শ্যামলবাংলা স্পোর্টস : ২০১০ সালের পুনরাবৃত্তি ঘটিয়ে নিউজিল্যান্ডকে ফের বাংলাওয়াশ করলো স্বাগতিক বাংলাদেশ। সাহারা কাপ ২০১৩ এর শেষ ওয়ানডেতে নিউজিল্যান্ডকে ৪ উইকেটে হারিয়ে ৩-০ তে সিরিজ জিতল টাইগাররা। টাইগারদের অভানীয় এই সিরিজ জয়ে বাংলাদেশ দলকে অভিনন্দন জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী ও বিরোধী দলীয় নেত্রী।
রবিবার সকালে ফতুল্লার খান সাহেব ওসমান আলী স্টেডিয়ামে টসে জিতে অতিথিদের ব্যাট করতে পাঠিয়েছিলেন মুশফিকুর রহিম। মিরপুরে প্রথম দুই ওয়ানডে সহজেই জিতে সিরিজ পানসে করে ফেলা বাংলাদেশের প্রয়োজন ছিল বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের। ফতুল্লায় শেষ ম্যাচে রস টেইলরের নবম শতকে ৫ উইকেটেনিউজিল্যান্ডের ৩০৭ রান সংগ্রহ করে সেই চ্যালেঞ্জের মুখেই ফেলে স্বাগতিকদের।
৩০৮ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শামসুর রহমান আর জিয়াউর রহমানের উদ্বোধনী জুটি দৃঢ় ভিত্তি গড়ে দেওয়ার পর বাকি ব্যাটসম্যানদের জন্য কাজটি সহজই ছিল। শেষে নাসির হোসেনের ঠাণ্ডা মাথার ‘ফিনিশিং’ এ ৪ বল বাকি থাকতেই ৪ উইকেটের জয় তুলে নেয় স্বাগতিকরা।
জিয়াউর রহমানের সঙ্গে শামসুর রহমানের ৬১ রানের উদ্বোধনী জুটি বাংলাদেশকে উড়ন্ত সূচনা এনে দেয়। মিচেল ম্যাকেক্লেনাগানের বল এগিয়ে মারতে গিয়ে থার্ডম্যানে অ্যাডাম মিল্নের হাতে তামিম ইকবালের বদলে খেলতে নামা জিয়াউর (২২) ধরা পড়লে ভাঙে ৭ ওভার ৪ বল স্থায়ী জুটি। দ্বিতীয় উইকেটে মুমিনুল হকের সঙ্গে ৬৫ রানের আরেকটি চমৎকার জুটি উপহার দেন শামসুর। ৩৩ বলে ৪টি চারের সাহায্যে ৩২ রান করে মুমিনুল অ্যারন ডেভসিচের ফিরতি ক্যাচে পরিণত হন। নাথান ম্যাককালামের পরের ওভারে অধিনায়ক মুশফিকুর রহিম স্কয়ার লেগে টেইলরকে ক্যাচ দিলেও দলকে ভালো অবস্থানে নিয়ে যান শামসুর ও নাঈম ইসলাম ৭৫ রানের জুটি গড়ে দলকে ৩ উইকেটে ২০৪ রানের দৃঢ় ভিতের ওপর দাঁড় করিয়ে দেন। কোরি অ্যান্ডারসনের বলে উইকেটরক্ষক লুক রঞ্চির গ্লাভসবন্দী হওয়া শামসুর মাত্র ৪ রানের জন্য শতক পাননি। ক্যারিয়ার সেরা ৯৬ রান করা শামসুরের ১০৭ বলের ইনিংসে ৭টি চার ও ৪টি ছক্কায় সাজানো ছিল। নাসির হোসেনের সঙ্গে নাঈমের ৫০ রানের আরেকটি চমৎকার জুটি দলকে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে টানা সপ্তম জয়ের দিকে নিয়ে যায়। ৭৪ বলে ৫টি চারের সাহায্যে ৬৩ রান করা নাঈম সাজঘরে ফিরেন রান আউট হয়ে। এরপর মাহমুদুল্লাহ রিয়াদের (১৬) বিদায় স্বাগতিকদের একটু চাপে ফেললেও নাসির হোসেন দলকে স্বস্তির জয় এনে দেন। ৩৯ বলে ৪৪ রানে অপরাজিত থাকেন নাসির। উইকেটে তার সঙ্গে থাকা সোহাগ গাজীর চারে আসে কাঙ্খিত জয়। এছাড়া নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে এটি বাংলাদেশের সর্বোচ্চ রান। এ সিরিজের প্রথম ওয়ানডের ২৬৫ রান ছিল আগের সর্বোচ্চ।
আর বাংলাদেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রানের লক্ষ্য তাড়া করে জেতার ঘটনা এটি। এর আগে ২০০৯ সালের আগস্টে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে বুলাওয়ায়োতে বাংলাদেশ ৩১৩ রানের লক্ষ্য তাড়া করে জিতেছিল।

সংক্ষিপ্ত স্কোর:
নিউ জিল্যান্ড: ৫০ ওভারে ৩০৭/৫ (ডেভসিচ ৪৬, ল্যাথাম ৪৩, এলিয়ট ৩, টেইলর ১০৭*, মানরো ৮৫, মাহমুদুল্লাহ ২/৩৬, রুবেল ১/৩৮, রাজ্জাক ১/৫৭ সোহাগ ১/৬৭)
বাংলাদেশ: ৪৯.২ ওভারে ওভারে ৩০৯/৬ (শামসুর ৯৬, জিয়া ২২, মুমিনুল ৩২, নাঈম ৬৩, নাসির ৪৪*, সোহাগ ১১*; ম্যাকক্লেনাগান ২/৬৯, ডেভিসিচ ১/৩৬, নাথান ১/৪৪, কোরি ১/৫৬)
ম্যাচ সেরা: শামসুর রহমান
সিরিজ সেরা: মুশফিকুর রহিম




