সাইফুল ইসলাম, বাবুগঞ্জ (বরিশাল) : বিএনপিনসহ ১৮ দলের কেন্দ্রঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলায় বিএনপির বিক্ষোভ মিছিলে পুলিশের বাধা দেয়া নিয়ে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।

এই সময় বিএনপির নেতাকর্মিদের ইটপাটকেলে দুই এসআইসহ ৬ পুলিশ এবং পুলিশের লাঠিচার্য ও গুলিবর্ষনে উপজেলা বিএনপির সভাপতি ইসরাত হোসেন কচি গুলিবিদ্ধসহ ৩০/৩৫ জন আহত হয়েছেন। রবিবার বিকেলে বাবুগঞ্জ উপজেলার ষ্টীল ব্রীজ (ইস্পাতের সেতু) এলাকায় এই ঘটনায় আহত উপজেলা বিএনপির সভাপতি ইসরাত হোসেন কচিকে বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও অন্যান্যদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও স্থানীয়ভাবে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়েছে বলে যুবদল নেতা আওলাদ হোসে জানিয়েছেন। উপজেলার বিমান বন্দর ও বাবুগঞ্জ থানা পুলিশ এ ঘটনায় ৮ নেতাকর্মীকে আটক করেছে।
আটককৃতরা হলো- শিবির কর্মী মো. মারুফ, মাধবপাশা ইউপি শাখা তরুন দলের সভাপতি শহীদুজ্জামান রনি, উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্ম দলের আহবায়ক সেলিম সরদার, ছাত্রদল কর্মী শাহদাত হোসেন, সাইফুল ইসলাম,বিএনপি’র নেতা ডা. আব্দুর রহিম, মিজানুর রহমান ও ইমরান।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, কেন্দ্রীয় কর্মসুচীর অংশ হিসেবে উপজেলা বিএনপি বাবুগঞ্জ ষ্ট্রীল ব্রীজ থেকে বিক্ষোভ মিছিল শুরু করে। মিছিলটি ব্রীজ অতিক্রম করে বাবুগঞ্জ থানা সিমানার রাস্তায় উঠলে বাবুগঞ্জ থানার পুলিশ বাধা দেয়। এই সময় মিছিলের পিছন থেকে নেতাকর্মীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। তখন পুলিশ লাঠিচার্জ শুরু করলে মিছিলকারীরা ছত্রভঙ্গ হয়ে যায়। তখন মিছিলকারীদের উপর ব্রীজের অপর পাড়ে থাকা বিমান বন্দর থানার পুলিশ শর্টগানের গুলি করে।
বিমান বন্দর থানার সেকেন্ড অফিসার এস আই আবুল খায়ের বলেন, মিছিলকারীদের বাবুগঞ্জ থানার পুলিশ বাধা দিলে তারা তাদের উপর ইটপাটকেল নিক্ষপ করে ও টহল গাড়ি ভাংচুরের চেষ্ঠা চালায়। তখন পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনতে ২০ রাউন্ড শর্ট গানের গুলিবর্ষন করেছে। মিছিলকারীদের ইটপাটকেলে বিমানবন্দার থানার এসআই আব্দুল হালিম তালুকদার ও কনষ্টেবল উত্তম আহত হয়েছে। পুলিশ ৪ জনকে আটক করেছে। এই ঘটনায় মামলা হবে বলেন তিনি।
বাবুগঞ্জ থানার ওসি মো. শাহেআলম বলেন, তাদের মিছিলে বাধা দিলে পুলিশের উপর ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। এই সময় তারা লাঠিচার্য করে তাদের ছত্রভঙ্গ করে দিয়েছেন। নেতাকর্মিদের ইটপাটকেল নিক্ষেপে এসআই আমানুলাহ, এএসআই আব্দুর রব ও কনষ্টেবল আবেদ আলী আহত হয়েছে। তাদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। পুলিশ চার জনকে আটক করেছে। এই ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে বলে বাবুগঞ্জ থানা ভার প্রাপ্তকর্মকর্তা জনান।
উপজেলা বিএনপির সভাপতি ইসরাত হোসেন কচি জানান, দুই থানার পুলিশ তাদের উপর লাঠিচার্য ও গুলিবর্ষন করেছে। এতে তাদের ৫ নেতাকর্মি গুলিবিদ্ধ হওয়া ছাড়াও অন্তত ৩০/৩৫ জন আহত হয়েছে। পুলিশ তাদের নেতাকর্মিদের ৮ টি মোটরসাইকেল আটকে রেখেছে বলে অভিযোগ করেন সভাপতি।




