাশি নৈশকালীন পাহারাও দিতে হয়। ইউনিয়ন পরিষদের শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষার জন্য ব্রিটিশ আমল হতে গ্রাম পুলিশ তথা চৌকিদারি প্রথা প্রবর্তিত হলেও সর্বশেষ ১৯৮৩ সালে বাংলাদেশ সরকার অধ্যাদেশের মাধ্যমে মহালাদার (চৗকিদারি) ফাদারদের কার্যাবলি ও চাকরি নিয়ন্ত্রণ হয়ে আসছে।এই অধ্যাদেশের বলে গ্রামপুলিশ বা চৌকিদারদের বছরে একবার বিনামূল্যে ইউনিফ্ররম, জুতা, মোজা, ছাতা, হারিকেন, টর্চ লাইটসহ দ্রব্যসামগ্রী সরকার থেকে সরবরাহ করা হয়।
রাজশাহীর তানোর উপজেলার ৭টি ইউনিয়নে ৮টি দফাদারসহ ৫৮টি মহালাদার রয়েছেন। দফাদার প্রতিমাসে ১৩০০ টাকা এবং মহালাদাররা মাসে ১১০০ টাকা সরকার থেকে বেতন পেয়ে থাকেন। আর ইউনিয়ন পরিষদ থেকে দফাদার ও মহালাদার উভয় ৮০০ টাকা করে প্রতিমাসে ভাতা পেয়ে থাকেন। সরকারি বেতন প্রতিমাসে পরিশোধ করা হলেও ইউনিয়ন পরিষদের প্রদত্ত বেতনের অংশ বছরের পর বছর বকেয়া থাকে। দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি, ইউনিয়নের কর আদায়, জন্ম-মৃত্যুর তথ্য সংগ্রহ, সপ্তা শেষে থানায় হাজিরা, থানা পুলিশকে সহায়তা করা ইত্যাদি কাজে গ্রামপুলিশরা গুরু দায়িত্ব পালন করে থাকেন। সরকারি এতসব দায়িত্ব পালন করেও একজন লেবার শ্রমিরে মূল্যও দেয়া হয়না অবহেলিত গ্রামপুলিশদের। এনিয়ে উপজেলার সরণজাই ইউনিয়ন পরিষদের দফাদার মজিবুর রহমান ও বাঁধাইড় ইউনিয়ন পরিষদের দফাদার সাদিকুল ইসলাম এপ্রতিবেদককে জানায়, গ্রামপুলিশের নিয়ে কেউ ভাবে না। বেতন-ভাতা কম হলেও রেশন ভাতাসহ অন্যান্য সুযোগ সুবিধা থেকে বঞ্চিত এই ডিজটাল যুগের গ্রামপুলিশেরা। চাকরি শেষে তাদের পেনশনের কোন ব্যবস্থাও নেই। সমাজে আর ১০ জনের মতো বেঁচে থাকতে অনেক কষ্ট হয় তাদের। কেউ তাদের মৌলিক চাহিদাগুলো নিয়ে নূন্যতম চিন্তা করে না। তারা পরিশেষে সরকারি কর্মচারির মতো সকল প্রকার সুযোগ সুবিধা বা মৌলিক চাহিদাগুলো বাস্তবায়নের জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরসহ প্রধানমন্ত্রীর জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
এবিষয়ে তানোর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাজেদা ইয়াসমীন জানান, বর্তমান ডিজিটাল যুগে গ্রামপুলিশের সকল সরকারি সুযোগ সুবিধা নিয়ে ভাবা উচিৎ। তাদের বেতন বৈষম্যের ব্যাপারে তিনি তার সংশ্লিষ্ট উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিকট লিখিত ভাবে অবহিত করবেন বলে জানান।




