জাকির হোসেন, ছাতক (সুনামগঞ্জ) : ছাতকে লাফার্জ সুরমা সিমেন্ট কারখানার বিভিন্ন পর্যায়ের শ্রমিকরা মানব বন্ধন ও বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছে। বৃহস্পতিবার সকালে কারখানার প্রধান ফটকে চাকুরী স্থায়ীকরনের দাবীতে এ মানব বন্ধন ও বিক্ষোভ প্রদর্শন করে তারা। লাফার্জ সাপোর্ট ষ্টাফ শ্রমিকদের ব্যানারে মানব বন্ধন চলাকালে বিক্ষোভ সমাবেশে তাদের দাবী দীর্ঘদিন ধরে মধ্যস্বত্বভোগী ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানগুলো ব্যবসা করে আসছে বলে দাবী করা হয়। শ্রমিকদের কায়িত অর্থ অধিকাংশই মধ্যস্বত্বভোগী প্রতিষ্ঠান মালিকের পকেটে চলে যাচ্ছে। এতে নিঃস্ব শ্রমিক-কর্মচারীরা নিঃস্বই থেকে যাচ্ছেন।

শ্রম আইন অনুযায়ী প্রকৃত বেতন-বোনাস, উৎসব ভাতাসহ বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা থেকে তাদের বঞ্চিত রাখা হয়েছে। ইতিমধ্যে কয়েকজন অস্থায়ী শ্রমিকের চাকুরী স্থায়ীকরন করা হয়েছে। বাকী শ্রমিকদের চাকুরী স্থায়ীকরনে বিগত দিনে একাধিকবার মৌখিক ও লিখিতভাবে লাফার্জ কর্তৃপক্ষ, স্থানীয় সংসদ সদস্য, উপজেলা চেয়ারম্যান, পৌরসভার মেয়র, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন দপ্তরে আবেদন করা হয়েছে।
একটি মধ্যস্বত্বভোগী মহল তাদের চাকুরী স্থায়ীকরনে বাঁধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। লাফার্জ সুরমা সিমেন্ট কারখানায় নিয়োজিত শ্রমিক শামছুল ইসলাম, অপু ঘোষ, শাহজাহান, বেলাল আহমদ, হেলাল মিয়া, আবু খালেদ, মুজিবুর রহমানসহ ২৪জন শ্রমিক ও গাড়ী চালক ৯ ডিসেম্বর চট্টগ্রাম ২য় শ্রম আদালতে পৃথক আইআর মামলা দায়ের করেন। মামলায় চাকুরী স্থায়ীকরনের পক্ষে শ্রম আইন অনুযায়ী বিভিন্ন যুক্তি উপস্থাপন করা হয়। লাফার্জ সুরমা সিমেন্ট কারখানায় নিবন্ধিত কোন ঠিকাদার নেই বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। এদিকে লাফার্জ সুরমা সিমেন্ট কারখানার মিডিয়া কমিউনিকেশন ম্যানেজার তৌফিকুল ইসলাম জানান, যেসব শ্রমিকরা চাকুরী স্থায়ী করনের দাবী করছে তারা লাফার্জের নয়, বিভিন্ন ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের লোক।

লাফার্জ কর্তৃপক্ষ তাদের চাকুরী স্থায়ীকরনের নিশ্চয়তা দিতে পারেনা। লাফার্জের কমিউনিটি রিলেশন ম্যানেজার সাব্বির আহমদ জানান, কারখানার বিভিন্ন প্রজেক্টে নিবন্ধিত ঠিকাদার রয়েছে। ঠিকাদারদের মাধ্যমেই কারখানায় জনবল সরবরাহ করা হয়ে থাকে। বৃহস্পতিবার দুপুরে মানব বন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশে গাড়ী চালক শাহজাহান, খালেদ আহমদ, সুমন মিয়া, আরিফ হোসেন, নজরুল ইসলাম, মুজিবুর রহমান, কামাল হোসেন, আব্দুল কদ্দুছ, হেলাল আহমদ, শ্রমিক শেখ শহিদুল কাদের লিটন, নাদিম আহমদ, জাকির হোসেন, সাছাবুর হোসেন, আতিক হোসেন, আশকর আলী, সামছুল ইসলাম, দুলাল মিয়াসহ শতাধিক অস্থায়ী শ্রমিক-কর্মচারী কর্মসূচিতে অংশ গ্রহন করেন।
এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদাররা জানান, আন্দোলনকারীরা ঠিকাদারদের অধিনে কারখানার বিভিন্ন প্রকল্পে নিয়োজিত রয়েছে। এরমধ্যে অধিকাংশই গাড়ী চালক ও কেন্টিং ক্যাটারিং পদে কর্মরত। তারা কারখানার কোন সরাসরি শ্রমিক নয়। কর্মসূচি চলাকালে বক্তব্য রাখেন, সাবেক পৌর কাউন্সিলর ফয়জুর রহমান ও স্থানীয় বাসিন্দা আইনুল হক।




