বাবুগঞ্জ(বরিশাল)প্রতিনিধি : সরকারী নিয়ম নীতির তোয়াক্কা না করে বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার ইট ভাটা গুলোতে চলছে কাঠ পোড়ানোর মহোৎসব । উপজেলার প্রায় ২৮টি ইট ভাটার মধ্যে অধিকাংশ ইট ভাটার ছাড়পত্রের মেয়াদ উত্তীর্ণ হলেও মালিকরা সরকারের রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে এ ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন। ফলে ভাটার মাধ্যমে যেমন পরিবেশ দুষণ হচ্ছে, তেমনি কৃষি জমি নষ্ট হচ্ছে। এছাড়া ভাটায় কাঠ পোড়ানোর ফলে জ্বালানীর ওপরও প্রভাব পড়ছে। উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, প্রতিটি ইটভাটা গড়ে ৬ থেকে ৮ একর করে ফসলি জমি গ্রাস করছে। ফলে একরপ্রতি গড়ে ৭৫ থেকে ৮০ মেট্রিক টন ফসল উৎপাদন কমছে। সেই সঙ্গে হুমকিতে পড়েছে পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য সরজমিন গিয়ে দেখা গেছে, উপজেলার রহমতপুর ইউনিয়নের দোয়ারিকা পুরাতন ফেরীঘাট এলাকায় প্রায় ৫০০একর কৃষি জমিতে গড়ে উঠছে নতুন নতুন ইটভাটা। এ সকল ইটের ভাটার মালিকরা আশপাশের আবাদি জমিগুলো কেটে অবাধে মাটির কেটে নিয়ে যাচ্ছে। এ কারনে র্কষি জমি প্রতিনিয়ত হুমকির মুখে। বিভিন্ন প্রভাবশালীর নামে বে-নামে ব্যক্তি যৌথভাবে ওই ইটভাটা নির্মাণ করছেন। এদিকে দোয়ারিকা এলাকায় সাজ ব্রিকস,সনি ব্রিকস,মাষ্টার ব্রিকস,সালাম ব্রিকস,হাসান ব্রিকস,বেষ্ট ১ ব্রিকস,বেষ্ট ২ ব্রিকস,বাবা ব্রিকস,সিটি ব্রিকস সহ বেশ কয়েকটি ইটভাটায় শতশত একর কৃষি জমি ব্যবহার করে উঠেছে অবৈধ ভাবে, সরজমিন গিয়ে আরো দেখা গেছে, প্রায় প্রত্যেকটি ইটভাটাই কৃষিজমিতে নির্মিত হচ্ছে। চারদিকে ফসলি ক্ষেত, অসংখ্য গাছপালাসহ ঘনবসতি। স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করেন, কর্মকর্তারা ইটভাটা এলাকায় এলে কৃষিজমিতে ইটভাটা নির্মাণের বিষয়ে তারা আপত্তি জানিয়েছেন। তার পরও ইটভাটার মালিকরা প্রভাব খাটিয়ে, স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান ও রাজনৈতিক নেতাদের ম্যানেজ করে ফসলি জমিতে গড়ে তুলছেন ইটভাটা। এলাকাবাসীর মতে, ঘনবসতি এলাকায় ইটভাটা চালু হলে তাদের গাছপালা ও ফসলের ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। পরিবেশ আইনে উলে¬খ্য রয়েছে, পরিবেশগত ছাড়পত্র ও লাইসেন্স পাওয়ার জন্য ২০০২ সালের সংশোধনী পরিপত্রেও বলা হয়েছে, পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের দ্বারা বা ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মকর্তার কাছ থেকে বিধি দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে পরিবেশগত/অবস্থানগত ছাড়পত্র ব্যতিরেকে কেউ কোনো ইটভাটা স্থাপন বা পরিচালনা করতে পারবে না। কিন্তু বাবুগঞ্জের অধিকাংশ ইটভাটার মালিকরা রহমতপুর,দেহেরগতি,মাধবপাশা ও চাদঁপাশা ইউনিয়ন (ইউপি) পরিষদের চেয়ারম্যানের কাছ থেকে ট্রেড লাইসেন্স ও অনুমতিপত্র সংগ্রহ করেই ইটভাটা নির্মাণ করেছেন।কিন্তু পরিবেশবিদরা বলছেন, অনিয়মতান্ত্রিকভাবে ইটের ভাটা স্থাপনের ফলে কৃষিজমির পরিমাণ কমার পাশাপাশি জমির উর্বরতা হ্রাস পাচ্ছে। অন্যদিকে ইটের ভাটায় জ্বালানি হিসেবে নির্বিচারে বৃক্ষনিধন চলায় পরিবেশের ভারসম্য নষ্ট হওয়াসহ অনেক বিরল মূল্যবান প্রজাতির উদ্ভিদ বিলুপ্ত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। পাশাপাশি ফলদগাছ নিধনের ফলে পশুপাখির খাবার সংকট দেখা দিচ্ছে। এ ধরনের কার্যক্রম চলতে থাকলে জীববৈচিত্র্যের ওপর মারাত্মক বিরূপ প্রভাব দেখা দেবে এবং পরিবেশের ভারসম্য ক্ষতিগ্রস্ত হবে।




