রাজশাহী প্রতিনিধি : রাজশাহী জেলা বিএনপি’র কার্যালয়ে জরুরী এক সভায় বাঘা উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে একক প্রার্থী হিসেবে মনোনীত করা হয়েছে।

চেয়ারম্যান পদে বর্তমান ভাইস চেয়ারম্যান ও উপজেলা যুবদল সভাপতি আব্দুল্লাহ আল মামুন, পুরুষ ভাইস চেয়ারম্যান পদে উপজেলা যুবদল সাধারণ সম্পাদক মখলেসুর রহমান মকুল ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে বিএনপি মহিলা নেতা ফারহানা রুমিকে মনোনীত করা হয়েছে।
জানা যায়, ৭ ফেব্রুয়ারী বিকেল সাড়ে চারটায় রাজশাহীর জেলা বিএনপি কার্যালয়ে কেন্দ্রীয় বিএনপি’র বিশেষ দায়িত্বের সম্পাদক ও জেলা বিএনপি’র সভাপতি এ্যাডঃ নাদিম মোস্তফার সভাপতিত্বে জরুরী সভা অনুষ্ঠিত হয়। ওই সভায় বাঘা উপজেলা পরিষদের প্রার্থী মনোসীত করা হয় বলে জানা গেছে। ওই সভায় উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক কামরুল মনির. সাবেক এমপি আজিজুর রহমান, সহ-সভাপতি এ্যাডঃ মাইনুল আহসান পান্না, কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য সৈয়দ শাহিন খালেক, কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ও সংগঠনিক সম্পাদক মতিউর রহমান মন্টু, জেলা বিএনপি’র সহ-সভাপতি তোফাজ্জল হোসেন তপু, যুগ্ম-সম্পাদক মামুনুর রশিদ মামুন, আলাউদ্দিন, সৈয়দ মো. মহসিন, আনোয়ার হোসেন উজ্জল, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক রোকুনুজ্জামান আলম, জেলা ছাত্রদল সভাপতি শফিকুল আলম সমাপ্ত, সাধারণ সম্পাদক ওয়ালিজ্জামান প্রমুখ। উলেখ্য জলা বিএনপি’র প্যাডে জেলা বিএনপি’র সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের স্বাক্ষরিত এক পত্রে চেয়ারম্যান, পুরুষ ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে উলেখিত ব্যক্তিদের মানোনীত করা হয়েছে বলে জানা গেছে। এছাড়া উপজেলা বিএনপিসহ সকল নেতা-কর্মীদের উলেখিত ব্যক্তিদের সাথে আগামী ২৭ ফেব্র“য়ারীর নির্বাচনে কাজ করে বিজয়ী করার নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে। গত রোববার সন্ধ্যা সাড়ে সাতটায় মনোনীতর পত্র হাতে পেয়েছেন বলে চেয়ারম্যান প্রার্থী আব্দুলÍা আল মামুন জানান।
বাঘায় প্রার্থী মনোনয়নে অর্থ বাণিজ্যের অভিযোগে সাংসদের কুশপুত্তলিকা দাহ

রাজশাহীর বাঘায় উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে তৃণমূল নেতাদের মতামত উপেক্ষা করে অর্থের বিনিময়ে দলীয় প্রার্থী মনোনয়ন করার অভিযোগে জেলা বিএনপি’র সভাপতি সাবেক সাংসদ এ্যাডভোকেট নাদিম মোস্তফা ও সহ-সভাপতি সাবেক সাংসদ আজিজুর রহমানের কুশপুত্তলিকায় জুতা-সেন্ডেল মেরে দাহ করা হয়েছে।
উপজেলা নির্বাচনে বিএনপি’র দলীয় প্রার্থী ঘোষনার পর গতকাল সোমবার দুপুরে বিক্ষোভ মিছিল শেষে উপজেলা পরিষদের সামনে এই কুশপুত্তলিকা দাহ করে। শেষে এক পথ সভা অনুষ্ঠিত হয়। পথ সভায় বক্তব্য রাখেন নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থী জেলা বিএনপি’র সহ-সভাপতি অধ্যাপক জাহাঙ্গীর হোসেন। তিনি বলেন, উপজেলা নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে তাকে দলীয় মনোনয়ন দেওয়ার জন্য সভাপতি নাদিম মোস্তফার রাজশাহীর বাসায় ডেকে নিয়ে তার কাছে ৫ লক্ষ টাকা দাবি করেন, আজিজুর রহমান ও নাদিম মোস্তফা। টাকার বিনিময়ে দলীয় প্রার্থী মনোনয়ন সংগঠন বহির্ভূত বলে তিনি সেই প্রস্তাব প্রত্যাখান করেন। গত রোববার রাতে জেলা বিএনপি’র সভাপতি নাদিম মোস্তফা ও সাধারণ সম্পাদক এ্যাড. কামরুল মনির স্বাক্ষরিত এক পত্রে জানতে পারেন, চেয়ারম্যান পদে বর্তমান ভাইস চেয়ারম্যান ও উপজেলা যুবদলের সভাপতি আব্দুলাহ আল মামুন, পুরুষ ভাইস চেয়ারম্যান পদে যুবদলের সাধারন সম্পাদক মোখলেছুর রহমান মুকুল এবং মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে ফারহানা রুমিকে দলীয় প্রার্থী মনোনীত করা হয়েছে। তিনি আরো বলেন, ৫ ফেব্রুয়ারী উপজেলা দলীয় কার্যালয়ে স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নের্তৃবৃন্দের মতামত উপেক্ষা করে রাজশাহীতে বসে ৮ লক্ষ টাকার বিনিময়ে প্রার্থী মনোনীত করেছেন সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক ও আজিজুর রহমানসহ জেলার কতিপয় নেতারা। অপর চেয়ারম্যান প্রার্থী আব্দুল গনি মন্ডল বলেন, জেলার নেতারা দলীয় প্রার্থী মনোনয়ন নিয়ে অর্থ বানিজ্যে করেছেন বলেই স্থানীয় নেতাদের মতামতকে মূল্যায়ন না করে বিএনপি’র সিনিয়র নেতাদের বাদ দিয়ে যুবদল নেতাদের মনোনীত করেছেন।
ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থী পৌর যুবদলের সভাপতি সালে আহম্মেদ সালাম বলেন, দলীয় মনোনয়ন দেওয়ার জন্য তার কাছে ৩ লক্ষ টাকা দাবি করে আজিজুর রহমান তাকে বলেন, যে টাকা দিবে তাকেই দলীয় মনোনয়ন দেওয়া হবে। অর্থের কাছে তৃণমূলের সমর্থন হার মেনেছে বলে দাবি করেন তিনি। এ বিষয়ে কথা বলার জন্য নাদিম মোস্তফা ও আজিজুর রহমানের সাথে মুঠো ফোনে যোগাযোগ করা হলে, আজিজুর রহমানের ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায় এবং নাদিম মোস্তফা রিসিভ করেননি।




