ইয়ানুর রহমান, যশোর : এবার যশোরের বেনাপোল নোমান্সল্যান্ডে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে জমেনি দুই বাংলার মিলনমেলা। অনুষ্ঠানে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের যোগদান করিয়ে বির্তকের সৃষ্টি করেছেন পৌর মেয়র আশরাফুল আলম লিটন। বহু শহীদের রক্তে স্নাত বাংলা ভাষার মর্যাদা রক্ষার ঐতিহাসিক ও আত্মত্যাগী সংগ্রাম মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উদযাপন উপলক্ষে শুক্রবার সকালে বেনাপোল নোম্যান্সল্যান্ডে দুই বাংলার ‘বাংলা ভাষাপ্রেমী’ মানুষের মিলন মেলা হওয়ার কথা ছিল। কিন্ত অনুষ্ঠান হয়েছে সাদামাটা। মিলনমেলা বলতে যা বোঝায় তার সিকি পরিমান হয়নি।

নোম্যান্সল্যান্ডে উদযাপিত ২১ মঞ্চে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ সরকারের খাদ্য মন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লি¬ক বলেন, আমাদের দু-বাংলার ভাষা এক। তাইতো বাংলাদেশের মানুষের কোন দুঃসংবাদ শুনলে আমাদের চোখ দিয়ে টসটস করে জল ঝরে। এজন্য ২১ এর এই দিনে ভারত সরকারের যতোই গুরুত্বপূর্ণ কাজ থাকুক না কেন আমরা ছুটে আসি বাংলাদেশের বিভিন্ন সীমান্তে। ক্ষনিকের জন্য হলেও তৃপ্তি মেটাই দু-বালার বাংলা ভাষা প্রেমিদের মিলন মেলায়।
যশোর জেলা প্রশাসক মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ৫২’র ভাষা সংগ্রামের পথ ধরেই বাংলাদেশের স্বাধীনতা এসেছে। বৃটিশরা আমাদের বাংলা ভাষাকে বিভক্ত করতে পারেনি। আর এই স্বাধীনতা সংগ্রামে ভারতের জনগণ ও সরকার আমাদের পাশে দাঁড়িয়েছিল। সে জন্য আমরা তাদের প্রতি কৃতজ্ঞ।
তবে, এবার নোম্যান্সল্যান্ডের মিলন মেলায় প্রকৃত মিলন হয়নি বলে জানালেন এলাকার সূধীজনেরা। তারা বলেন, এবার বেনাপোলের কয়েকটি সংগঠনসহ বহিরাগত কোন দর্শনার্থী বেনাপোল নোম্যান্সল্যান্ডে না আসায় এবারের মিলন মেলা জমে ওঠেনি। অবশেষে এ মিলন মেলাকে জমাতে বেনাপোলের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে ছাত্রছাত্রী এনে মিলন মেলার অনুষ্ঠান করা হয়েছে বলে এলাকায় অভিযোগ উঠেছে।
এলাকাবাসি আক্ষেপ করে বলেন, কিছুদিন পূবে বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্ট কর্তৃক সমস্ত সভা সেমিনারসহ কোন এমপি মন্ত্রীর অনুষ্ঠানে স্কুলের কোমলমতি শিক্ষার্থীদের নিতে নিষেধাজ্ঞা জারি হওয়া সত্তে¡ও শুক্রবার নোম্যান্সল্যান্ডের এই ২১ উদযাপনে ভারতের খাদ্যমন্ত্রীকে সন্তোষ্ট করার জন্য প্রশাসনের উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তাদের সামনেই বেনাপোলের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে শিক্ষার্থী নেওয়া হয়। তবু, লোক সমাগমের অভাবে নোম্যান্সল্যান্ডে অবস্থিত এপারের মঞ্চে আলোচনা সভার মাঝেই ছন্দ পতন ঘটে। উৎসুক শিল্পপ্রেমীরা ছুটে যায় ভারতের পেট্রাপোল ২১ এর গানের মঞ্চে। একেক করে এ মঞ্চের সামনে থেকে উঠতে থাকে সাধারণ মানুষসহ ছাত্রছাত্রীরা। ছন্দ পতন ঘটে ভারত সরকারের পশ্চিমবঙ্গের খাদ্য মন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকের। পরে ভারতের মঞ্চে সকলের গান শোনার নির্দেশনা দিয়ে এপারের অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করেন বেনাপোল পৌর মেয়র আশরাফুল আলম লিটন।
ওপারের মঞ্চে একুশের কবিতা আবৃতি, ছড়া, গীতিনাট্য ও সংগীতানুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। পরে, ভাষা শহীদদের স্মরণে দু’বাংলার মানুষের স¤প্রতি আর ভালোবাসার বাধনকে আরো সুদৃঢ় করার প্রত্যয় নিয়ে শেষ হয় ভাষা প্রেমিদের মিলন মেলা।
বাংলাদেশের পক্ষে অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন বেনাপোল পৌর মেয়র আশরাফুল আলম লিটন। এ সময় ভারতের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন, বনগাঁ বিধায়ক বিশ্বজিৎ দাস, বনগাঁ পৌর মেয়র জোৎস্না আঢ্য, উত্তর ২৪ পরগনা জেলা পরিষদের সভাপতি রহিমা মন্ডল, সহকারী সভাপতি কৃষ্ণ গোপাল ব্যানার্জী, বনগাঁ পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি অনিমা মন্ডল, গাইঘাটা বনগা পঞ্চায়েত সমিতির সহ-সভাপতি ধ্যানেশ গুহ, দুই বাংলা মৈত্রী সমিতির কো-অর্ডিনেটর টিংকু দত্ত।
বাংলাদেশের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন যশোর জেলা প্রশাসক মোস্তাফিজুর রহমান, পুলিশ সুপার জয়দেব কুমার ভদ্র, ২৬ বিজিবি ব্যাটলিয়নের সিও লে. কর্ণেল মতিউর রহমান, শার্শা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এটিএম শরিফুল আলম, সহকারী ভুমি কমিশনার আরিফ-উজ-জামানসহ দু-দেশের বিভিন্ন সংগঠনের বাংলা ভাষা প্রেমীরা।




