হুমায়ুন কবির মৃধা , সিরাজগঞ্জ ঃ সিরাজগঞ্জে ব্যাপক সংঘর্ষ, ধাওয়া, পাল্টা ধাওয়ার মধ্য দিয়ে বিএনপি নেতৃত্বাধিন ১৮ দলের টানা ৬০ ঘন্টার হরতালের প্রথম দিন অতিবাহিত হয়েছে। হরতাল চলাকালে বিভিন্নস্থানে সংঘর্ষের ঘটনায় পুলিশ সহ অন্তত ৪০ জন আহত হয়েছে। বিভিন্ন স্থান থেকে জামায়াতÑবিএনপির ৯জন কর্মীকে আটক করা হয়েছে।

পুলিশ ও স্থানীয়সুত্রে জানা যায়, রবিবার হরতালের শুরু থেকেই সিরাজগঞ্জ-কাজিপুর আঞ্চলিক সড়কের সিরাজগঞ্জ পৌর এলাকার সমাজকল্যান মোড়, রহমতগঞ্জ ও কাঠেরপুল এলাকায় অবস্থান নিয়ে খন্ড খন্ড মিছিল ও পিকেটিং করতে থাকে বিএনপি-জামায়াত নেতা কর্মিরা। এক পর্যায়ে বেলা সাড়ে দশটার দিকে রহমতগঞ্জ এলাকায় সড়ক অবরোধ করে তারা। এ সময় পুলিশকে লক্ষ্য করে দুটি ককটেল নিক্ষেপ করলে সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। একপর্যায়ে সংঘর্ষ রহমতগঞ্জ ও ভাঙ্গাবাড়ি মহল¬ায় ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় আরো প্রায় ৬ টি ককটেলের বিস্ফোরন ঘটায় হরতাল সমর্থকেরা। পরে অতিরিক্ত পুলিশ, র্যাব ও বিজিবি ঘটনাস্থলে পৌছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনতে প্রায় শতাধিক রাউন্ড সর্টগানের গুলি, টিয়ারশেল, রাবার বুলেট, চায়না গুলি ও গ্যাস গান নিক্ষেপ করে। এতে সিরাজগঞ্জ সদর সার্কেলের সহকারি পুলিশ সুপার (এ এস পি) ফোরকান শিকদার, এসআই রফিকুল ইসলাম, কনস্টেবল আশরাফুল ও গুলিবদ্ধ শহর যুবদলের যুগ্ন-সম্পাদক নুর নবী, জেলা শ্রমিকদলের ক্রীড়া সম্পাদক সোহাগ সহ উভয় পক্ষের অন্তত ২৫ জন আহত হয়। এদের মধ্যে গুলিবিদ্ধ হয় তিন যুবদল ও ছাত্রদল কর্মী। আহতদের সিরাজগঞ্জ জেনারেল হাসপাতাল,ঢাকার পঙ্গু হাসপাতালসহ শহরের বিভিন্ন ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়েছে। পরে পুলিশ ঐ দুই এলাকার বিভিন্ন বাড়িতে তল¬াশি চালিয়ে পাঁচ জনকে আটক করে।

সিরাজগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাবিবুল ইসলাম সংঘর্ষ, গুলি নিক্ষেপ ও আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, আটককৃতদের নাম, পরিচয় ও ঘটনার সাথে সম্পৃক্ততা যাছাই বাছাই চলছে। বর্তমানে ঐ এলাকার সার্বিক পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। মোতায়েন রয়েছে অতিরিক্ত পুলিশ।

অপরদিকে হরতালের শুরুতেই ভোর সোয়া ছয়টার দিকে বঙ্গবন্ধু সেতু পশ্চিম সংযোগ মহাসড়কের কামারখন্দ উপজেলার সিমান্তবাজার-ধুকুরিয়া আঞ্চলিক সড়কে গাছের গুড়ি ফেলে সড়ক অবরোধ করে ছাত্রদল কর্মিরা। এ সময় সাতটি ককটেলের বিস্ফোরন ঘটানো হয়। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌছে প্রায সাত রাউন্ড সর্টগানের গুলি নিক্ষেপ করে ছাত্রদল কর্মিদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। এদিকে একই মহাসড়কের সলঙ্গা থানার নলকায় সকাল সোয়া সাতটার দিকে মহাসড়ক অবরোধ করে জামাত-শিবির কর্মিরা। এসময় পুলিশ তাদের ছত্রভঙ্গ করার চেষ্টা করলে জামাত-শিবির কর্মিদের সাথে ব্যাপক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। প্রায় আধা ঘন্টাব্যাপি সংঘর্ষে সিরাজগঞ্জ পুলিশ লাইন্স এর পুলিশ কনস্টেবল রুবেলসহ আহত হয় উভয় পক্ষের অন্তত ১০ জন। পরে প্রায় অর্ধশতাধিক রাউন্ড গ্যাস গান, টিয়ারশেল, রাবার বুলেট ও সর্টগানের গুলি নিক্ষেপ করে পরিস্থতি নিয়ন্ত্রনে আনে পুলিশ। এছাড়া সকাল ছয়টার দিকে সদর উপজেলার তেলকুপি বাজারে প্রায় ১৫ টি টায়ারে অগ্নিসংযোগ করে সড়ক অবরোধ করে জামাত-শিবির কর্মিরা। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌছে ছত্রভঙ্গ হয়ে যায় তারা। একই সময়ে সিরাজগঞ্জ-নলকা আঞ্চলিক সড়কের চন্ডিদাসগাতি ও চকশিয়ালকোলে সড়ক অবরোধ করে বিএনপি কর্মিরা। এদিকে হরতালের সমর্থনে সকাল সোয়া সাতটার দিকে শহরের ইবি রোড জেলা বিএনপি কার্যালয় থেকে একটি মিছিল বের করে বিএনপি নেতা কর্মিরা। মিছিলটি রেলগেট এলাকায় পৌছে একটি বিক্ষোভ সমাবেশ করে। অপরদিকে সকাল সাড়ে আটটার দিকে জেলার বেলকুচি উপজেলার সুবর্ন সাড়া মোড় এলাকায় হরতালে সমর্থনে মিছিল বের করে ১৮ দলের নেতা কর্মিরা। এসময় পুলিশ বাধা দিলে তাদের সাথে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে আহত হয় অন্তত ৫ জন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনতে ১১ রাউন্ড টিয়ারশেল ও রাবার বুলেট নিক্ষেপ করে পুলিশ। এদিকে জেলার উল¬াপাড়া উপজেলায় নাশকতার আশংকায় শনিবার রাতে চার জামায়াত-শিবির কর্মিকে আটক করেছে পুলিশ। আটককৃতরা হলেন, আব্দুল আজিজ, মোহাম্মদ হাবিবুল¬াহ, জয়নাল আবেদীন ও সরোয়ার হোসেন।




