কুষ্টিয়া প্রতিনিধি : কুষ্টিয়ায় বর্ণাঢ্য আয়োজনে বিশ্ব জলাভূমি দিবস পালিত হয়েছে। কুষ্টিয়ায় এই প্রথম বারের মতো বিশ্ব জলাভূমি দিবস পালন করেছে অচিমত্ম্য অনিমা প্রকৃতি ও প্রাণ গবেষনা কেন্দ্র এবং এনজিও প্রতিষ্ঠান সাফ। বিশ্ব জলাভূমি দিবস উপলক্ষে রবিবার সকালে কুষ্টিয়া কালেক্টরেট চত্বরে মানব বন্ধন ও পথসভা অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসক কৃষিবিদ সৈয়দ বেলাল হোসেন।

প্রধান অতিথি তার বক্তব্যে বলেন, প্রতিদিন আমাদের জনসংখ্যা বাড়ছে কিন্তু কমছে আবাদি ও জলাভূমি। জলাভূমি ভরাট হওয়ার কারণে ঘাটতি সৃষ্টি হয়েছে মাছের যোগানে। আমাদের প্রাণীজ প্রোটিন মাছের যোগান স্বাভাবিক রাখতে জলাভূমি সংরক্ষণ এখন সময়ের দাবি। জেলা প্রশাসক বলেন, জলাভূমি সংরক্ষনে আইন প্রনিত হয়েছে। কিন্তু আইনের প্রয়োগের চাইতে এখন আমাদের প্রয়োজন এ সংক্রামেত্ম জনসচেতনতা সৃষ্টি। জলাভূমি ভরাটের কুফল সম্পর্কে জনগণ সচেতন হলেই কেবল জলাভূমি সংরক্ষণ করা সম্ভব। কৃষিবিদ সৈয়দ বেলাল হোসেন বলেন, জলাভূমি ভরাট হওয়ায় মাছ কমছে। অনেক প্রজাতির মাছ এখন বিলুপ্তির তালিকায়। জল সংকটে পড়ে আমাদের বনজ সম্পদ কমছে। গাছের স্বাভাবিক বৃদ্ধি থেমে গেছে। জলসংকটের কারণে কৃষি উৎপাদন ব্যহত হচ্ছে। ভূপৃষ্ঠস্থ সত্মরে জল না থাকায় আমাদের সেচের চাহিদা পূরণে ভূগর্ভস্থ সত্মরের উপর নির্ভরতা বাড়ছে। যা আমাদের কৃষি ও জীববৈচিত্রের জন্য হুমকী স্বরূপ। বিশ্বের সকল কৃষি প্রধান দেশ এখন একই সমস্যা ভোগ করছে আর তা হলো জলাভূমি সংকট। তিনি বলেন জল সম্পদের স্বল্প রিসোর্সের উপর নির্ভর করে অধিক খাদ্য উৎপাদন, মাছের প্রাপ্তি নিশ্চিত, জীববৈচিত্র রক্ষা এবং প্রকৃতি ও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার আন্দোলন বেগবান করতে হবে।
জাতিসংঘ ঘোষিত ‘‘জলাভূমি ও কৃষি, উন্নয়নের সহযোগী’’ প্রতিপাদ্যের আলোকে মানববন্ধন ও পথসভার কর্মসূচীতে সভাপতিত্ব করেন অচিমত্ম্য অনিমা প্রকৃতি ও প্রাণ গবেষনা কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা বিশিষ্ট কলামিষ্ট গৌতম কুমার রায়। বিশেষ অতিথির বক্তৃতা করেন, বিশিষ্ট ক্রীড়া ব্যাক্তিত্ব ও কলামিষ্ট জহুরুল হক রঞ্জু চৌধুরী, সাংবাদিক জামাল উদ্দিন হায়দারী ও কুষ্টিয়া প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি অধ্যক্ষ রাশেদুল ইসলাম বিপ্লব, সাফ’র নির্বাহী প্রধান মীর আব্দুর রাজ্জাক, সুফলা পত্রিকার সম্পাদক সৈয়দ খায়রুল বাশার।
জীববৈচিত্র ও প্রাণ বৈচিত্র রক্ষায় জলাভূমি রক্ষার এ আন্দোলনে দেশব্যাপী জনমত গঠনের অঙ্গিকার ব্যাক্ত করেন বক্তাগণ। মানববন্ধনে জিও, এনজিও, পেশাজীবি এবং সর্বসত্মরের গনমাধ্যমকর্মীবৃন্ধ অংশগ্রহণ করেন।




