মাহফুজার রহমান মনু, রাজারহাট (কুড়িগ্রাম) : কুড়িগ্রামের রাজারহাটে জমি সংক্রান্ত কোন্দলের জের ধরে প্রতিপক্ষরা বসতবাড়িতে হামলা, ভাংচুর লুটপাট চালিয়ে মহিলাসহ ৬ ব্যক্তিকে বেধরক মারপিঠ করে গুরুত্বর আহত করেছে।
ওই ঘটনায় বুধবার ফজলুল হক বাদী হয়ে শ্রী কামিনী কান্ত রায়কে প্রধান আসামী করে ৫ জনের নাম উলেখ করে আরও ২০-২৫ জনকে অজ্ঞাত করে রাজারহাট থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন। পুলিশ ঘটনার সঙ্গে জড়িত কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি। মামলার বিবরণে প্রকাশ, উপজেলার চাকিরপশার ইউপি’র তালুক আষাঢ়– গ্রামের মোঃ ফজলুল হকের তফশিলঃ জেলা কুড়িগ্রাম, থানা-রাজারহাট, মৌজা-তালুক আষাঢ়–, জেএল নং-২৮, খতিয়ান নং-সি/এস ৮৪, এস/এ ৭৪, দাগ নং-৫২৫, জমির পরিমাণ-.৯৫ শতকের মধ্যে .৫৫ শতাংশ ক্রয় করা জমি নিয়ে পার্শ্ববর্তী শ্রী কামিনী কান্ত রায়ের সঙ্গে ফজলুল হকের দীর্ঘদিন ধরে দ্ব›দ্ব চলে আসছিল। বিষয়টি নিয়ে আদালত পর্যন্ত গড়িয়েছিল। পরে আদালত ফজলুল হক ডিক্রী প্রাপ্ত হইয়া ওই বাড়িতে পরিবার পরিজন নিয়ে বসবাস করিয়া আসিতেছে। মঙ্গলবার রাতে ও বুধবার বিকেলে দু’দফায় কামিনী কান্ত রায় গংরা ভাড়াটিয়া একদল সন্ত্রাসী লইয়া অস্ত্রে-শস্ত্রে সজ্জিত হইয়া ফজলুল হকের বাড়িতে হামলা, লুটপাট, ভাংচুর চালিয়ে তাদের পরিবারের লোকজনকে বেধরক মারপিঠ শুরু করে এবং এক পর্যায়ে সন্ত্রাসীদের হামলায় ফজলুল হকের পরিবারের লোকজন পার্শ্ববর্তী আব্দুল মালেক ও সাইদুল ইসলাম’র বাড়িতে আশ্রয় নিলে সন্ত্রাসীরা ওই বাড়ি দু’টিতেও হামলা, ভাংচুর, স্বর্ণালংকার, নগদ অর্থসহ লুটপাট করে প্রায় দুই লক্ষাধিক টাকার মালামাল। পরে আহতদের স্থানীয়রা উদ্ধার করে কুড়িগ্রাম সদর হাসপাতালে ভর্তি করে দেয়। আহতরা হলো-ফজলুল হক (৩৫), ফজলু’র মা আফিজন (৮৫), সাইদুল ইসলাম (৩০), মমেনা (২৫), হামিদুল (২৭), চন্দনা (২৫)। এ বিষয়ে রাজারহাট থানার এস আই উত্তম কুমার ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, ফজলুর বাড়িসহ পার্শ্বে দু’টি বাড়িতে সন্ত্রাসীরা ভাংচুর করার কথা তিনি এ প্রতিনিধিকে জানিয়েছেন। বুধবার সন্ধ্যায় থানায় অভিযোগ দায়ের হয়েছে। তদন্তপূর্বক অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে। বর্তমানে সন্ত্রাসীদের ভয়ে ফজলুল হকের পরিবার চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে।




