ইমরান হোসাইন, তানোর : রাজশাহীর তানোরে ই-সেবায় (অন-লাইনে) জন্ম নিবন্ধন প্রস্তুত করতে জেলা প্রশাসকের কড়া নির্দেশনা থাকলেও ই-সেবা চালুর তিন বছরেও এর বাস্তবতা ঘটেনি। একারণে পুরো উপজেলার ৭টি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও সচিবের বেতন-ভাতা স্থগিত করে ৩১ জানুয়ারীর মধ্যে শতভাগ ই-সেবা প্রস্তুত করার নির্দেশ দেয়া হয়। এদিকে, পরিষদের চেয়ারম্যান ও সচিবের এমন কর্মকান্ডে সর্বমহলে সমলোচনার ঝড় উঠেছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, উপজেলার ৭টি ইউনিয়ন পরিষদের জন্ম নিবন্ধনসহ যাবতীয় কাজ ই-সেবার আওতায় নিয়ে আসতে বিগত প্রায় তিন বছর ধরে পরিষদের চেয়ারম্যান ও সচিবদের তাগাদা দেয়া হলেও তা বাস্তবায়ন করতে ব্যর্থ হন তারা। একারণে গত বছরের শেষের দিকে জেলা প্রশাসক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার মাধ্যমে কড়া নির্দেশনা দেন। এরপরও সংশ্লিষ্ট পরিষদের চেয়ারম্যান ও সচিবরা ডিসির নির্দেশানার কোন তোয়াক্কা না করে পূর্বের ন্যায় হাতে-কলমে এসব কাজ সম্পূর্ণ করে আসছেন। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে জেলা প্রশাসক গত দুমাস ধরে প্রত্যেক ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও সচিবদের বেতন-ভাতা স্থগিত করেছেন।
এনিয়ে তালন্দ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আখেরুজ্জামান হান্নান ও কামারগাঁ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোসলেম উদ্দিন তাদের বেতন-ভাতা বন্ধের কথা স্বীকার করে জানান, যে সামান্য বেতন দেয়া হয় তা আবার বন্ধ রাখা হয়েছে। বেতন-ভাতা বন্ধ রেখে পরিষদের সেবার কাজ করানো যাবে না। তাদের সুযোগ মত ই-সেবা চালু করা হবে। এছাড়া ই-সেবা চালু করতে দক্ষ কম্পিউটার অপারেটর প্রয়োজন। এমন দক্ষ অপারেটর বিনা বেতনে কাজ করতে আগ্রহী নন। একারণে তাদের পরিষদে অল-লাইনে শতভাগ সেবা চালু করা সম্ভব হচ্ছে বলে এড়িয়ে যান।

এনিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাজেদা ইয়াসমীনের মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তিনি তার মোবাইল ফোন রিসিভ করেন নি।
এব্যাপারে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ হলে রাজশাহী জেলা প্রশাসক মেসবাহ উদ্দিন চৌধুরী জানান, আগামী ৩১ জানুয়ারীর মধ্যে তানোর উপজেলার প্রত্যেক পরিষদের চেয়ারম্যান ও সচিবদের অল-লাইনে জন্ম নিবন্ধনসহ যাবতীয় কাজ শেষ করতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। যদি কোন ইউনিয়ন পরিষদ নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করতে ব্যর্থ হয় তাহলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।




