এইচ এম নাসির উদ্দিন আকাশ, ঝালকাঠি : ৫ দিন অতিবাহিত হলেও ঝালকাঠির নলছিটি পৌরসভার অনুরাগ এলাকায় বাড়ী থেকে ডেকে নিয়ে গুম করা গৃহবধূ নারগিস চৌধুরী (৩৫) কে উদ্ধার করতে পারেনি পুলিশ। এ ঘটনায় ৪ জনকে আসামী করে অপহৃতার একমাত্র কন্যা সুমাইয়া আক্তার রিমি মামলা দায়ের করলেও রহস্যজনক কারনে পুলিশ ভিকটিমকে উদ্ধার ও প্রধান আসামীকে গ্রেপ্তারে কার্যকর উদ্যোগ নিচ্ছেনা বলে অভিযোগ উঠেছে।

মামলার বিবরন ও বাদীনির সাথে আলাপকালে জানায়, স্বামী পরিত্যাক্তা গুম হওয়া গৃহবধূ নার্গিস চৌধুরী (৩৫) একমাত্র মেয়ে সুমাইয়া আক্তার রিমির (১৫) কে নিয়ে নলছিটি পৌরসভার অনুরাগ এলাকার পৈত্রিক বাড়ীতে বসবাস করে আসছে। গত ২৮ এপ্রিল রাত আনুমানিক সাড়ে ১১টায় জমিজমা সংক্রান্ত পূর্ব বিরোধী রুনু চৌধুরী, মনোয়ারা বেগম, জলিল ওরফে মানিক সরদার ও রিফাত চৌধুরী কথা আছে বলে ঘর থেকে ডেকে নিয়ে যায়।
কিন্তু রাত গভীর হলেও সে ফিরে না আসায় চিন্তিত সুমাইয়া আশে পাশের বাড়ীতে খুজাখুজি করেও তার সন্ধান না পেয়ে পরের দিন ২৯ এপ্রিল নলছিটি থানায় অপহরনের অভিযোগে মামলা দায়ের করে। পুলিশ এজাহারভূক্ত মানিক সরদার কে গ্রেপ্তার করে আদালতে সোপর্দ করে। তবে গুম হওয়ার পর ৫দিনেও পুলিশ ভিকটিম নারগিস চৌধুরীকে উদ্ধার করতে না পারায় ‘সে জীবিত আছে না মেরে ফেলা হয়েছে তা নিয়েও’ সংশয় সৃষ্টি হয়েছে। মামলার বাদী নলছিটি বালিকা বিদ্যালয়ের দশম শ্রেনীর ছাত্রী ও পিতৃহারা অসহায় সুমাইয়া আক্তার রিমির (১৫) তার একমাত্র অবলম্বন মাকে গুম করার পর দিশেহারা হয়ে পরেছে। উপরন্তু আসামী রুনু চৌধুরী মামলা তুলে নিতে নানাভাবে হুমকি-ধূমকি দেয়ায় সে নিজের জীবন নিয়েও চরম আতংকে দিন কাটাচ্ছে। এলাকার প্রভাবশালী ব্যক্তি হওয়ায় বাবা-ভাই-বোনহীন একমাত্র কন্যা রিমিকে আত্মীয়-স্বজন বা এলাকাবাসী কেউ কোন সহযোগীতা করছেনা বলে সে জানিয়েছে।
এ ব্যাপারে নলছিটি থানায় মামলাটির তদন্তকারী কর্মকর্তা এস আই নিজাম জানান, জমিজমা সংক্রান্ত পূর্ব বিরোধের জের ধরে অপহরনের ঘটনা ঘটেছে বলে মামলার অভিযোগ ও প্রাথমিক তদন্তকালে জানা গেছে। এখন পর্যন্ত ভিকটিমকে উদ্ধার ও প্রধান আসামীকে গ্রেপ্তারের প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে




