শ্যামলবাংলা ডেস্ক : মহান মুক্তিযুদ্ধে মুক্তিবাহিনীর প্রধান সেনাপতি বঙ্গবীর জেনারেল এমএজি ওসমানীর ৯৫তম জন্মবার্ষিকী আজ ১ সেপ্টেম্বর। আতাউল গণি ওসমানী ১৯১৮ সালের এই দিনে সিলেট জেলার ওসমানীনগর থানার দয়াময়ীতে সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। বাবা খান বাহাদুর মফিজুর রহমান ছিলেন তখনকার সুনামগঞ্জের এমডিও। মা মোছাঃ জোবেদা খাতুন একজন আদর্শ গৃহিণী। তিনি জাতীয় জনতা পার্টির চেয়ারম্যান ছিলেন।
মুক্তিযুদ্ধে সর্বাধিনায়কের দায়িত্ব পালন করে তিনি জাতিকে উপহার দিয়েছেন হাজার বছরের প্রত্যাশিত ভূখণ্ড স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে জাতির সঙ্কটময় মুহূর্তে তিনি মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক নিযুক্ত হন। ১২ এপ্রিল থেকে এমএজি ওসমানী মন্ত্রীর সমমর্যাদায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রধান সেনাপতি হিসেবে যুদ্ধ পরিচালনার দায়িত্বভার গ্রহণ করেন৷ রণকৌশল হিসেবে প্রথমেই তিনি সমগ্র বাংলাদেশকে ভৌগোলিক অবস্থা বিবেচনা করে ১১টি সেক্টরে ভাগ করে নেন এবং বিচক্ষণতার সঙ্গে সেক্টরগুলো নিয়ন্ত্রণ করতে থাকেন৷ ১৬ ডিসেম্বর ১৯৭১ সালে পাকবাহিনীর আনুষ্ঠানিক আত্মসমর্পণের মাধ্যমে বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জিত হয়৷স্বাধীন দেশের গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার তাকে কর্নেল থেকে জেনারেলে উন্নীত করে৷
ক্যান্সার আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসার্থে লন্ডন থাকাকালে ১৯৮৪ সালের ১৬ ফেব্র“য়ারী এমএজি ওসমানী মৃত্যুবরণ করেন। তাকে পূর্ণ সামরিক মর্যাদায় সিলেটে সমাহিত করা হয়। তার স্মরণে ঢাকায় গড়ে উঠেছে ‘ওসমানী উদ্যান’, ‘ওসমানী মেমোরিয়াল হল’। এছাড়া তার সিলেটস্থ বাসভবনকে পরিণত করা হয়েছে জাদুঘরে। সিলেট শহরে তার নামে ওসমানীনগর থানা, হাসপাতাল, বিমানবন্দর, স্মুৃতি পাঠাগার ও জাদুগর ছাড়াও অসংখ্য সামাজিক সংগঠন গড়ে উঠেছে।




