শ্যামলবাংলা ডেস্ক : উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের প্রথম ধাপের ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে বুধবার সকাল ৮টায়। যা চলবে একটানা বিকেল ৪টা পর্যন্ত। দেশের চতুর্থ এই উপজেলা পরিষদ নির্বাচন এবার ৬ টি ধাপে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ১৯ ফেব্রুয়ারী বুধবার প্রথম ধাপে ৯৭টি উপজেলায় ভোটগ্রহণ করা হচ্ছে।

এ নির্বাচনকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে চলছে নানা হিসাব-নিকাশ। অরাজনৈতিক স্থানীয় সরকার পর্যায়ের এ নির্বাচন এখন পুরোপুরি রাজনৈতিক। অন্য দলগুলো অংশ নিলেও এ নির্বাচন হবে আওয়ামী লীগ-বিএনপি লড়াই। জাতীয় নির্বাচন বর্জনকারী দেশের অন্যতম বৃহৎ রাজনৈতিক দল বিএনপি সমর্থিত প্রার্থীরা এ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করছে।
গত ৫ জানুয়ারির দশম সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী আওয়ামী লীগ এ নির্বাচনকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। একইভাবে বিএনপিও নিজ দল সমর্থিত প্রার্থীদের বিজয়ী করতে মরিয়া হয়ে মাঠে নেমেছে। এ নির্বাচনে ভালো ফলের মাধ্যমে জনমত নিজেদের পক্ষে দেখাতে চায় তারা।
আওয়ামী লীগ মনে করছে, এ নির্বাচনে ভালো ফল পেলে বিগত সংসদ নির্বাচনে বিএনপি অংশ নিলেও তারা বিজয়ী হতো বলে ধরে নেওয়া হবে। অন্যদিকে বিএনপি মনে করছে, এ নির্বাচনে তাদের সমর্থিত প্রার্থীরা বেশি বিজয়ী হলে প্রমাণ হবে বিগত সংসদ নির্বাচনে অংশ নিলে তারাই বিজয়ী হতো। যে কারণে তৃণমূল নেতাকর্মীদের পাশাপাশি বড় দুই রাজনৈতিক দলের কেন্দ্রীয় নেতারাও বেশ তৎপর। প্রার্থী বাছাই থেকে শুরু করে প্রচারণার প্রতিটি বিষয়ে কেন্দ্র থেকে মনিটরিং করা হয়েছে। এমনকি প্রার্থীদের পক্ষে পোলিং এজেন্টদের বিশেষ প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তবে নানা তৎপরতা সত্ত্বেও বড় দুটি দলই বিদ্রোহী প্রার্থীদের নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হয়েছে।
বিএনপির একাধিক নেতা বুধবার বলেছেন, উপজেলা নির্বাচনে কারচুপি হলে তারা আন্দোলনে নামবেন। প্রধান নির্বাচন কমিশনার কাজী রকিবউদ্দীন আহমদ বলেছেন, জাতীয় নির্বাচনের মতো সহিংসতার পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে সব ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া সব রাজনৈতিক দলসমর্থিত প্রার্থীদের অংশগ্রহণে নির্বাচনে প্রাণবন্ত হবে বলেও তিনি আশাবাদী।
৯৭টি উপজেলার মধ্যে কমপক্ষে ৫৩টিতেই আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী রয়েছেন, অন্যদিকে বিএনপিরও ৪৩টি উপজেলায় বিদ্রোহী প্রার্থী রয়েছেন। যদিও তাদের অনেকে ইতিমধ্যে সমঝোতার মাধ্যমে দলীয় প্রার্থীর সমর্থনে নির্বাচনী মাঠ থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন। কয়েকজন বিদ্রোহী প্রার্থীকে ইতিমধ্যে দল থেকে বহিষ্কারও করা হয়েছে।
যে সব উপজেলায় ভোটগ্রহণ :
কুড়িগ্রামের উলিপুর, ফুলবাড়ী ও ভুরুঙ্গামারী; কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা ও সদর; কিশোরগঞ্জের বাজিতপুর, নিকলী, করিমগঞ্জ; খুলনার দীঘলিয়া ও কয়রা; খাগড়াছড়ি সদর, রামগড়, পানছড়ি, মানিকছড়ি, মাটিরাঙ্গা ও মহালছড়ি; গাইবান্ধার সাঘাটা ও গোবিন্দগঞ্জ; গাজীপুরের কাপাসিয়া, গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী ও মুকসুদপুর; চট্টগ্রামের হাটহাজারী, মিরসরাই, চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোল; জামালপুরের সদর ও সরিষাবাড়ী; ঝিনাইদহের সদর, কালীগঞ্জ; কোটচাঁদপুর ও শৈলকূপা; ঢাকার দোহার ও নবাবগঞ্জ; দিনাজপুরের কাহারোল ও খানসামা; নওগাঁর মহাদেবপুর ও রানীনগর; নড়াইলের কালিয়া, নরসিংদীর পলাশ ও বেলাবো; নাটোরের সিংড়, নীলফামারীর ডিমলা, সৈয়দপুর ও জলঢাকা; নেত্রকোনার দুর্গাপুর ও কেন্দুয়া; পঞ্চগড়ের সদর ও বোদা; আটোয়ারী ও দেবীগঞ্জ; পাবনার সাঁথিয়া, আটঘরিয়া ও সুজানগর; বগুড়ার সারিয়াকান্দি, শেরপুর, ধুনট, নন্দীগ্রাম, দুপচাঁচিয়া ও সোনাতলা; বরিশালের বাকেরগঞ্জ ও গৌরনদী; ভোলার লালমোহন, মাগুরার সদর ও শ্রীপুর; মাদারীপুরের কালকিনি, মানিকগঞ্জের দৌলতপুর, শিবালয়, সিংগাইর ও সাটুরিয়া; মেহেরপুর সদর, মৌলভীবাজারের কুলাউড়া, যশোরের অভয়নগর, রংপুরের তারাগঞ্জ, মিঠাপুকুর, রাজবাড়ীর সদর, পাংশা ও বালিয়াকান্দি, রাজশাহীর মোহনপুর, শরীয়তপুরের ডামুড্যা, জাজিরা, গোসাইরহাট ও ভেদরগঞ্জ; সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার, দক্ষিণ সুনামগঞ্জ ও ছাতক; সাতক্ষীরার আশাশুনি, সিরাজগঞ্জের সদর, রায়গঞ্জ, উল্লাপাড়া ও কাজীপুর; সিলেটের বিশ্বনাথ, জকিগঞ্জ, কোম্পানীগঞ্জ, গোলাপগঞ্জ; গোয়াইনহাট ও জৈন্তাপুর; হবিগঞ্জের মাধবপুর ও বাহুবল।

এতে চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান ও নারী ভাইস চেয়ারম্যান পদে মোট এক হাজার ২৭৪ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এর মধ্যে চেয়ারম্যান পদে ৪৩২ জন, ভাইস চেয়ারম্যান পদে ৫১৩ জন ও নারী ভাইস চেয়ারম্যান পদে ৩২৯ জন রয়েছেন। নির্বাচনে মোট ভোটার এক কোটি ৬৪ লাখ ৭৮ হাজার ১শ ৭২ জন। এর মধ্যে পুরুষ ৮১ লাখ ৯১ হাজার ৫শ ৩৭ এবং নারী ৮২ লাখ ৮৬ হাজার ৬শ ৩৫ জন। ভোটকেন্দ্র ৬ হাজার ৯শ ৯৫টি এবং ভোটকক্ষ ৪৩ হাজার ২শ ৯০টি।




