তাপস কুমার, আত্রাই (নওগাঁ) : নওগাঁর আত্রায়ের আহসানগঞ্জ রেলওয়ে স্টেশনে রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনী না থাকায় ট্রেন যাত্রীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। এক সময়ের জাঁকজমকপূর্ণ এ স্টেশনে এখন নিরাপত্তাহীনতার কারণে সন্ধার পর সাধারণ যাত্রীরা উদ্বেগ আর উৎকন্ঠায় প্রহর গুনে।

জানা যায়, সেই ব্রিটিশ শাসনামলে এ রেলওয়ে স্টেশনটির নাম ছিল আত্রাইঘাট রেল স্টেশন । পরবর্তীতে এটি আহসানগঞ্জ রেলওয়ে স্টেশন নামে পরিচিতি লাভ করে । সে সময় থেকেই রেলওয়ে প্লাটফরেম উত্তর পূর্ব ধারে একটি নিরাপত্তা ব্যারাক ছিল। রেলের সম্পত্তি রক্ষণাবেক্ষণ ও সাধারণ যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত থাকতে এ ব্যারাকে থাকত পর্যাপ্ত সংখ্যক নিরাপত্তা বাহিনী । সেই সময় যাত্রীরাও দিবানিশি নির্বিঘেœ চলাচল করতে পারত ।
রেলওয়ে সূত্র জানায় ৯০’র দশকে এ স্টেশন থেকে নিরাপত্তা বাহিনী প্রত্যাহার করে নেয়া হয়। ফলে এ ব্যারাকটি পরিত্যক্ত হয়ে পড়ে । ওই দশকের শেষের দিকে রেলের অনুমোদন স্বাপেক্ষে পরিত্যাক্ত এ ব্যারাকটি ভেঙ্গে সেখানে বাণিজ্যিক কেন্দ্র গড়ে তুলা হয় । এ পর থেকেই আত্রাইয়ের নিরাপত্তা বাহিনী টহল বা রেলওয়ের সম্পতি রক্ষাণাবেক্ষণের কার্যকর কোন পদক্ষেপ নেয়া হয়নি । ফলে ট্রেনযাত্রীদের উদ্বেগ আর উৎকন্ঠার মধ্যদিয়ে ট্রেনের জন্য অপেক্ষা করতে হয় এ প্লাটফরমে। জানা যায়, ঢাকাগামী আন্তঃনগর ট্রেনগুলোর মধ্যে একমাত্র নীলসাগর এক্রাপ্রেস ট্রেনের স্টপেজ আত্রাইয়ে রয়েছে । আর ঢাকার অভিমুখে যাওয়ার সময় এ ট্রেন আত্রাই পৈীঁছে রাত আড়াইটায়। এ গভীর রাতে প্রতিনিয়ত ঢাকাগামী যাত্রী অসংখ্য যাত্রী ভোগে চরম নিরাপত্তাহীনতায়। বিশেষ করে ওই গভীর রাতে যে সকল যাত্রী ট্রেন থেকে নামেন তাদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয় ।
এদিকে যাত্রীদের বিশ্রামাগারের মধ্যে প্রথম শ্রেণীর বিশ্রামাগারটি প্রায় সময় তলাবন্ধ থাকে । আর দ্বিতীয় শ্রেণীর বিশ্রামাগারটি দখল করে রেখেছে আনসার ভিডিবির সদস্যরা । আত্রাই নদীর ওপর দিয়ে নির্মিত রেলব্রিজ পাহারার দায়িত্বে নিয়োজিত আনসারদের অবস্থানের জন্য পৃথক কোন ব্যবস্থা না থাকায় তারা এখন যাত্রীদের জন্য নির্মিত বিশ্রামাগারটি দখল করে নিয়েছে । ফলে উন্মুক্ত প্লাটফরমটি ছাড়া যাত্রীদের অবস্থানের আর কোন জায়গা নেই । আত্রাইয়ের ট্রেনযাত্রী আকাশ হোসেন বলেন, প্রতিদিন আত্রাই থেকে বিপুল সংখ্যক যাত্রী ট্রেন যোগে ঢাকা যান। এ ট্রেনটি গভীর রাতে হাওয়ায় এবং এখানে রেলের নিরাপত্তা ব্যবস্থা না থাকায় যাত্রীদের চরম উৎকন্ঠার সাথে এ প্লাটফরমে অবস্থান করতে হয়। বিশেষ করে নারী ও শিশু যাত্রীদের নিয়ে ভ্রমনের সময় এ উৎকন্ঠা আরও বেড়ে যায়।
এ ব্যাপারে আত্রাই রেলওয়ে ষ্টেশন মাষ্টার সাইফুল ইসলাম বলেন, ৯০ এর দশকের শেষের দিকে নিরাপত্তা ব্যারাকটি ভেঙ্গে ফেলা এখানে নিরাপত্তা বাহিনী দেওয়া হয়নি। বিষয়টি উর্দ্বধন কর্তৃপক্ষের নিকট জানানো হয়েছে। তারাই এব্যাপারে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহন করবে।




