শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলার মরিচপুরান গ্রামের কৃষক মিজানুর রহমান (৪৮)। গত আমন মৌসুমে বন্যায় তার ২ একর জমির প্রায় সব ধান নষ্ট হয়ে যায়। তবে বোরো মৌসুমে ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়ার আশায় ধার দেনা করে আবাদ করেছিলেন তিনি। শিলা বৃষ্টি আর মাজরা পোকার আক্রমণের পরও বেশ ভাল ফলন হয়েছে। কিন্তু বাজারে ধান বিক্রি করতে এসে ধানের দাম কম হওয়ার অভিযোগ করে হতাশা প্রকাশ করেন তিনি। ১৪ মে
বুধবার সকালে শহরের উত্তর বাজার এলাকার ধান মহলে কথা হয় তার সাথে। তিনি বলেন, গত আমন মৌসুমে বন্যায় সব ধান খাইয়া গেছে। আশায় বুক বাইন্ধা ছিলাম এই বোরো মৌসুমে আমনের ক্ষতি পুষাইয়া নিমু। ফলনও ভালোই হইছে। কিন্তু বাজারে ধানের যে দাম এতে কইরা তো ক্ষতি পোষানো দূরের কথা খরচের টাকাও তুলতে পারমু না। ওই হতাশা শুধু মিজানুরের নয়। গত আমন মৌসুমে উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে তিন দফা বন্যায় নষ্ট হয়েছে খেতের ধান নষ্ট হওয়ার পর বোরো মৌসুমে ধানের দাম কম হওয়ায় ক্ষতির আশংকা করছেন উপজেলার অধিকাংশ কৃষক।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, চলতি বোরো মৌসুমে উপজেলায় এবার ২২ হাজার ৯৯২ হেক্টর জমিতে ধান চাষের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল। তবে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ১৪১ হেক্টর বেশি অর্থাৎ ২৩ হাজার ১৩৩ হেক্টর জমিতে বিভিন্ন হাইব্রিড ও উফশী জাতের বোরো ধান চাষ করা হয়েছে। কয়েক দফায় শিলা বৃষ্টি ও মাজরা পোজার আক্রমণের পরও ফলন ভালো হয়েছে।
এদিকে গত আমন মৌসুমে পাহাড়ি ঢলে সৃষ্ট বন্যায় উপজেলায় কৃষকের ২৩ হাজার ২৫৩ হেক্টর জমির মধ্যে ১৩ হাজার ৩০০ হেক্টর ফসল পানিতে ডুবে নষ্ট হয়ে যায়। আর ৩৫০ হেক্টর জমির ফসল আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এতে উপজেলার কয়েক হাজার কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হন। বন্যার পর এসব জমিতে বোরোর চারা লাগানো হয় গত ডিসেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি মাস পর্যন্ত।

গত মঙ্গলবার ও বুধবার শহরের উত্তর বাজার ও নালিতাবাড়ী বাজার এলাকার ধানের বাজার ঘুরে দেখা যায়, বাজারে উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে ধান বিক্রি করতে এসেছেন কৃষকরা। এতে জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ব্যবসায়ীরাও এসেছেন ধান কিনতে। কৃষকরা এক মুঠ ধান নিয়ে ব্যবসায়ীদের আড়তে ঘুরছেন এবং ধানের আদ্রতা ও ধরণ অনুযায়ী দামা- দামি হচ্ছে। এতে ধরণ অনুযায়ী মণ প্রতি ৮৭০ টাকা থেকে ৯৪০ টাকায় বেচাকেনা হচ্ছে।
উপজেলার কোন্নগর গ্রামের কৃষক আজাদ মিয়া (৫৮) বলেন, বোরো মৌসুমে কৃষকেরা ধারদেনা করে আবাদ করেছেন। ফসল ঘরে তুইলা সেই ধারদেনা পরিশোধ করার আশা ছিলো। একর প্রতি ৫৫-৬৫ মণ ধান ফলনও হইছে। কিন্তু ধানের যে দাম তাতে কইরা খরচ তুলতেই হিমশিম খাইয়া যামু। পার্শ্ববর্তী নকলা উপজেলা থেকে ধান কিনতে আসা ব্যবসায়ী আলমগীর হোসেন বলেন, জেলার মধ্যে এটি ধানের বড় মোকাম। এ বাজারে প্রচুর ধান ওঠে। আমরা ধানের ধরণ ও আদ্রতা অনুযায়ী মণপ্রতি ৮৭০ টাকা থেকে ৯৪০ টাকা পর্যন্ত ধান কিনতেছি।
এ ব্যাপারে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. আবদুল ওয়াদুদ বলেন, এখন হালকা ভেজা ধান কৃষকরা বিক্রির জন্য বাজারে আনছেন। বাজারে ধানের যোগান বাড়ায় দাম কিছুটা কমে এসেছে। আশা করছি সপ্তাহের মধ্যে ধান কাটা শেষ হলে ধানের দাম মণ প্রতি আরোও ৩০-৪০ টাকা বাড়বে। এতে কৃষকরাও ক্ষতি পুষিয়ে নিতে পারবে।




