কুমিল্লায় ৭০০ পূজা মন্ডপের মধ্যে অধিক গুরুত্বপূর্ণ ২শ’৯টি ও গুরুত্বপূর্ণ ২শ’ ২৫টি
তাপস চন্দ্র সরকার, কুমিল্লা : “ধর্ম যার যার, উত্সব সবার”- এ শ্লোগানটি সামনে রেখে “হিন্দু সনাতন ধর্ম্মালম্বীদের সর্ববৃহৎ উত্সব শারদীয়া দুর্গোত্সব এবং মুসলমান ধর্ম্মালম্বীদের ঈদ-উল-আযহা” দুই সম্প্রদায়ের দু’টি উত্সবে বিগত বছরের ন্যায় এবারও সার্বজনীন উত্সবে রূপ দিতে কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশন এলাকাসহ কুমিল্লার ১৬ উপজেলায় ছিনতাই ও চাঁদাবাজীসহ যে কোন ধরণের নাশকতা ঠেকাতে নেয়া হয়েছে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা।
কুমিল্লা ডিবি অফিস সূত্রে জানা যায়- আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর হতে ৪ অক্টোবর ২০১৪ইং পর্যন্ত দেশব্যাপী হিন্দু সম্প্রদায়ের বৃহত্তম ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা যাহাতে উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্যদিয়ে নির্বিঘেœ উৎসব উদযাপন করতে পারে সেলক্ষ্যে কুমিল্লা জেলার ১৬ উপজেলায় ৭০০টি পূজা মন্ডপে নেয়া হয়েছে সর্বাত্মক নিরাপত্তা ব্যবস্থা। এর মধ্যে ২০৯টি অধিক গুরুত্বপূর্ণ ও ২২৫টি গুরুত্বপূর্ণ এবং ২৬৬টি সাধারণ পূজা মন্ডপ রয়েছে। জেলার ১৬ উপজেলা কোতয়ালীতে ৬৫ পূজা মন্ডপের মধ্যে অধিক গুরুত্বপূর্ণ ২৪টি ও গুরুত্বপূর্ণ ২৭টি, অধিক গুরুত্বপূর্ণ সদর দক্ষিণে ৪৭টি পূজা মন্ডপের মধ্যে ৯টি ও গুরুত্বপূর্ণ ১৮টি, চৌদ্দগ্রামে ২১টি পূজা মন্ডপের মধ্যে অধিক গুরুত্বপূর্ণ ৮টি ও গুরুত্বপূর্ণ ৬টি, চান্দিনায় ৬৪টি পূজা মন্ডপের মধ্যে অধিক গুরুত্বপূর্ণ ১১টি ও গুরুত্বপূর্ণ ৯টি, বুড়িচংয়ে ৩৬টি পূজা মন্ডপের মধ্যে অধিক গুরুত্বপূর্ণ ১২টি ও গুরুত্বপূর্ণ ১২টি, ব্রাহ্মণপাড়ায় ১৬টি পূজা মন্ডপের মধ্যে অধিক গুরুত্বপূর্ণ ১২টি ও গুরুত্বপূর্ণ ২টি, বরুড়ায় ৮০টি পূজা মন্ডপের মধ্যে অধিক গুরুত্বপূর্ণ ২৬টি ও গুরুত্বপূর্ণ ২১টি, লাকসামে ৩০টি পূজা মন্ডপের মধ্যে অধিক গুরুত্বপূর্ণ ১১টি ও গুরুত্বপূর্ণ ৬টি, মনোহরগঞ্জে ১২টি পূজা মন্ডপের মধ্যে অধিক গুরুত্বপূর্ণ ৪টি ও গুরুত্বপূর্ণ ১টি, নাংগলকোটে ৮টি পূজা মন্ডপই অধিক গুরুত্বপূর্ণ, দাউদকান্দিতে ৪৮টি পূজা মন্ডপের মধ্যে অধিক গুরুত্বপূর্ণ ১০টি ও গুরত্বপূর্ণ ২৬টি, তিতাসে ৮টি পূজা মন্ডপের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ ৬টি, হোমনায় ৩৮টি পূজা মন্ডপের মধ্যে অধিক গুরুত্বপূর্ণ ১৬টি ও গুরুত্বপূর্ণ ১১টি, মেঘনায় ৪টি পূজা মন্ডপের মধ্যে ৪টিই অধিক গুরুত্বপূর্ণ, দেবিদ্বারে ৭২টি পূজা মন্ডপের মধ্যে অধিক গুরুত্বপূর্ণ ৭টি ও গুরুত্বপূর্ণ ২৩টি, মুরাদনগরে ১৫১টি পূজা মন্ডপের মধ্যে অধিক গুরুত্বপূর্ণ ৪৭টি ও গুরুত্বপূর্ণ ৫৭টি।
