মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান :
পুরুষ শাসিত সমাজ ব্যবস্থায় পুরুষের ভাগ্য নিয়ন্ত্রন করে এখন নারী।তার এক অনুকরনীয় দৃষ্টান্ত ইসমত আরা হাসি (২৮)। তিনি বেতাগী উপজেলার সদর ইউনিয়ন পরিষদের সংরক্ষিত-৭,৮,৯ আসনের একজন নির্বাচিত মহিলা ইউপি সদস্য।পারিবারিক নানা সীমাবদ্ধতার কারনে এস.এস.সি‘র পর আর লেখাপড়ায় আগায়নি।

ইসমত আরা হাসি আত্মপ্রত্যয়ী এক নারী। কুসংস্কার,ধর্মীয় গোঁড়ামী ও সামাজিক নানা অনুশাসনের বেড়াজালের বাইরে তিনি।সংষ্কার মুক্ত,উদার ও দৃঢ় মনোবলের অধিকারী।নারী নির্যাতনসহ নারীর অধিকার ক্ষুন্ন করার যে কোন প্রয়াসের বিরুদ্ধে তিনি সোচ্চার। তিনি মনে করেন নারীরাও মানুষ। মানুষ ও দেশের নাগরিক হিসেবে তাদের সর্ব ক্ষেত্রে সম অধিকার এবং সমাজ সংসারে সকল কিছুর দাবিদার। ইসমত আরা হাসি জানান,নারী সমাজের একটি সুস্থ সমাজ বির্নিমানে তার নির্বাচনে আসা।
ইসমত আরা হাসি শুধু একজন জনপ্রতিনিধিই নয়। প্রশিক্ষিত যুবক হিসাবে প্রাথমিক পর্যায়ে যুব উন্নয়ন অধিদফতর থেকে ৭ হাজার টাকা ঋন নিয়ে দেশী মুরগীর ফার্ম করে এ কাজে যাত্রা শুরু করে ছিলেন। সেখান থেকে লাভের মুখ দেখে ২০০১ সালে পাশপাশি শুরু করেন সবজির আবাদ। এবারে ২০ শতাংশ জমিতে লাউ ও ১৬ শতাংশ জমিতে শসা,টমেটো,করল্লা,পুই শাঁক,ওল কপি,বাঁধা কপিসহ নানা ধরনের সবজি চাষ করেছেন।ইতোমধ্যে লাউ ও শাক বিক্রি করে ৪০ হাজার টাকা আয় করেছেন। অন্যান্য সবজি ব্যতিরেকেই সামনে আরও ৪০ হাজার টাকার শুধু লাউ বিক্রি করতে পারবেন বলে তিনি জানান।
স্থানীয়রা জানায়,সব কিছুতেই দক্ষতার ছাপ রেখে চলছেন তিনি। ১৯৯৭ সালে পারিবারিক অসম্মতিতে বিয়ে করার পর স্বামী আকবর হোসেনই বিয়ের পরবর্তী পর্যায় থেকে একমাত্র সাহায্যের হাতিয়ার। শশুর-শাশুড়িসহ ৬ সদসস্যের তাদের পরিবার। ২ মেয়ের মধ্যে বড় মেয়ে মমতা আকতার নিশি পড়ছেন ৬ষ্ঠ শ্রেনীতে আর নিরা আকতার শিশু। কোন বাঁধাই তাকে থমকে দিতে পারেনি। ধৈর্যের সাথে সবকিছু মোকাবেলা করে আজকের তার কাঙ্খিত অবস্থানে।
কোন মানুষই বির্তকের উর্ধ্বে নয়। ইসমত আরা হাসি ও নয়। ইউপি সদস্যর দায়িত্ব প্রাপ্তির পর আলোচনার পাশাপাশি সমোলোচিত হয়েছেন অনেক। মহিলা হিসেবে কাজ করতে যেয়ে সামাজিক ভাবে অনেক সমস্যা হলেও তিনি তা সমস্যা মনে করেননা। নির্বাচনে ইসমত আরা হাসির প্রতিশ্রæতি ছিল ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠা করবেন। এলাকার রাস্তাঘাটের উন্নয়ন করবেন।নারী-পুরুষের সম অধিকার প্রতিষ্ঠার কথা বলিষ্ঠ কন্ঠে তিনি ব্যাক্ত করেন।এ আলোকেই তিনি ৩ বছর পাড় করে বর্তমানেও কাজ করছেন।




