মজনু, রূপগঞ্জ (নারায়ণগঞ্জ) : ‘হ্যালো, শান্তা বলছেন? না, আমি শান্তা নই, আকলিমা। প্রেমের টানে ঘর ছেড়েছি। আমরা বিয়ে করেছি। সুখে আছি। শান্তিতে আছি। আমার মা, বাবা সব জানেন। তারপরও তারা অপহরণ মামলা করেছেন। আমি জোর দিয়ে বলতে চাই, আমাকে কেউ অপহরণ করেনি। স্বেচ্ছায় ঘর ছেড়েছি।’ এভাবেই জানিয়ে দেন প্রেমিকের হাত ধরেই অজানার উদ্দেশ্যে পাড়ি জমানো চনপাড়া পুনর্বাসনকেন্দ্রের শান্তা রানী। প্রেমিক হেলালের সঙ্গে দীর্ঘদিনের ভালবাসার চূড়ান্ত রূপ দিতেই দশম শ্রেণীর ছাত্রী শান্তা পালিয়েছেন ঘর ছেড়ে। ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে প্রেমিক হেলালকে বিয়ে করে সুখেই আছেন আকলিমা। এ নিয়ে কোন ঝামেলা না করতে পিতার মোবাইল ফোনে ফোন করে জানিয়ে দিয়েছেন আকলিমা। আকলিমা এখন চনপাড়া পুনর্বাসনকেন্দ্রের বাবুল মিয়ার হোটেলের কর্মচারী হেলালের স্ত্রী।

জানা যায়, ২০ জানুয়ারি প্রেমিকের হাত ধরে চনপাড়া পুনর্বাসনকেন্দ্রের নবকিশালয় উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্রী ৬নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা সন্তুনাথ দে’র মেয়ে শান্তা রানী বাড়ি থেকে পালিয়ে যায়। এরপর বিভিন্ন জায়গায় তার অভিভাবকরা খোঁজাখুঁজি করলেও তার কোন সংন্ধান না পেয়ে ৫ ফেব্রæয়ারি রূপগঞ্জ থানায় হেলালকে আসামি করে থানায় অপহরণ মামলা দায়ের করেন। রূপগঞ্জ থানায় মামলা হয়েছে এ সংবাদ পেয়ে শান্তা রানী তার পিতা-মাতাকে তার স্বামীর মোবাইল নম্বর থেকে ফোন করে তাকে অপহরণ করা হয়নি বলে জানিয়ে দেন। তার পিতা ও হোটেল মালিক বাবুলের কাছে ফোন করে জানান, তিনি স্বেচ্ছায় প্রেমিক হেলালের সাথে চলে গেছেন এবং ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছেন। তার আগের নাম পরিবর্তন করে আকলিমা আক্তার নামে তার প্রেমিক হেলালকে বিয়ে করেছেন। বলেন, আমি আমার হিন্দু পিতা-মাতা ও আত্মীয়-স্বজনের সাথে আর কোন যোগাযোগ করতে চাই না। আমি হেলালকে বিয়ে করে সুখে আছি। এ ঘটনা মানতে নারাজ শান্তা রানীর পিতা সন্তুনাথ দে ও তার মা ও পরিবারের লোকজন। তাদের দাবি, হেলাল ও তার আত্মীয়-স্বজনরা তার সুন্দরী মেয়েকে জোর করে অপহরণ করে নিয়ে আটক রেখেছে। তাকে ভয়ভীতি ও হুমকি দিয়ে হেলালের ফোন দিয়ে তার মেয়েকে বাধ্য করছে এসব কথা বলতে। আমার মেয়ের বর্তমান বয়স ১৫ বছর। সে দশম শ্রেণীর ছাত্রী। তার বিয়ের বয়স হয়নি। আমরা থানায় মামলা করেছি। পুলিশ আমার মেয়েকে উদ্ধার করে এনে দিক। আমি আমার মেয়েকে ফেরত চাই। আমরা এ বিয়ে মানি না। এদিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক শান্তা রানীর এক সহপাঠী জানান, ষষ্ঠ শ্রেণীতে ভর্তি হওয়ার পর থেকেই হেলাল ও শান্তা প্রেমে জড়িয়ে পড়ে। দীর্ঘ ৫ বছর তাদের সম্পর্ক। এ ঘটনা শান্তার অভিভাবকসহ অনেকেই জানতো। তারা দুজন দুই ধর্মের হওয়ায় তাদের প্রেম মেনে নিতে চাচ্ছে না শান্তার পরিবারের লোকজন। শান্তাকে কখনোই অপহরণ করা হয়নি। শান্তা চলে যাওয়ার বেশ কয়েকদিন আগে সে তার বান্ধবীদের কাছে হেলালের সাথে পালিয়ে গিয়ে বিয়ে করার কথা জানিয়েছিল। সে হেলালকে না পেলে আত্মহত্যা করবে বলেও হুমকি দিয়েছিল তার পরিবারের কাছে। শান্তা রানী পালিয়ে যাওয়ার পর তার মা ও আত্মীয়-স্বজনদের সাথে সে প্রায় প্রতিদিনই যোগাযোগ করেছে বলে জানিয়েছে তার সহপাঠীরা। এদিকে চনপাড়া পুনর্বাসনকেন্দ্রে শান্তা রানীর এলাকার লোকজন জানান, প্রতিদিন হেলাল ও শান্তার প্রেমের অভিসার দেখেছে এলাকাবাসী। শান্তার বাসায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা অবস্থান করতো হেলাল। এসব ঘটনা নিয়ে এ প্রতিবেদক মোবাইল ফোনে কথা বলতে চাইলে ফোনটি শান্তাকে ধরিয়ে দেন হেলাল। শান্তা বলেন, আমি এখন আকলিমা আক্তার। আমাকে কেউ অপহরণ করেনি। প্রেমের টানে ঘর ছেড়েছি। হেলালকে বিয়ে করেছি। তার বাবা-মা হেলালের সাথে সম্পর্কের কথা জানতেন আগে থেকেই। এখন আক্রোশবশত থানায় মামলায় করেছেন। তিনি দশম শ্রেণীর ছাত্রী হলেও একটানা ৩ বছর লেখাপড়া থেকে বিরত ছিলেন। পুনরায় অষ্টম শ্রেণীতে ভর্তি হয়ে তিনি লেখাপড়া করছেন। তার জন্ম নিবন্ধন কার্ডে ১৮ বছরের সাবালিকা বলে জানান শান্তা ওরফে আকলিমা।




