স্টাফ রিপোর্টার : শেরপুরে প্রশ্নসহ উত্তরপত্র বাইরে সরবরাহ এবং উত্তরপত্র লিখে পরীক্ষার্থীকে সুবিধা দেওয়ার চেষ্টার দায়ে এক শিক্ষক ও তার সহযোগীকে কারাদন্ড দিয়েছেন আদালত। ১৭ মে মঙ্গলবার বিকেলে অতিরিক্ত চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ মোমিনুল ইসলাম জনাকীর্ণ আদালতে ওই রায় ঘোষণা করেন। দন্ডিতরা হচ্ছেন জেলা শহরের জি.কে পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের সিনিয়র সহকারি শিক্ষক ও সদর উপজেলার চরভাবনা গ্রামের ময়েজ উদ্দিন মন্ডলের ছেলে ইয়াকুব আলী (৩৩) এবং একই উপজেলার নলবাইদ গ্রামের মৃত আব্দুল মোতালেবের পুত্র মোঃ লাল মিয়া (২৮)। এদের মধ্যে ইয়াকুব আলীকে পাবলিক পরীক্ষা নিয়ন্ত্রণ আইনের ৯ ধারায় ৩ বছরের সশ্রম কারাদন্ড ও ৫ হাজার টাকা অর্থদন্ড, অনাদায়ে আরও দুই মাসের বিনাশ্রম কারাদন্ড এবং লাল মিয়াকে ২ বছরের সশ্রম কারাদন্ড ও ২ হাজার টাকা অর্থদন্ড, অনাদায়ে আরও এক মাসের বিনাশ্রম কারাদন্ড দেওয়া হয়েছে।
জানা যায়, ২০১২ সালের এসএসসি পরীক্ষা চলাকালে জি.কে পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ইয়াকুব আলী পদাধিকারবলে তার স্কুল কেন্দ্রের সচিবের দায়িত্ব পালন করছিলেন। ওই অবস্থায় ২৯ জুন ইংরেজি প্রশ্নসহ উত্তরপত্র বাইরে সরবরাহ করে কেন্দ্র সংলগ্ন তার নিজের বাসায় দুই মহিলা পরীক্ষার্থীর পক্ষে উত্তরপত্র লেখার সুযোগ করে দেন। গোপন সূত্রে খবর পেয়ে তার বাসায় গিয়ে হাতে-নাতে দুই পরীক্ষার্থীসহ কয়েকজনকে আটক করে। পরে তাদের দেওয়া তথ্য মোতাবেক পুলিশ বাদী হয়ে সরকারি ভিক্টোরিয়া একাডেমীর শিক্ষক আমিনুল ইসলাম ও জি.কে পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক ইয়াকুব আলী এবং দুই পরীক্ষার্থীসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট আইনে শেরপুর সদর থানায় একটি মামলা দায়ের করে। পরবর্তীতে পুলিশ তদন্ত শেষে ওই ৫ জনের বিরুদ্ধেই আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করলে চার্জ গঠনের সময় শিক্ষক আমিনুল ইসলাম অব্যাহতি পায়। অপর ৪ জনের বিরুদ্ধে বিচার চলাকালে মামলায় বাদী, ম্যাজিস্ট্রেট ও তদন্ত কর্মকর্তাসহ ১৫ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে আদালত দুই পরীক্ষার্থীকে খালাস দিয়ে অপর দুই জনের বিরুদ্ধে ওই রায় প্রদান করেন।




