শেরপুরের ঝিনাইগাতীতে নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণার অনুষ্ঠানে চেয়ারে বসাকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও জামায়াত সমর্থকদের সাথে সংঘর্ষের ঘটনায় এবার জামায়াত নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে পৃথক দুটি মামলা দায়ের করেছে বিএনপি। ১৭ ফেব্রুয়ারি মঙ্গলবার ঝিনাইগাতী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক মো. আব্দুল মান্নান মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, গত ২৮ জানুয়ারি উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে ঝিনাইগাতী উপজেলা মিনি স্টেডিয়াম মাঠে শেরপুর-৩ (শ্রীবরদী-ঝিনাইগাতী) আসনের নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা অনুষ্ঠানে জামায়াত নেতা-কর্মীদের হামলায় বিএনপির শতাধিক নেতাকর্মী আহত হয়। ওই ঘটনায় ঝিনাইগাতী উপজেলার শালচুড়া গ্রামের আমজাদ ও ভারুয়া গ্রামের হাসিবুল হাসান শান্ত বাদী হয়ে গত ১০ ফেব্রুয়ারি ঝিনাইগাতী সিআর আমলী আদালতে পৃথক দুটি মামলা দায়ের করেছেন। দুটি মামলাতেই শ্রীবরদী উপজেলার পশ্চিম তাতীহাটি এলাকার মৃত বাচ্চু মিয়ার ছেলে আজহারুল ইসলাম মিস্টারকে (৫০) প্রধান আসামি করা হয়। দুটি মামলায় মোট ২৪৪ জনকে স্বনামে এবং ৮০০ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে।
এর আগে একই ঘটনায় শ্রীবরদী উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি রেজাউল করিম হত্যা মামলায় নিহতের স্ত্রী মারজিয়া বাদী হয়ে সাবেক সংসদ সদস্য মাহমুদুল হক রুবেলকে প্রধান আসামি করে বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের শ্রীবরদী ও ঝিনাইগাতী উপজেলার ২৩১ জন নেতাকর্মীকে স্বনামে এবং ৪০০/৫০০ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়। ইতোমধ্যে বিএনপির প্রার্থী ও সাবেক এমপি মাহমুদুল হক রুবেলসহ অধিকাংশ নেতাকর্মী উচ্চ আদালত থেকে জামিনপ্রাপ্ত হয়েছেন।

এ বিষয়ে শেরপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) মো. মিজানুর রহমান বলেন, ১৬ ফেব্রুয়ারি আদালত থেকে ঝিনাইগাতী থানাকে মামলা দুটি নথিভুক্ত করার নির্দেশ দিয়েছেন। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী পুলিশ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিচ্ছে।
উল্লেখ্য, গত ৪ ফেব্রুয়ারি শেরপুর-৩ আসনের জামায়াতের দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী নুরুজ্জামান বাদল মারা যাওয়ায় এ আসনে নির্বাচন স্থগিত রয়েছে।




