জসীম উদ্দিন তালুকদার, রাঙামাটি : রাঙামাটিতে পাহাড় ধসের সম্ভাবনা সত্তে¡ও কাপ্তাই হ্রদ ভরাট করে ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসবাস করছে অনেক পরিবার। তাছাড়া রাঙামাটি শহরে একটি প্রভাবশালী মহল কলেজ গেইট এলাকায় খাস জায়গায় পাহাড় কেটে ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশ সৃষ্টি করেছে। সূত্র জানায়, ফিবছর ভারি বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে পাহাড় ধসে পরিবেশ বিপর্যস্ত হয়।

সূত্র আশংকা আরও জানায়, এ অবস্থায় পার্বত্য এলাকার পরিবেশ বিস্ফোরন্মুখ হয়ে দাঁড়িয়েছে। পাহাড়ি ঢল ও পাহাড় ধসে প্রতি বছর এএলাকায় প্রাণহানিসহ সম্পদের ক্ষতিসাধন হয়। আগে থেকে এসব ক্ষতির প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা কর্তৃপক্ষ গ্রহণ না করায় এবং ঝুঁকিপূর্ণ বসবাসের সংখ্যা বৃদ্ধি পেতে থাকায় স্থানীয় সচেতন মহল উদ্বেগ প্রকাশ করেন। ফিবছর কাচালং,মাইনী ও লুসাই পাহাড় হতে কর্ণফুলী নদী দিয়ে ভারত থেকে পাহাড়ি ঢল নেমে ১ হাজার ৭শত ২২ বর্গ কিলোমিটার আয়তনের কাপ্তাই হ্রদের তলদেশ ক্রমশঃ ভরাট হচ্ছে। এ যাবত হ্রদ ড্রেজিং করার কাজ বাস্তবায়ন না হওয়ায় শুষ্ক মৌসুমে হ্রদবেষ্টিত উপজেলাগুলোয় নৌযান চলাচলে অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়। তাছাড়া কাপ্তাই বিদ্যুৎ কেন্দ্রেও বিদ্যুৎ উৎপাদন মারাত্মকভাবে হ্রাস পায়। সাম্প্রতিক বছরগুলোয় পাহাড় ধসও পাহাড়ি ঢলে অসংখ্য ব্রীজ-কালভার্ট,পাকা-আধা পাকা ও কাঁচা রাস্তার ক্ষতি সাধন হয়। পরিবেশবিদদের মতে, যএতএ পাহাড় কেটে অপরিকল্পিত ঘর-বাড়ি নির্মাণ,রাস্তাঘাট তৈরি ,জঙ্গল কেটে আগুনে পোড়ায়ে জুম চাষের ক্ষেএ প্রস্তুত করা,অবাধে বন উজাড় করে বৃক্ষ নিধন করা,বিস্ফোরণ ঘটিয়ে পাথর উত্তোলন করা এবং মাটি খনন করায় পার্বত্য এলাকার পরিবেশ মারাত্মকভাবে ভারসাম্যহীন হয়ে পড়ছে। ফলে প্রবল বর্ষণ ও মাটি ধসে উপড়ে পড়ছে বৃক্ষ ও বনরাজি। এসব কারণে পাহাড়ে ভ’মি ধসের মাএা দিন দিন বেড়েই চলেছে। প্রাপ্ততথ্যে আরো জানা যায়,শুধু রাঙামাটি জেলায় ৫০ হাজার মানুষ ভ’মি ধসের ঝুঁকিতে বসবাস করছে। কাপ্তাই হ্রদ সৃষ্টির পর সংস্কার ও খননের পরিবর্তে হ্রদ এলাকার রাঙামাটি শহরের বাস টার্মিনাল,ট্রাক টার্মিনাল,তবলছড়ি পুরাতন হাসপাতাল সংলগ্ন জানাযা মাঠসহ বিভিন্নস্থানে হ্রদের জলাশয় ভরাট হচ্ছে। শুধু তাই নয় হ্রদ সংলগ্ন পাহাড়ের ঢালুস্থান কেটে নির্মাণ করা হচ্ছে ঝুঁকিপূর্ণ বসত বাড়ি। শহরের আবাসিক-অনাবাসিক বর্জ্যসহ অনেক স্থানের পয়নিষ্কাশন সরাসরি এসে পড়ছে এই হ্রদে। এতে দিনের পর দিন এসব ময়লা ও বর্জ্য আবর্জনা হ্রদে ফেলার কারণে দূষিত হচ্ছে কাপ্তাই হ্রদের জল। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার নিমিত্তে পাহাড় কাটা ও হ্রদ ভরাট করে বসতি নির্মাণ রোধে অবিলম্বে কার্যকরি ব্যবস্থা নেয়ার জন্য স্থানীয় সুশীল সমাজ প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।




