স্টাফ রিপোর্টার : শেরপুর সরকারী ভিক্টোরিয়া একাডেমির সহকারী শিক্ষক রুহুল আমিনকে হত্যার উদ্দেশ্যে কুপিয়ে রক্তাক্ত করার চাঞ্চল্যকর মামলায় সোহাগ মিয়া (৩০) নামে এক যুবকের ৭ বছর সশ্রম কারাদন্ড ও ৫ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরও এক বছরের কারাদন্ড হয়েছে। ২ অক্টোবর বুধবার বিকেলে শেরপুরের চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট মোঃ সেলিম মিয়া ওই সাজার আদেশ দেন। একই মামলায় বছির উদ্দিন বসু (৪০) ও মামুন মিয়া (৩৩) কে ১ বছরের সশ্রম কারাদন্ড এবং শাপলা বেগম, (২৮), হাসনা বেগম (৫৩), হামেদা বেগম (৫৫), (৩৫), হেলেনা বেগম (৩৫), হেনা বেগম (৩৩) ও হাসি বেগম (৩০) কে ১ হাজার টাকার অর্থদন্ড অনাদায়ে ১ মাসের বিনাশ্রম কারাদন্ড দেওয়া হয়েছে। দন্ডিতরা সবাই শেরপুর শহরের গৌরীপুর মহল্লার বাসিন্দা।

এদিকে, ওই রায়ের প্রতিক্রিয়ায় মামলার সংবাদদাতা বাদী শফিউল ইসলাম ইমরান ও জখমী স্কুল শিক্ষক রুহুল আমিন সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। এব্যাপারে রুহুল আমিন জানান, দীর্ঘদিন স্বাভাবিক জীবন যাপন থেকে বিরত থাকার পরও তিনি এই দিনটির জন্যই অপেক্ষা করছিলেন। মামলায় মূল আসামীসহ সহযোগী সকলের শাস্তি হওয়ায় তিনি বেজায় খুশি।
আদালত সূত্র জানায়, শেরপুর শহরের গৌরীপুর মহল্লার বাসিন্দা এবং সরকারী ভিক্টোরিয়া একাডেমির সহকারী শিক্ষক রুহুল আামিন (৪৫) কে ২০১০ সালের ২২ সেপ্টেম্বর সকালে বসতবাড়ির সুপারী গাছ কাটতে বাধা দেওয়ায় প্রতিবেশি ইব্রাহিম খলিলের সন্ত্রাসী পুত্র সোহাগ মিয়ার নেতৃত্বে আসামীরা তার ওপর হামলা চালায়। এক পর্যায়ে সোহাগ হাতে থাকা কুড়াল দ্বারা রুহুল আমিন মাষ্টারের মাথায় কুপ দিলে তিনি রক্তাক্ত হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়লে অন্যরা এলোপাথারীভাবে তাকে মারপিট করে গুরুতর জখম করে। পরে পরিবারের লোকজন ও প্রতিবেশিরা তাকে উদ্ধার করে। ওই ঘটনায় তার ছোটভাই শফিকুল ইসলাম ইমরান বাদী হয়ে সোহাগসহ ৯ জনের বিরুদ্ধে একটি মামলা দিলে থানা পুলিশ তদন্ত শেষে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়ায় বাদী, জখমী ও তদন্ত কর্মকর্তাসহ ৯ জন স্বাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে আদালত সকলকে দোষী সাব্যস্ত করে ওই সাজার আদেশ দেন।
মামলাটি রাষ্ট্রপক্ষে এডভোকেট গোবিন্দ চন্দ্র রায় এবং আসামীপক্ষে এডভোকেট মোখলেসুর রহমান আকন্দ পরিচালনা করেন।




