হুমায়ুন কবির মৃধা,সিরাজগঞ্জ : দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সিরাজগঞ্জের ৬টি সংসদীয় আসনের মধ্যে ৫টিতেই আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা বিনা প্রতিদ্ব›িদ্বতায় নির্বাচিত হয়েছেন। বর্তমান তফশিল অনুযায়ী আগামী ৫ জানুয়ারী অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচনে একমাত্র সিরাজগঞ্জ-৫ (বেলকুচি-চৌহালী) আসনে একাধিক প্রার্থী থাকায় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এ আসনের বৈধ প্রার্থীরা হচ্ছেন, আওয়ামী লীগ মনোনীত শিল্পপতি আব্দুল মজিদ মন্ডল (নৌকা), আওয়ামী লীগের বিদ্রোহি স্বতন্ত্র প্রার্থী শিল্পপতি আতাউর রহমান রতন (দোয়াত-কলম), জাতীয় পার্টি থেকে বহিস্কৃত ডাঃ আবু বক্কার সিদ্দিক (লাঙ্গল) ও জাতীয় পার্টি জেপি (মঞ্জু) প্রার্থী আবুল হাসনাত গোফরান (বাই সাইকেল)। ২০০৬ ও ২০০৮ সনের নির্বাচনে এ আসন থেকে আব্দুল লতিফ বিশ্বাস আওয়ামী লীগের মনোনয়নে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে ছিলেন। মহাজোট সরকারের মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী হিসাবে তিনি ৫ বছরে এলাকায় উলেখযোগ্য উন্নয়নের স্বাক্ষর রেখেছেন। তার পরিবর্তে আওয়ামী লীগ এবারের নির্বাচনে সিরাজগঞ্জ জেলা পরিষদের প্রশাসক শিল্পপতি আব্দুল মজিদ মন্ডলকে মনোনয়ন দিয়েছে। মনোনয়নপত্র দাখিলের সময় ৫ প্রার্থী মনোনয়নপত্র দাখিল করলেও নির্ধারিত সময়ের মেধ্যে একজন প্রত্যাহার করায় এখন ৪জন চুড়ান্ত প্রার্থী তালিকায় স্থান পেয়েছেন। প্রার্থীদের মধ্যে আওয়ামী লীগের আব্দুল মজিদ মন্ডল ও বিদ্রোহি স্বতন্ত্র আতাউর রহমান রতনকে মাঠ পর্যায়ে জোরে সোরে গণসংযোগ, জনসভা ও পথসভা করছে। এছাড়া রাস্তার মোড়ে মোড়ে এ দু প্রার্থীর প্রতিক সহ পোষ্টার দেখা গেলেও অপর দু’জনকে তেমন
একটা মাঠে দেখছে না ভোটাররা। আপতত মাঠে না থাকা প্রার্থীদের মধ্যে ২০০১ সনের নির্বাচনে তৎকালিন সিরাজগঞ্জ ৬ (চৌহালী-পূর্ব শাহজাদপুর) আসনে চৌহালীর বাসিন্দা ডাঃ আবু বক্কার সিদ্দিক আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী হিসাবে প্রতিদ্ব›িদ্বতা করলেও এবার লাঙ্গলের কান্ডারি হয়েছেন। কিন্তু এখনও তাকে নির্বাচনী এলাকায় দেখা যায়নি। জেপি (মঞ্জু) প্রার্থী আবুল হাসনাত গোফরান বেলকুচির বাসিন্দা হলেও তিনি এলাকায় অপরিচিত। শুধুমাত্র নির্বাচন এলেই তার নাম শোনা গেলেও খুব একটা দেখা যায়না। এ নির্বাচনী এলাকায় তো নয়ই, সিরাজগঞ্জ জেলার কোথাও এ সংগঠন আছে বলে কারো জানা নেই ভোটাররা। অবশ্য পুরোদমে প্রচারনা শুরু হলে তারা কতটুকু তৎপর হবেন তা সময়ই বলে দেবে। জেলার বেলকুচি ও চৌহালী উপজেলা নিয়ে এ সংসদীয় আসন গঠিত হয়েছে। এ আসনের মোট ভোটার সংখ্যা পুরুষ ১ লাখ ৪৮ হাজার ৮১২জন মহিলাসহ ৩ লাখ ৩ হাজার ২৭৭জন। এর মধ্যে বেলকুচিতে ১ লাখ ৪ হাজার ৮৮৩ জন মহিলাসহ ২ লাখ ১৫ হাজার ৯৯৩জন ও চৌহালীতে ৪৩ হাজার ৯২৯জন মহিলাসহ ৮৭ হাজার ২৮৪জন ভোটার রয়েছেন। বেলকুচিতে ৮২ এবং চৌহালীতে ৩৯টি সহ মোট ভোট কেন্দ্র ১২১টি বলে রিটার্নিং অফিসার, সিরাজগঞ্জের জেলা প্রশাসক বিলাল হোসেন জানিয়েছেন। তিনি জানান, নির্বাচন কমিশনের দেয়া নির্দেশনা মোতাবেক নির্বাচনের সব কাজ সম্পাদিত হচ্ছে।




