এস,এম,তারেক নেওয়াজ : হোসেনপুর (কিশোরগঞ্জ) : কিশোরগঞ্জের হোসেনপুরে গত এপ্রিল থেকে ২৫ডিসেম্বর পর্যন্ত ৯ মাসে ০৯ খুন,০৯আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রমতে,গত ২২ ডিসেম্বর রাতে খুন হয় উপজেলার শাহেদল ইউনিয়নের উত্তর কুড়িমাড়া গ্রামের আব্দুল হেকিমের ছেলে মোস্তাফিজুর রহমান মুস্তাক (৩২)। দূবৃত্তের হাতে খুন হওয়ার আগে মুস্তাক ঠাডারকান্দা বাজারে গিয়ে আর বাড়ি ফিরেনি।পরদিন ২৩ ডিসেম্বর সকালে হোসেনপুর-পুলেরঘাট সড়কের পাশে পতিত জমিতে তার মৃতদেহ পড়ে থাকে।

গত ০৯ ডিসেম্বর উপজেলার মধ্য গোবিন্দপুর গ্রামের আব্দুল খালেকের বড় ছেলে মোঃ জসিম উদ্দিন (২৫) জমির হিস্যা ও টাকার ভাগ-বাটোয়ারা নিয়ে সৎ মা আলপিনা বেগমের সাথে কথা-কাটাকাটির এক পর্যায়ে তাকে রামদা দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপাতে থাকে। এসময় মাকে বাচাঁতে ছোট (সৎ) ভাই মোঃ আকিব মিয়া (০৮) এগিয়ে এলে খুনি জসিম ছোট ভাইকেও এলোপাতাড়ি কুপিয়ে হত্যা করে।
গত ০৮ অক্টোবর রাতে হোসেনপুর-দেওয়ানগঞ্জ সড়কের হাজীপুর বাজারের পাশে রাস্তায় বেরিকেট দিয়ে বরযাত্রীর গাড়িবহরে ডাকাতির সময় বর পক্ষের ডাক-চিৎকারে জনতা ডাকাতদলকে চারদিক ঘিরে ফেলে। এ সময় গনপিটুনিতে উপজেলার চর-হাজীপুর গ্রামের মৃত মরজত আলীর ছেলে ডাকাত সর্দার কালাম উদ্দিন (৩৫) ঘটনাস্থলেই নিহত হয়।

গত ১৭ আগষ্ট পারিবারিক কলহের জের ধরে উপজেলার গোবিন্দপুর ইউনিয়নের উত্তর পানান গ্রামের মৃত আব্দুল মান্নানের ছেলে আব্দুল জব্বার (৪৫) স্ত্রী ঝরর্ণা আক্তারের (৪০) সাথে কথা কাটা-কাটির পাট কাটার দা দিয়ে কুপিয়ে নির্মম ভাবে খুন করে।গত ০১ আগষ্ট উপজেলার নামা সিদলা গ্রামের সদর আলীর ছেলে বোরহান উদ্দিন ২২ বছর জেল খেটে বাড়ীতে এসে জমি সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে বড় ভাই ওমর ফারুকের স্ত্রী নাজমা আক্তারকে (৩৩) কৃষিকাজের মোগড় দিয়ে পিটিয়ে খুন করার সময় তার দুই ছেলে শাহজাহান (৯) ও লিমন (৭) মাকে বাচাঁতে গেলে ঘাতক ওই দুই ছেলেকেও নির্মম ভাবে খুন করে। গত ১৭ জুন ভোরে হোসেনপুর-কিশোরগঞ্জ সড়কের পাশে টেকিয়া এলাকায় অজ্ঞাত ব্যাক্তির লাশ পড়ে থাকে।লাশের মুখে ও গলায় কসটেপ মোড়ানো ছিল। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে লাশ উদ্ধার করে কিশোরগঞ্জ মর্গে প্রেরন করেন। গত ২৮ এপ্রিল উপজেলার হুগলাকান্দি গ্রামের মৃত মগল সিকদারের ছেলে হেলাল সিকদারের সাথে চাচাতো ভাই রতন সিকদার গংরা পুকুরে মাছ ধরা নিয়ে কথা কাটাকাটির এক প্রর্যায়ে লাঠি দিয়ে মাথায় আঘাত করলে হেলাল সিকদার (২৮) ঘঠনাস্থলে মারা যায়।
এছাড়া, গত ২২ নভেম্বর উপজেলার শাহেদল বড় বাড়ির আল-আমিনের স্ত্রী কুলসুম আক্তার (৩০) স্বামীর সাথে অভিমান করে বিষ পানে আত্মহত্যা করে। গত ০৯ নভেম্বর উপজেলার ডাহরা গ্রামের মজলু মিয়ার মেয়ে প্রিয়া আক্তার (১৩) পরিবারের লোকজনের সাথে অভিমান করে বিষ পানে আত্মহত্যা করে।গত ১৯ অক্টোবর উপজেলার ধুলিহর গ্রামের মোঃ বাচ্ছু মিয়ার ছেলে সাদ্দাম হোসেন (১৯) নিজ পছন্দের পাত্রীকে বিয়ে করতে না পেরে মায়ের সাথে অভিমান করে বিষ পানে আত্মহত্যা করে।গত ২ আগষ্ট পারিবারিক কলহে দ্বীপেশ্বর গ্রামের মোঃ খায়রুল ইসলামের স্ত্রী মোছাঃ ঝুমা আক্তার (২৫) গলায় উড়না পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করে। গত ১২ জুলাই উপজেলার দক্ষিন ধুলিহর গ্রামের মোঃ মনির উদ্দিনের মেয়ে সাথী আক্তার (১৮)পারিবারিক কলহে গলায় ফাঁস দিয়ে আতœহত্যা করে। গত ১৩ জুন উপজেলার উত্তর গোবিন্দপুর গ্রামের হাজী রিয়াজ উদ্দিনের ছেলে আব্দুল রব (৩২) স্ত্রীর সাথে অভিমান করে স্ত্রীর শয়ন কক্ষে বিষ পানে আত্মহত্যা করে।গত ২ মে উপজেলার ধনকুড়া গ্রামের আব্দুল মালেকের মেয়ে ঝুমা আক্তার (১৬) গলায় দড়িঁ দিয়ে আত্মহত্যা করে।গত ১২ এপ্রিল উত্তর মাধখলা গ্রামের মৃত আক্কেল আলীর স্ত্রী গুদি বেগম (৬০) মানষিক বিপর্যস্থ হয়ে বিষ পানে আত্মহত্যা করে। গত ১৪ এপ্রিল উপজেলার চর-বিশ্বনাথপুর গ্রামের আমিনুল মিয়া (৪০) স্ত্রীর সাথে অভিমান বিষ পানে আত্মহত্যা করে।




