পেকুয়া(কক্সবাজার) সংবাদদাতা : কক্সবাজারের চকরিয়ায় পুলিশের নির্যাতনের নিহত যুবদল নেতা আবদুল হালিমের লাশ নিয়ে মিছিল করার সময় আওয়ামীলীগ কর্মী ও পুলিশের নির্বিচারে গুলিতে এক জন নিহত ও ৫০ ব্যক্তি আহত হয়েছে। জানাযায়, ২৫ নভেম্বর চকরিয়া উপজেলার বানিয়ার চরা স্টেশন থেকে অবরোধ পালনকালে উপজেলা যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক আবদুল হালিমকে চকরিয়া থানা পুলিশ আটক করে নির্দয় ভাবে পিঠিয়ে তার দুপা ভেঙ্গে গুড়িয়ে দেয়। পরে পুলিশি হেফাজতে তার শারিরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে ডুলহাজারা মোমেরিয়াল হাসপাতালে ভর্তি করে তার পায়ে অস্ত্র পাচার করা হয়। ২৮ নভেম্বর দিবাগত রাত সাড়ে ৯টার দিকে যুবদল নেতা হালিম মৃতূ্ বরণ করলে ২৯ নভেম্বর চকরিয়া শহীদ আবদুল হামিদ পৌর বাস টার্মিনালে বিকাল ৩টায় জানাযার নামাজ আনুমানিক ২৫ হাজার মুসল্লির উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত হয়। জানাযার নামাজ শেষে লাশ নিয়ে মিছিল করে বানিয়ার চরা তার গ্রামের বাড়িতে নিয়ে যাওয়ার পথে আরকান সড়কের চকরিয়া থানা রাস্তার মাথায় পৌছলে সেখানে দায়িত্বরত পুলিশ লক্ষ্য করে মুসল্লিদের কয়েকজন ঢিল ও জুতা ছুড়ে মারলে পুলিশ রাবার ব্যুলেট ও টিয়ার শেল ফায়ার করে লাশ বাহি মিছিলটি ছত্রভঙ্গ করার চেষ্ঠা করলে সংঘর্ষ শুরু হয় প্রায় ৬ ঘন্টা ধরে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া চলতে থাকে। এসময় বিক্ষুব্ধ বি.এন.পি কর্মীরা শতাধিক যানবাহন ভাংচুর করে বরইতলী গুরু বাজার থেকে চকরিয়া ফাসিয়াখালী রাস্তার মাথা পর্যন্ত আরকান সড়কের বিভিন্ন পয়েন্টে গাছ ফেলে টায়ার জ্বালিয়ে ব্যারিকেট দিলে যানচলাচল বন্ধ হয়ে যায়। মুহুর্তের মধ্যে চকরিয়ার বাণিজ্যিক মার্কেট গুলো বন্ধ হয়ে যায়। সাড়ে ৪টার দিকে পরিস্থিতি একটু শান্ত হয়ে ওঠলে পুলিশ থানা রাস্তার মাথা থেকে নিউমার্কেট এলাকায় এসে অবস্থান নিলে আওয়ামীলীগ যুবলীগ কর্মীরা আতংক সৃষ্ঠি করতে এলোপাতাড়ি গুলি করলে বায়তুশ শরফ সড়কের অধিবাসী মৃত আকবর আহমদের ছেলে বিদেশ ফেরত জাকের হোসেন(৩৮) নামক একজন পথচারী গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যায়। রাত ৯টা পর্যন্ত চট্টগ্রাম কক্সবাজার আরকান সড়কে যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে। থমথমে পরিস্থিতিতে চরম আতংকে পথচারীদের পায়ে হেটে গন্তব্যে পৌছতে হচ্ছে। নিহত জাকের হোসেনের পারিবারিক সূত্রে জানাগেছে তিনি কোন রাজনৈতিক দলের কর্মী সমর্থক ছিলেননা। প্রয়োজনী দ্রব্য সামগ্রী সংগ্রহের জন্যে ঘর থেকে বের হয়ে সংঘর্ষে আটকে গিয়ে গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যায়। বি.এন.পির পক্ষ থেকে জাকের তাদের চকরিয়া পৌর কমিটির ৮নং ওয়ার্ড় কর্মী বলে দাবী করা হয়। প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেন, বি.এন.পি-পুলিশের সংঘর্ষের অনেকটা শেষ পর্যায়ে আওয়ামীলীগ কর্মীরা পুলিশি প্রহরায় সাধারণ লোকজনের ওপর গুলি চালালে জাকের হোসেন নিহত হয়। এব্যাপারে চকরিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ রনজিত বড়–য়ার সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, সম্ভবত নিহত জাকের পুলিশের গুলিতে বিদ্ধ হয়েছেন।




