নবাবগঞ্জ (দিনাজপুর) সংবাদদাতা : দিনাজপুরের নবাবগঞ্জে চাকুরী দেয়ার প্রলোভনে অপহরন করে মুক্তিপণ আদায়কারী চক্রের এক সক্রিয় সদস্যকে আটক করেছে ক্ষুব্ধ জনতা। এলাকাবাসী অপহৃত ২ জনকে উদ্ধারসহ ওই অপহরণকারীকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেছে। ১৫ নভেম্বর শুক্রবার সকালে উপজেলার পুটিমারা ইউনিয়নের ক্রাইম জোন হিসাবে পরিচিত বুজরুকহরিনা গ্রামে ওই ঘটনা ঘটে। আটককৃত অপহরণকারী পাবনার রুবেল মোল্লা ওরফে সুমন (২৫)। উদ্ধার হওয়া দুজন হচ্ছে রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলার খোশালপুর গ্রামের আইয়ুব আলীর ছেলে সফিকুল ইসলাম (৪৫) এবং তার প্রতিবেশি ভাই কাপরিখাল গ্রামের আঃ ছাত্তারের ছেলে সাইদুর রহমান।
জানা যায়, সফিকুল ও সাইদুর পত্রিকায় একটি চাকরির বিজ্ঞাপন থেকে পাওয়া মোবাইল নম্বরে কথা বললে তাদেরকে বগুড়ার চারমাথা এলাকায় যেতে বলা হয়। সে মোতাবেক তারা বৃহস্পতিবার বিকেলে বগুড়ার চারমাথায় যান এবং ওই মোবাইল নম্বরে তারা সেখানে এসেছে বলে জানালে তাদেরকে সেখানে অপেক্ষা করতে বলা হয়। সন্ধ্যার দিকে রুবেল মোল্লা ওরফে সুমন গিয়ে সফিকুলের সাথে দেখা করে তার সাথে স্যার যেতে বলেছে বলে জানায়। এরপর অপহরণকারী হিলিগামী একটি বাসে করে নিয়ে তাদের বিরামপুর অফিসে যোগদান করার কথা বলে হাকিমপুরের ছাতনী চারমাথা নামক স্থানে নিয়ে যায়। সেখানে তাদের সাথে আনোয়ার হোসেন (৩০) নামে আরও এক অপহরণকারী যোগ হয়। এরপর তারা রিক্সাভ্যানযোগে গ্রামের দিকে যায় এবং ভ্যান থেকে নেমে অপহরণকারীরা অপহৃতদের কৌশলে মাঠের মধ্যে ধানক্ষেতে নিয়ে মারপিট করা শুরু করে এবং আড়াই লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। পরে গভীর রাতে ধানক্ষেত থেকে তাদেরকে হাত-মূখ বেঁধে বুজরুক হরিনা গ্রামের মোস্তাকের বাড়ীতে নিয়ে আটক করে রাখা হয় এবং মুক্তিপণের টাকার জন্য নির্যাতন করা হয়। এক পর্যায়ে শুক্রবার ভোরের দিকে অপহরণকারীরা ঘুমিয়ে পড়লে সুযোগ বুঝে অপহৃতরা ওই বাড়ী থেকে বের হয়ে মসজিদের নিকট গিয়ে মুসল্লীদের জানালে মুসল্লীরা তাদের উদ্ধার করে ঘটনার বর্ণনা শুনে ঘটনাস্থল থেকে ধাওয়া করে সুমনকে আটক করলেও বাকী ঘটনার সাথে জড়িত মোস্তাক ও আনোয়ার পালাতে সক্ষম হয়। পরে আটক ও উদ্ধারকৃতদের নবাবগঞ্জ থানা পুলিশের হাতে সোপর্দ করা হয়। পুলিশ জানায়, ওই ঘটনায় অপহরণের শিকার সফিকুল ইসলাম বাদী হয়ে একটি মামলা দায়ের করেছে।




