রাণীনগর (নওগাঁ) প্রতিনিধি: হাত বাড়ালেই মাদক আর সন্ধ্যা হলেই জুয়া আর দেহ ব্যবসা । এমনই একটি গ্রামের নাম বাহাদুরপুর। জেলার রাণীনগর উপজেলার থানা থেকে কিছু দূরেই এই গ্রামটি । গ্রামের বেশ কয়েকটি বাড়িতে সব সময় পাওয়া যাচ্ছে দেশী মদ, হিরোইন, গাঁজা, ফেনসেডিলসহ নানান প্রকার মাদকদ্রব্য। মাদকের পাশাপাশি গ্রামের আনাচে-কানাচে প্রায় প্রতি রাতেই চলে জুয়ার আসর।
এতে গ্রামে বাড়ছে বিভিন্ন রকমের অপরাধমূলক কর্মকান্ড এবং উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছে বাহাদুরপুর গ্রাম ও আশেপাশের সচেতন অভিভাবক মহল। হাতের কাছে মাদকদ্রব্য পাওয়ায় আসক্ত হয়ে পড়ছে উর্তি বয়সের ছেলেরা। গ্রামের কতিপয় চিহ্নিত কিছু মাদক ব্যবসায়ীদের হাতে জিম্মি হয়ে পড়েছে এলাকার মানুষ। এই সব চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ীরা আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সাথে যোগসাজশে এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে মাদকদ্রব্য বিক্রয় করে আসছে বলে অভিযোগ এলাকার সচেতন মহলের।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় গ্রামের বিভিন্ন স্থানে পড়ে আছে ইনজেকশনের সিরিঞ্জ, ফেনসেডিলের বোতল, চলছে জুয়ার আসর ।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক গ্রামবাসীরা জানান, বাহাদুরপুর গ্রামের আব্দুল লতিফের স্ত্রী মালা আকতার (৪০) ও তার পরিবারের সদস্যরা এলাকার প্রভাবশালী মহলের আশির্বাদে ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থার যোগসাজশে দাপটের সাথে মাদক ব্যবসা চালিয়ে আসছে। শুধু তাই না নিজ বাড়িতে চালিয়ে আসছে দেহ ব্যবসা। সন্ধ্যার পর থেকে তার বাড়িতে অচেনা মানুষদের যাতায়াত করতে দেখা যায়। দেখা যায় প্রশাসনের বিভিন্ন লোকদেরও। একাধিকবার কারাভোগের পর ছাড়া পেয়ে ফিরে যায় মাদক ব্যবসায়। তার এসব অবৈধ কর্মকান্ডে অতিষ্ট হয়ে পড়েছে এলাকাবাসী। এই গ্রামের প্রধান মোজ্জাম্মেল হোসেন (৪৫) ও আব্দুর রাজ্জাক(৫০) বলেন, এই সব চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে কোন কিছু করতে গেলেই এলাকার প্রভাবশালীদের হাতে বিভিন্ন ভাবে আমাদেরকে লাঞ্চিত হতে হয় তাই আমরা হাল ছেড়ে দিয়েছি।
বাহাদুরপুর গ্রামের ব্যবসায়ী কালামের ছেলে জুয়েল (৩০), ছালামের ছেলে রাজু (২৫), পাশের পূর্ব বালুভরা গ্রামের মৃত-গফুরের ছেলে মাজেদুল ইসলাম (৪৫) ও ইবির উদ্দিনের ছেলে মোহন (২৫) এলাকার মাদক ব্যবসার গডফাদার নামে পরিচিত। প্রশাসনের সাথে এদের রয়েছে মধুর সম্পর্ক। এছাড়াও পূর্ব বালুভরা ( চোরপট্টিপাড়া ) গ্রামের প্রায়ই সকলেই এই অবৈধ মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত দীর্ঘদিন । থানার পাশের এই গ্রামের ব্যবসায়ীরা প্রশাসনকে আঙ্গুল দেখিয়ে ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে দাপটের সঙ্গে।
গ্রামের নুর ইসলাম (৫০) বলেন, আমার ১৫ বছরের একমাত্র ছেলে বন্ধুদের পালায় পড়ে ও হাতের নাগালে মাদকদ্রব্য পাওয়ায় আজ সে মাদকাসক্ত। একই গ্রামের ফল ব্যবসায়ী মেছের আলী (৪৫) এর ২ ছেলে, সার আলী (৫০) এর এক ছেলেসহ অসংখ্য তরুনরা আজ মাদকাসক্ত হয়ে পড়ছে। তাদের অভিযোগ বাহাদুরপুর গ্রাম থেকে মাদকের এই ব্যবসা উচ্ছেদ না হলে এই এলাকাসহ আশেপাশের এলাকার তরুন সমাজকে মাদকের এই অন্ধকার জগত থেকে আর রক্ষা করা সম্ভব হবে না।
এ ব্যাপারে রাণীনগর থানার ওসি আব্দুলাহ আল মাসউদ চৌধুরী মাদক ব্যবসায়ীদের সাথে পুলিশের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ অস্বীকার করে জানান, আমি রাণীনগর থানায় আসার পরপরই মালাকে আটক করে কোর্টে চালান করি। কিন্তু আদালত তাকে জামিন দিয়েছে। আর মাদকের বিরুদ্ধে আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। তাছাড়া রাণীনগরকে মাদকমুক্ত করতে এলাকাবাসীকে সচেতন হওয়ার পরামর্শ দেন।
এলাকাকে মাদকমুক্ত করতে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কঠোর পদক্ষেপের প্রয়োজন। পাশাপাশি এলাকাবাসীর সচেতনতা ও স্থানীয় জন প্রতিনিধিদের হস্তক্ষেপই পাড়ে অত্র এলাকাকে মাদকমুক্ত করতে এমনটাই প্রত্যাশা অভিভাবকদের।




