হাফিজার রহমান আদমদীঘি (বগুড়া) : ‘দেশ ও জণগণের অতন্দ্র প্রহরী’ মুক্তিযোদ্ধা নূরুল হক যেন জীবন্ত লাশ! মহান স্বাধীনতা সংগ্রামে সরাসরি মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণকারী যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধা নূরুল হকের বাড়িতে বিজয়ের দিনেও চলছে কষ্টের আহাজারী। ১৯৭১ সালে ভারতে মুক্তিযুদ্ধের প্রশিক্ষণ নিয়ে মহান স্বাধীনতা সংগ্রামে ৯ মাস প্রাণপণ যুদ্ধ করেন এই মুক্তিযোদ্ধা। মুক্তিযুদ্ধের ৭ নম্বর সেক্টরের অধীন কমান্ডার আক্কাস আলীর নেতৃত্বে রংপুর জেলার বদরগঞ্জ, মিঠাপুকুর এবং গাইবান্ধা জেলার পলাশবাড়ী উপজেলার বিভিন্ন অঞ্চলে পাক হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে সক্রিয়ভাবে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। ১ ডিসেম্বর ১৯৭১ রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলায় পাক বাহিনীর সঙ্গে সম্মুখ যুদ্ধে অংশগ্রহণ করে ডানপায়ে গুলিবিদ্ধ হয়ে পঙ্গুত্ব বরন করেন তিনি। স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা করা হলেও পুঙ্গত্ব বরণ করেছেন এই ত্যাগী মুক্তিযোদ্ধা।
মুক্তিযোদ্ধা নূরুল হকের জন্ম গাইবান্ধা জেলার সাঘাটা উপজেলার গটিয়া গ্রামে। তার বয়স ৬৮ বছর। পিতা মৃত অকিম উদ্দিন আকন্দ। স্বাধীনতার পর পৈত্রিক ভিটে বাড়ী নদীগর্ভে বিলিন হওয়ার পর বগুড়া জেলার আদমদীঘি উপজেলার সান্তাহার শহওে বসবাস শুরু করে । বর্তমানে সান্তাহার হার্ভ স্কুলের উত্তরে একটি ছোট্ট কুটির ভাড়া নিয়ে স্ব-পরিবারের বসবাস করছেন। পরিবারে স্ত্রী দুই ছেলে, নাতি-নাতনি রয়েছে । বড় ছেলে আহম্মদ আলী রিক্সা-ভ্যান চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করে, আর ছোট ছেলে সাইফুল সম্পূর্ণ বেকার। সরকারের শেষ সময়ে দেশে হরতাল-অবরোধে রাস্তাায় ঠিকমত রিক্সা-ভ্যান না চলায় নিদারুন কষ্ঠে অর্ধাহারে-অনাহারে দিন কাটাচ্ছেন জাতির এই শ্রেষ্ঠ সন্তান।
গতকাল রোববার সকালে সাংবাদিকরা তাঁর ভাড়া কুটিরে বলেন অনেক কষ্টে বিছনা থেকে মাথা তুেল বীর মুক্তিযোদ্ধা নূরুল হক ছোট ছেলের ঘাড়ে এক হাত দিয়ে বিছনা ছেড়ে নিচে আসলেন। ক্রাচে ভর করেও খুববেশি সময় দাঁড়াতে পারেন না তিনি। অশ্রæস্বজল কন্ঠে বললেন, মুক্তিযোদ্ধা সম্মানি ভাতাই একমাত্র অবলম্বন হলেও বর্তমানে চরম অর্থ সংকটে পড়েছেন। জীবনের শেষ প্রান্তে নানা রোগ-ব্যাধী বাসা বেঁধেছে শরীরে। প্রত্যহ নিজের ও স্ত্রীর প্রায় শতাধিক টাকার ঔষুধ লাগে। অর্থাভাবে তাও ঠিকমত কিনতে পারেন না তিনি। নূরুল হকের স্ত্রী জানান কাজ নেই, কর্ম নেই, দেশে অস্থির অবস্থা। এর মধ্যে এনজিও’র লোনে জর্জরিত। প্রতিদিন খেয়ে না খেয়ে এনজিও’র কিস্তির টাকা পরিশোধ করতে হচ্ছে। পঙ্গু মুক্তিযোদ্ধা নূরুল হক আক্ষেপ করে বলেন, মুক্তিযোদ্ধা সার্টিফিকেট দেখিয়ে দুই ছেলের সরকারি চাকুরীর জন্য অনেক চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়েছি। পুঁজির অভাবে কোন ব্যবসায় লাগাতে পারেনি ছেলেদের। নিজের যে পৈত্রিক ভিটে বাড়ী ছিল তাও নদী গর্ভে বিলিন। তাই বেঁচে থাকার জন্য সামান্য ভিটে বাড়ি নির্মাণ ও সন্তানদের কর্মসংস্থানের জন্য তিনি সরকার ও দেশপ্রেমিক বিত্তবানদের কাছে সাহায্য প্রার্থনা করেছেন।