জেলা বিশেষ শাখা’র ডিআইও (১) মোঃ কামাল উদ্দিন জানান- শারদীয়া দুর্গাপূজা আইন-শৃঙখলা রক্ষার্থে পূজা সংক্রান্ত যে কোন তথ্য তাৎক্ষণিক অবহিত করতে জেলা সদরে অবস্থিত পুলিশ কন্ট্রোলরুম “পূজা কন্ট্রোলরুম”- এর নম্বর ০৮১-৬৫০১২ এবং মোবাইল নম্বর- ০১৭১৮-৪৬৪২৬৮। কুমিল্লা ডিএসবি ডিআইও (১) মোবাইলঃ- ০১৭১৩-৩৭৩৬৮৪ এবং কুমিল্লা ডিএসবি ডিআইও (সদর) এসআই মোঃ হুমায়ুন কবির (মোবা:- ০১৭১২-০১১৯০১) ও এসআই মোঃ আব্দুর রউফ (মোবাইল:- ০১৭১১-৭৩৮৭৭৭) চালু করা হয়েছে।
ডিবি অফিসের মুন্সি নেপাল চন্দ্র শীল জানান- জেলার ১৬ উপজেলায় শারদীয় দুর্গোৎসবে যে কোন ধরনের নাশকতা এড়াতে মোতায়েন থাকবে পোষাকধারী পুলিশ, ডিবি পুলিশ, আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষাবাহিনী এবং আইন-শৃংখলা নিয়ন্ত্রনের জন্য পুলিশ সদস্যদের আইনগত নির্দেশনা প্রদানের জন্য জেলার ১৬টি উপজেলায় ১জন করে ১৬জন এবং জেলা সদরের জন্য অতিরিক্ত ২জন মোট ১৮জন ম্যাজিষ্ট্রেট মোতায়েন থাকবে। এ ছাড়া মোবাইল টীম, বিশেষ মোবাইল ডিউটি, মোটর সাইকেল যোগে মোবাইল ডিউটি সহ র্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)- ১১ নিয়োজিত থাকবে।
তিনি আরও জানান, আগামী ২৯ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা ১৭.০০ ঘটিকা হতে ৪ অক্টোবর প্রতিমা বিসর্জন না হওয়া পর্যন্ত অধিক গুরুত্বপূর্ণ পূজা মন্ডপ গুলোতে এএসআই/এনসিও/কনষ্টবল-২জন ও গুরুত্বপূর্ণ মন্ডপ গুলোতে কনষ্টবল ১জন নিয়োজিত থাকবে। এছাড়াও প্রতিটি অধিক গুরুত্বপূর্ণ পূজা মন্ডপে পিসি-১, এপিসি-১, পুরুষ আনসার-৪ ও মহিলা আনসার- ৪জন এবং গুরুত্বপূর্ণ পূজা মন্ডপে এপিসি-১, পুরুষ আনসার-৩, মহিলা আনসার-২জন এবং সাধারণ পূজা মন্ডপে এপিসি-১, পুরুষ আনসার-২ ও মহিলা আনসার-১জন করে নিয়োজিত থাকবে।
নগরীর লির্বাটি মোড় হতে রাজগঞ্জ পর্যন্ত ২টি ক্রস পেট্রোল ডিউটি মোতায়েন থাকবে। প্রতিটি টীমে এসআই/এএসআই-১জন কোতয়ালী থানা, এনসিও-১জন ও কনষ্টবল-৩জন এবং নগরীর দঃ ঠাকুরপাড়া কালিগাছতলা বৌদ্ধ মন্দিরে স্মৃতিচারণ সংঘের পূজায় বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থায় এসআই/এএসআই-১জন কোতয়ালী থানা, এনসিও-১জন ও কনষ্টবল-৩জন। এছাড়াও মাঠে থাকবে র্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)-১১।
বাংলাদেশ পূজা উদ্যাপন পরিষদ কুমিল্লা জেলা শাখার ভারপ্রাপ্ত সভাপতি চান্দিনা উপজেলা চেয়ারম্যান তপন বক্সী ও সাধারণ সম্পাদক ট্রাস্টি নির্মল পাল জানান- ইতোমধ্যে চন্ডিপাঠের মধ্যদিয়ে দেবী দূর্গাকে স্বর্গালোক থেকে মত্তলোকে আসার জন্য আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। শাস্ত্র মতে, এ বছর বিপদনাশিনী দেবীর নৌকায় আগমন ঘটবে এবং দেবীর দোলায় গমন করবেন। আগামি ৩০ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার ষষ্ঠী তিথিতে দেবী দূর্গার বোধন, আমন্ত্রণ ও অধিবাসের মধ্যদিয়ে শুরু হতে যাচ্ছে সনাতন ধর্ম্মালম্বীদের সর্ববৃহৎ ধর্মীয় উৎসব শারদীয়া দূর্গাপুঁজো এবং ৪ অক্টোবর শনিবার দশমীর পর প্রতিমা বির্সজনের মধ্যদিয়ে শেষ হবে শারদীয়া দূর্গোৎসব। শরতের কাশফুলের সাদা শুভ্রতা মনে করিয়ে দেয় বিপদনাশিনী দেবী দূর্গার আগমনী বার্তা। নর-নারী, তরুণ-তরুণীদের এমনকি বৃদ্ধ-বৃদ্ধারাও দেবীর আর্শিবাদ পাওয়ার আশায় প্রতিজ্ঞায় প্রহর গুন্ছে পুজার এই শুভ লগ্নে।
সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে- মন্ডপে প্রতিমা র্নিমাণের কাজ প্রায় শেষের দিকে। শারদীয়া দুর্গা উৎসব জমিয়ে তুলেছে মূর্তি রং করার কাজে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন মৃৎশিল্পীরা। নিখুঁত রং তুলিতে দেবীকে অপরুপ সাজে সাজিয়ে তুলছেন বিভিন্ন জেলা হতে কুমিল্লায় আগত মৃৎশিল্পীরা। পুজো মন্ডপগুলোতে পরিস্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ হরধুম চলছে এবং অস্থায়ী পূঁজো মন্ডপ তৈরী ও অপরুপ সাজ-সজ্জার কাজে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন নগরী’র বিভিন্ন ফুল ও ডেকোরেটর দোকান গুলোর মালিক ও কর্মচারীরা।
এদিকে, কুমিল্লা জেলা প্রশাসক মোঃ হাসানুজ্জামান কল্লোল বলেন- সকল সম্প্রদায়ের মধ্যে সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতির সম্পর্ক গড়ে তুলতে প্রশাসন বদ্ধপরিকর। আসন্ন শারদীয় দুর্গোৎসব এবং ঈদ-উল-আযহাকে সার্বজনীন উৎসবে রূপ দিতে সকল প্রকার অশুভ ও সাম্প্রদায়িক শক্তির বিরুদ্ধে সজাগ থাকার জন্য সকলের প্রতি আহবান জানান তিনি।
এ ব্যাপারে কুমিল্লা পুলিশ সুপার টুটুল চক্রবর্তী জানান- আসন্ন শারদীয়া দুর্গোৎসব এবং ঈদ-উল-আযহা ওই দু’টি উৎসবকে সার্বজননী উৎসবে রূপ দিতে এবং ছিনতাই ও চাঁদাবাজীসহ যে কোন ধরণের নাশকতা ঠেকাতে কুমিল্লার ১৬ উপজেলায় নেয়া হয়েছে সর্বাত্মক নিরাপত্তা ব্যবস্থা। এছাড়াও মাঠে থাকবে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েনসহ গোয়েন্দা নজরদারী।
১০ বর্ডার গার্ড ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক পরিচালক মোঃ শহিদুর রহমান জানান- আগামী ২৯ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা ১৭.০০ ঘটিকা হতে ৪ অক্টোবর প্রতিমা বিসর্জন না হওয়া পর্যন্ত কুমিল্লার সীমান্তবর্তী এলাকায় শারদীয়া দুর্গোৎসব উপলক্ষ্যে যে কোন ধরনের নাশকতা ঠেকাতে বিজিবি’র টহল জোরদার থাকবে।
কোতয়ালী থানা অফিসার্স ইনচার্জ মোঃ খোরশেদ আলম জানান- কুমিল্লার আদর্শ সদর এলাকার অধিক গুরুত্বপূর্ণ ও গুরুত্বপূর্ণ পূজা মন্ডপগুলোতে থাকবে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েনসহ গোয়েন্দা নজরদারী। আশা করছি নিশ্চিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা মধ্যদিয়ে শারদীয়া দুর্গোৎসব উদ্যাপিত হবে। তিনি আরও বলেন, মাদক সেবনকারী, চাঁদাবাজ ও ছিনতাইকারীদের সাথে কোন আপোষ নয়। এরা যে দলেরই হউক না কেন আটক করে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করা হবে।




