ঈদযাত্রায় পদ্মা সেতুতে চালু হয়েছে দেশের প্রথম সমন্বিত ক্যাশলেস টোলিং সেবা ‘ডি-টোল’। তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের এসপায়ার টু ইনোভেট (এটুআই) প্রোগ্রাম এই সেবা পরিচালনা করছে। ডি-টোল চালু হওয়ায় যানবাহন চালকদের টোলপ্লাজায় থেমে নগদ অর্থ পরিশোধ করতে হচ্ছে না। বরং স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতিতে দ্রুত ও নির্বিঘ্নভাবে টোল পরিশোধের সুযোগ তৈরি হয়েছে। ফলে ঈদকেন্দ্রিক অতিরিক্ত যানবাহনের চাপ মোকাবিলা সহজতর হয়েছে।

২৫ মে সোমবার এটুআই এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে। এটুআই-এর হেড অব প্রোগ্রাম ম্যানেজমেন্ট আব্দুল্লাহ আল ফাহিম বলেন, এ পর্যন্ত ১০ হাজারের বেশি যানবাহন এই ব্যবস্থায় নিবন্ধিত হয়েছে এবং ৭ কোটি টাকারও বেশি টোল আদায় হয়েছে। ডি-টোল চালুর ফলে যাতায়াতে স্বস্তি বেড়েছে, যানজট কমেছে এবং বিপুল পরিমাণ কর্মঘণ্টা সাশ্রয় সম্ভব হয়েছে।
ডি-টোল মূলত রেডিও ফ্রিকোয়েন্সি আইডেনটিফিকেশন (আরএফআইডি) বা তারহীন প্রযুক্তিনির্ভর একটি উন্মুক্ত ও আন্তঃসংযুক্ত টোলিং প্ল্যাটফর্ম। এতে যানবাহনের বিআরটিএ (বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ) আরএফআইডি ট্যাগ ব্যবহার করেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে টোল আদায় করা সম্ভব হচ্ছে। ফলে আলাদা কোনো ডিভাইস বা অন-বোর্ড ইউনিট কিনতে হচ্ছে না, যা সাধারণ ব্যবহারকারীদের জন্য সেবাটিকে আরও সহজ, সাশ্রয়ী ও অন্তর্ভুক্তিমূলক করেছে।

এটুআই জানিয়েছে, পদ্মা সেতুতে পরীক্ষামূলকভাবে ধাপে ধাপে এই সেবা চালু করা হয়েছে এবং প্রতিদিন উল্লেখযোগ্য সংখ্যক যানবাহন ডি-টোল ব্যবহার করছে। ঈদ উপলক্ষে এর ব্যবহার আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। ব্যবহারকারীরা বিভিন্ন ব্যাংক, মোবাইল আর্থিক সেবা এবং ডিজিটাল ওয়ালেটের মাধ্যমে টোল পরিশোধ করতে পারছেন।
বর্তমানে ডি-টোলের পেমেন্ট পার্টনার হিসেবে রয়েছে বিকাশ, নগদ, ট্যাপ, উপায়, সিটি ব্যাংক, ঢাকা ব্যাংক, ইসলামী ব্যাংক, যমুনা ব্যাংক, মিডল্যান্ড ব্যাংক, মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক (এমটিবি), এনসিসি ব্যাংক ও প্রাইম ব্যাংক। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, পর্যায়ক্রমে আরও ব্যাংক ও ডিজিটাল ওয়ালেট এই প্ল্যাটফর্মের সঙ্গে যুক্ত হবে, যাতে ব্যবহারকারীরা একটি সমন্বিত জাতীয় টোলিং ব্যবস্থার আওতায় সহজে সেবা গ্রহণ করতে পারেন।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ডি-টোল প্ল্যাটফর্মের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো এটি ‘ওয়ান নেশন, ওয়ান টোলিং সিস্টেম’ ধারণা বাস্তবায়নের পথে এগিয়ে যাচ্ছে। দেশের টোল ব্যবস্থাকে সমন্বিত, ক্যাশলেস ও প্রযুক্তিনির্ভর করতে একটি অভিন্ন জাতীয় টোলিং প্ল্যাটফর্ম গড়ে তোলার কাজ চলছে। এর মাধ্যমে ভবিষ্যতে দেশের বিভিন্ন সেতু, এক্সপ্রেসওয়ে ও টোল সড়কে একই আরএফআইডি এবং একই ডিজিটাল ওয়ালেট ব্যবহার করে টোল পরিশোধ করা সম্ভব হবে। পদ্মা সেতুতে সফল বাস্তবায়নের পর পর্যায়ক্রমে যমুনা সেতুসহ দেশের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সেতু ও এক্সপ্রেসওয়েতে ডি-টোল সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে। এ লক্ষ্যে বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ, সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর এবং অন্যান্য টোল অপারেটরদের সমন্বয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ জাতীয় আন্তঃসংযুক্ত টোলিং ইকোসিস্টেম গড়ে তোলার কার্যক্রম চলছে।




