নরসিংদী প্রতিনিধি : ইটের ভাটায় শিশুসহ ১৪ জন নারী-পুরুষকে আটকে রেখে নির্যাতনের অভিযোগে নরসিংদীর ভ্রাম্যমান আদালত রবিবার রাতে পলাশ উপজেলার ডাঙ্গা ইউনিয়নের কাজৈর গ্রামের এমএ ব্রিকস নামে ইটভাটায় অভিযান চালিয়ে তাদেরকে উদ্ধার করে। এর সাথে জড়িত ইটভাটার মালিক আব্দুল আজিজকে আটক করা হয়েছে। উদ্ধারকৃত শিশু সাজ্জাদ মিয়া (৪), খাদিজা আক্তার (৪), হাসান (৭), হোসেন (৩) এবং শিউলি আক্তার (২৫), আয়েশা আক্তার (২২), জরিনা বেগম (২৭), মনিরা বেগম (৩৫) শুক্কুর আলী (৩৫), ইয়াছিন মিয়া (২৫), রাকিব মিয়া (২২), ইয়াছিন মিয়া (২০), নাইম মিয়া (৪৫) ও আবু ইছাআলী শেখ (২৭) ।
উদ্ধারকৃতরা জানায়, তাদের বাড়ী খুলনার পাইকগাছা উপজেলার শান্তা ও গোরাইখালী গ্রামে। মানিকগঞ্জে একটি ইটভাটায় কাজ করার সময় ওই এলাকার মোবারক নামে এক লেবার সরদার ও দালাল সাইদ সরকার ও আসাদুল শেখের সাথে তাদের পরিচয় ঘটে। সেই সূত্র ধরে গত অক্টোবর ২০১৩ইং থেকে উল্লেখিত ইটেরভাটায় কাজ শুরু করে। কাজে যোগদানের পর প্রথম দুই মাস মোটামুটি ভাল চললেও এরপর থেকে তাদের উপর নেমে আসে অত্যাচার নির্যাতন। ইটভাটার মালিক আজিজ মিয়া ও তার ছোট ভাই বকুল মিয়া তাদেরকে ইটভাটায় রাতের বেলায় তালা বদ্ধ করে রেখে এবং দিনের বেলায় পাহাড়া দিয়ে রাখা হতো। সপ্তাহে ৩ দিন কিছু চাল আর সব্জী দিতো। পরের ৩ দিন অনাহারে কাটাতে হতো। এ অবস্থায় ইকবাল সোহেল নামে দুই শ্রমিক পালিয়ে যায়। এই সুযোগে তাদের উপর অত্যাচার নির্যাতন আরো বেড়ে যায়। ইটভাটার ম্যানেজার মুসা, ইঞ্জিন মিস্ত্রী মুকবুল ঘরে ঢুকে শিউলি আক্তার ও আয়েশা আক্তারের সাথে জোরপূর্বক দৈহিক সান্নিধ্য লাভের চেষ্টা করে কিন্তু তারা রাজী না হওয়ায় তাদেরকে অমানবিকভাবে শারীরিক নির্যাতন করে। গত ২০ ফেব্রুয়ারী ইকবাল ও সোহেল মিয়া ইটভাটা থেকে পালিয়ে গিয়ে সেন্টার ফর হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড সোসাল ডেভেলপমেন্ট নামে একটি মানবাধিকার সংস্থার মাধ্যমে নরসিংদী জেলা প্রশাসকের কাছে একটি অভিযোগ পত্র প্রেরন করে। এই অভিযোগের ভিত্তিতেই জেলা প্রশাসক মোঃ ওবায়দুল আজম, নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট কামরুন্নাহারের নেতৃত্বে ভ্রাম্যমান আদালত নিয়ে ইটেরভাটায় অভিযান চালিয়ে উল্লেখিত শ্রমিকদেরকে উদ্ধার করে। এ ব্যাপারে পলাশ থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।




