আমতলী প্রতিনিধি : উপকুলীয় জেলা বরগুনার আমতলী উপজেলার গুলিশাখালী ইউনিয়নের ডালাচারা গ্রামের হতদরিদ্র মতলেব মিয়ার স্ত্রী নুপুর বেগম বেসরকারী উন্নয়ন সংস্থা এনএসএস পরিচালিত রি-কল প্রকল্পের সহযোগিতায় গড়ে ওঠা একতা গণসংগঠনের একজন সক্রিয় সদস্য । তাদের রয়েছে ২টি কন্যা সন্তান ,তাদের কেউ এখনও স্কুল উপযোগী হয়নি।মতলেব মিয়া গ্রামের বিভিন্ন যায়গা ঘুরে ঘুরে কলা-কচু ,শাক-পাতা সংগ্রহ করে বাজারে বিক্রি করেন । কিছু দিন আগেও খুব কষ্টে দিন কাটত তাদের।সন্তানদের অসুখ-বিসুখ লেগেই থাকত,স্বামী-স্ত্রী নিজেরাও ভুগছিলেন অপুস্টিতে । বসত ভিটায় ৫ শতাংশ জমি ছাড়া নিজেদের চাষের কোন জমি বা উৎপাদক্ষম কোন সম্পদ নেই ।

একতা গণসংগঠনের মাসিক সভায় ক্ষুুদ্র ব্যবসা পরিচালনার জন্য উপকারভোগী হিসেবে নির্বাচিত হয়ে ২০১৩ সালের নভেম্বর মাসে মাসে রি-কল প্রকল্প থেকে তিনি অফেরতযোগ্য ১৩,০০০ টাকা গ্রহন করেন এবং নিজ উদ্যোগে বাড়ীর কাছে তিন রাস্তার মোড়ে একটি দোকান ঘর তৈরি করেন এবং প্রকল্প থেকে যে টাকা পেয়েছেন তা দিয়ে দোকানের মালাল কিনে শুরু করেন মুদি দোকান ।
মুদি মালের পাশাপাশি তার দোকানে চা বিক্রি করেন। তার দোকান খুব ভাল চলছে ।প্রতিদিন গড়ে ১০০০-১২০০ টাকা বিক্রি হয় এবং তিনি কম পক্ষে দৈনিক ২৫০-৩০০ টাকা লাভ করেন ।এখন তার সংসারে অভাব নেই ।তিন বেলা সন্তানদের মুখে খাবার তুলে দিতে পারেন,চিকিৎসা করাতে পারেন,নিজের যত্ন নিতে পারেন ।তার ইচ্ছা, দোকানের আয় থেকে আস্তে আস্তে তাদের ঘরটিকে মজবুত করবেন এবং সন্তানের ভবিষ্যতের জন্য নিয়মিত কিছু টাকা সঞ্চয় করবেন ।

নুপুর বেগম এখন অন্য নারীদের নিকট অনুকরনীয় হয়ে উঠেছেন যারা নিজেদেরকে বোঝা মনে না করে একজন উপার্জনকারী হিসেবে দেখতে চান । তিনি সবাইকে বলেন ,প্রত্যেক নারীর একটি আয়ের উৎস থাকা উচিৎ যাতে তারা মাথা উচু করে বাচতে পারেন । একটি মুদি দোকানের মালিক হতে পেরেসে নিজে খুবই গর্বিত ।




