শ্যামলবাংলা ডেস্ক : পটুয়াখালী ও ঝালকাঠি জেলার ৬৮টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। দেশের দক্ষিণাঞ্চলের বেশ কয়েকটি জেলায় বন্যা পরিস্থিতির চরম অবনতি হয়েছে। ভোলায় মেঘনা পারের ১২ কি.মি বেড়িবাঁধ অরক্ষিত হয়ে পড়েছে। বাঁধ ভাঙনে ৬০ গ্রামের প্রায় ২ লাখ মানুষ পানিবন্দী। ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে বাগেরহাট শহররক্ষা বাঁধ। জোয়ারের পানিতে নদীসংলগ্ন গ্রামগুলোর অর্ধলক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দী অবস্থায় মানবেতর জীবনযাপন করছে। জোয়ারের পানিতে ভোলা-চরফ্যাশন আঞ্চলিক মহাসড়কের দুই পাশের শত শত একর ফসলি জমি পানিতে তলিয়ে গেছে।
বোরহানউদ্দিন উপজেলার কুতুবা ইউনিয়নের জামাল তালুকদার জানান, জোয়ারের পানিতে আমাদের বাড়িঘর, রাস্তাঘাট সব তলিয়ে গিয়েছে। সরকার কিংবা জনপ্রতিনিধিরা কেউ আমাদের খোঁজ-খবর নিচ্ছেনা। ঘূর্ণিঝড় মহাসেনের আঘাতে বিধ্বস্ত বেড়িবাধ দিয়ে পানি ঢুকে প্রতিটি ইউনিয়নের লাখ লাখ মানুষ পানিবন্দী রয়েছে। ডুবে গেছে রাস্তাঘাট। এখন বেড়িবাঁধের কাজ শুরু হলেও ঠিকাদার ঠিকমতো কাজ করছেন না বলে অভিযোগ করেন তিনি।
এলাকাবাসী জানান, ঘূর্ণিঝড় মহাসেনের আঘাতে ও মেঘনার প্রবল স্রোতে পাউবোর ক্ষতিগ্রস্ত বেড়িবাঁধ মেরামত না করায় সেই বাঁধ দিয়ে পানি ঢুকে উপজেলার সবকটি ইউনিয়ন তলিয়ে যায়। স্রোতের তোড়ে রাস্তাঘাট ভেঙে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। পানির তোড়ে ভেসে গেছে পুকুর ও ঘেরের কোটি কোটি টাকার মাছ।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী এম এ হান্নান জানান, বেড়িবাঁধ অরক্ষিত থাকায় জোয়ারের পানি ঢুকে বোরহানউদ্দিন উপজেলার কয়েকটি ইউনিয়ন প্লাবিত হয়েছে। জোয়ারের চাপ কমে গেলে বেড়িবাঁধের কাজ শুরু করা হবে।
প্রচণ্ড পানির চাপে বাগেরহাটের বিভিন্ন এলাকায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের ১২ কিলোমিটার বেড়িবাধ চরম ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। জোয়ারে বাগেরহাট সদর, মংলা, রামপাল, শরণখোলা, কচুয়া ও মোরেলগঞ্জ উপজেলার নদীসংলগ্ন গ্রামগুলো প্লাবিত হয়ে অর্ধলক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। যেকোনো সময় ওই বেড়িবাধ ভেঙে গ্রামের পর গ্রাম প্লাবিত হতে পারে বলে শঙ্কিত এলাকাবাসী। এছাড়া হুমকির মধ্যে রয়েছে মুনিগঞ্জ থেকে দড়াটানা পর্যন্ত ৪.৯ কিলোমিটার শহর রক্ষাবাঁধের বিভিন্ন এলাকা।
এদিকে, পটুয়াখালীর রামনাবাদ, আন্ধারমানিক, পায়রা, তেঁতুলিয়া, লোহালিয়া, বুড়াগৌরঙ্গ ও শ্রীমন্ত নদীর পানি অস্বাভাবিক জোয়ারে নদীর তীরবর্তী ৪৮ গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। জোয়ারের পানির প্রবল চাপে ভেঙে গেছে গলাচিপার বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ। প্লাবিত এলাকার আমন বীজতলা সম্পূর্ণ ভেসে গেছে। বুড়াগৌরঙ্গ নদী তীরবর্তী রতনদি তালতলি ইউনিয়নের গ্রামর্দন গ্রামের বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ ভেঙে ১২টি গ্রাম ইতোমধ্যে প্লাবিত হয়েছে।
অন্যদিকে, ঝালকাঠির সুগন্ধা ও বিষখালী নদীর পানি বেড়ে গিয়ে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। জোয়ারের পানি অস্বাভাবিক ম্ত্রাায় বৃদ্ধি পাওয়ায় ঝালকাঠি শহররক্ষা বাঁধ অতিক্রম করে কলাবাগান ও নতুনচর এলাকায় পানি ঢুকে পড়েছে। কাঁঠালিয়ায় অস্থায়ী বেড়িবাঁধ ভেঙে ২০টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে।
এছাড়া নলছিটি ও রাজাপুর উপজেলার পালট বড়ইয়া নদীর তীব্র ভাঙনের মুখে নদী তীরবর্তী বেড়িবাঁধ অতিক্রম করে পানিতে তলিয়ে গেছে বারইকরণ, দপদপিয়া, মল্লিকপুর, খোজাখালী ও বাদুড়তলা গ্রাম। প্লাবনের ফলে ওই এলাকায় আমন বীজতলা, ফসলের ক্ষেত ও বসতঘরের ব্যাপক ক্ষতি সাধিত হয়েছে ।




