ইমরান হোসাইন, তানোর : আসন্ন উপজেলা নির্বাচনের তপসিল ঘোষনায় রাজশাহীর তানোর উপজেলাতে সম্ভব্য প্রাথীরা তৎপরতা শুরু করেছেন। এনির্বাচন দলীয় ভিত্তিতে অনুষ্ঠিত না হলেও বিশেষ করে আওয়ামী-লীগ, বিএনপি’র সম্ভাব্য প্রার্থীরা দলীয় সর্মথনে মাঠে নেমেছেন। দলীয় মনোনয়ন নিতে সমর্থকদের নিকট নিজের যোগ্যতা তুলে ধরে অভিপ্রায় ব্যক্ত করে দোয়া ও প্রার্থনা চাইছেন।

আবার অনেকে ভিন্ন ভিন্ন কৌশলে উপজেলা নির্বাচনে মনোনয়ন পাওয়ার জন্য দলীয়ভাবে প্রচেষ্টা চালাচ্ছেন। ১৮ দলীয় জোট ১০ম জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের বিরোধিতা করলেও উপজেলা নির্বাচন ঘিরে বিএনপি’র নেতারা নির্বাচনে অংশ গ্রহণ করতে মাঠে নেমেছেন। তারা তাদের দলীয় সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় না থেকে এলাকায় নির্বাচনী প্রচারনায় নেমে পড়েছেন। বর্তমানে তানোর উপজেলায় নির্বাচনী হাওয়া বইতে শুরু করেছে। উপজেলার বিভিন্ন চায়ের দোকানে, হোটেল-রেস্তোরাঁ, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও হাট-বাজারে সম্ভাব্য প্রার্থীদের নিয়ে ব্যাপক আলাপ-আলোচনা চলছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, উপজেলার ৭টি ইউনিয়ন ও দু’টি পৌরসভা নিয়ে তানোর উপজেলা গঠিত। পুরো উপজেলাতে মোট ভোটারের সংখ্যা ১ লক্ষ ৮৫ হাজার ৭৩০ জন। এরমধ্যে ৯০ হাজার ৫৩০ জন নারী ও ৯৫ হাজার ২০০ জন পুরুষ ভোটার রয়েছে।

তানোর উপজেলার চেয়ারম্যান পদে সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে যাদের নাম শোনা যাচ্ছে তারা হলেন বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা বিএনপি’র সভাপতি এমরান আলী মোলা, সাধারণ সম্পাদক ও চাঁন্দুড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মফিজ উদ্দিন, উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক ও কামারগাঁ ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুলাহ-আল-মামুন, তানোর পৌর আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ প্রদীপ সরকার। তবে, জাতীয় পার্টি ও জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কারো নাম শোনা যায়নি।
তবে, এসব প্রার্থীরা উপজেলা চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্ব›দ্বীতা করতে জোর তৎপরতা শুরু করেছেন। দলীয় ভাবে এ নির্বাচনে প্রতিদ্বদ্বিতা করার সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় না থেকেও তারা প্রচারণায় নেমে পড়েছেন। এই বড় দুটি দলের সম্ভাব্য প্রার্থীরা প্রচারণায় এগিয়ে থাকতে চান। তাই সময় নষ্ট না করে তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছেন। উপজেলা নির্বাচনের তারিখ ঘোষনা পর তানোর উপজেলা সরব হয়ে উঠবে এবং নির্বাচনী হাওয় আরও জোরে বইতে শুরু করবে এমন প্রত্যাশায় এলাবাসি ভোটের আমেছে মেতে উঠেছেন।
এনিয়ে রাজশাহী পশ্চিম জেলা জামায়াতের আমীর আমিনুল ইসলাম নির্বাচনে অংশ গ্রহণ করবেন কি না এসম্পর্কে তিনি কোন সিদ্ধান্ত নেননি। তবে, দলের পক্ষ থেকে তাকে নির্বাচনে দাঁড়ানোর জন্য বলা হলে তিনি নির্বাচন করার ইঙ্গিত দেন।
এনিয়ে উপজেলা বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক মফিজ উদ্দিন জানান, উপজেলা নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন পাবার তিনিই প্রাপ্প। তিনি যেকোন কারণে দলীয় মনোনয়ন না পেলেও নির্বাচন থেকে পিচ পা হবেন না বলে জানান।
এনিয়ে তানোর পৌর আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক প্রদীপ সরকার জানান, তিনি ছাত্র রাজনীতি থেকেই এপর্যন্ত দলের নিবেদিত প্রাণ হয়ে কাজ করে আসছেন। িিতনিই কেবল উপজেলা নির্বাচনে মনোনয়ন পাবার যোগ্য প্রার্থী বলে জানান।
এনিয়ে উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুলাহ-আল-মামুন বলেছেন, গত উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে তার দলের একাধিক প্রার্থী থাকায় তিনি পরাজিত হয়েছেন। এবারে দলের মনোনয়ন পাবার তিনিই একমাত্র হকদার। তাকে ছাড়া দলের অন্য কাউকে মনোনয়ন দেয়া হলে নিশ্চিত দলীয় পরাজয় ঘটবে বলে তিনি আশঙ্কা করেন।
এনিয়ে উপজেলা বিএনপি’র সভাপতি ও বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যান এমরান আলী মোলা জানান, দলের দুর্দিনে মাঠে থেকে দলীয় বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করছেন। এক্ষেত্রে এতটুকু পিছ পা হন না তিনি। এরপরও বর্তমানে তিনি নির্বাচিত চেয়ারম্যান। বর্তমান পরিস্থিতিতে দল অন্য কাউকে উপজেলা নির্বাচনে প্রার্থী হিসাবে নিয়ে আসবে না বলে তিনি আশাবাদী।




